মেইন ম্যেনু

পুত্রবধু লাঞ্চিত

সালীশী বৈঠকে দম্পতিকে বেত্রাঘাত

রাজশাহী : রাজশাহীর নওগাঁর মান্দায় পুত্রবধুকে লাঞ্চিত করার ‘দায়ে’ সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে আতাবর রহমান (৫০) ও জরিনা বিবি (৪০) নামের এক দম্পতিকে ৫০টি বেত্রাঘাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া দম্পতির কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের মঞ্জিলতলা বাজারের পাশে এনায়েতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বেত্রাঘাতের কারণে আহত আতাবর রহমানকে গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, গত ২৪ মে আতাবর রহমানের ছেলে জামাল হোসেন ও পুত্রবধূ সুরাইয়া বিবির মধ্যে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। আতাবর রহমান উভয়কে থামানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে তিনি পুত্রবধূকে চড়-থাপ্পড় দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মাতবররা বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে কাসেম মাস্টারের বাড়ির খলিয়ানে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে।

বৈঠকে মাতবর আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে স্থানীয় মাতবর সুজন আলী, আব্দুল কাইয়ুম, আজিজার রহমান, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, মোস্তাক হোসেন, ওসমান গণি, আজাহার আলী বাগসহ দুই শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

এসময় সালিশের সভাপতি আলতাফ হোসেনের হুকুমে ওই দম্পতিকে সেখানে ধরে আনা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে কমিশন গঠন করে রায় ঘোষণা করেন সভাপতি আলতাফ হোসেন। রায়ে ওই দম্পতিকে ৫০টি বেত্রাঘাতসহ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে গ্রাম পুলিশ মমতাজ হোসেন তাদের বেত্রাঘাত করেন। এত আতাবর রহমানের বাম হাতের কব্জির নিচের হাড় ফেটে গিয়ে রক্তপাত হয়। আহত হন আতাবরের স্ত্রী জরিনা বিবিও। বৈঠকে স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দিন সরদার, নারী সদস্য আলেয়া বিবি উপস্থিত ছিলেন।

আহত আতাবর রহমান অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই মাতবররা চৌকিদার দিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করেছে। চেয়ারম্যানের হাত-পায়ে ধরেও নির্যাতনের হাত থেকে তারা রক্ষা পান নি। তাদের বাঁচানোর কথা বলে সালিশের মাতবর ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বর্তমানে মাতবরদের হুমকির মুখে ওই পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন বলে তিনি জানান।

মান্দা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশিক আলভী জানান, শুক্রবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের সময় আতাবর রহমানকে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাম হাতের কব্জির নিচের হাড় ফেটে গেছে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সালিশ বৈঠকের সভাপতি আলতাফ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বলেন, চেয়ারম্যানের পরামর্শে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দিন সরদার জরিমানাসহ বেত্রাঘাত করার কোনো ঘটনা ঘটে নি উল্লেখ করে বলেন, পুত্রবধুর চিকিৎসার জন্য ২ হাজার ও চকিদারি খরচের জন্য ২ হাজার মোট ৪ হাজার টাকা ওই দম্পত্তির নিকট থেকে নেয়া হয়েছে। পুত্রবধুকে লাঞ্ছিত করর কারণে সালিশে ২/৪টা চড়-থাপ্পর মেরে তাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে দফাদার মমতাজ হোসেন বলেন, আমরা ৪ জন মিলে চকিদারি খরচের মাত্র ১ হাজার টাকা পেয়েছি। তিনি বলেন আমি হুকুমের গোলাম চেয়ারম্যান যে ভাবে নির্দেশ দিয়েছেন আমি সেইভাবে কাজ করেছি।

মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো পাওয়া যায় নি। তার পরেও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।






মন্তব্য চালু নেই