মেইন ম্যেনু

৬ কোটি ৭০লাখ টাকার বস্তা ও চট অবিক্রিত

শ্রমিকদের পাওনা সোয়া ২ কোটি টাকা

রাজশাহী : রাজশাহী জুট মিলে বস্তা ও চট অবিক্রিত থাকায় কয়েক মাস ধরে বেতন পান নি মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। পাওনা টাকা পান নি ছয় বছর আগে অবসরে যাওয়া শ্রমিকরাও। পাট অবিক্রিত থাকায় আর্থিকভাবে প্রতি বছর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শ্রমিক-কর্মচারীরা বেতন না পাওয়ায় তাদের ভেতর বিরাজ করছে অসন্তোষ।

জুট মিল সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী জুট মিলে ২ হাজার ২০০ জন শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে শ্রমিক রয়েছেন ২ হাজার জন। কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ২০০ জন। গত বছর উৎপাদিত ৬ কোটি ৭০লাখ টাকার বস্তা ও চট অবিক্রিত হয়ে মিলের গুদামে পড়ে থাকায় এবং ফান্ডে টাকা না থাকায় এসব শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন পান নি।

শ্রমিকদের এক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রয়েছে দুই মাসের। এ হিসাবে শ্রমিকদের ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের ৬০ লাখ টাকা বেতন বকেয়া রয়েছে। অর্থাৎ মোট বেতন বকেয়া রয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ টাকার। বেতন না পাওয়ায় মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তারা পরিবারের সদস্যরা কষ্টে জীবনযাপন করছেন। বিশেষ করে শ্রমিকদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। এছাড়া গত ২০০৯ সালে অবসরে যাওয়া শ্রমিকরাও তাদের পাওনা টাকা পান নি।

উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এখান থেকে খাদ্য অধিদফতর বস্তা গুলো কিনতো। তাদের দীর্ঘ দিন ধরে অর্ডার না থাকা জমা পরে গেছে ১০লাখ পিস বস্তা। কারখানায় একটা বস্তা তৈরি করতে খরচ হয় ৮০ টাকা। কিন্তু সেই বস্তা বাইরে বিক্রি করতে হয় ৬৭ টাকায়। ফলে সরকারি বিভিন্ন কাজে বস্তা সরবরাহের পর অবিক্রিত থেকে যায় বিপুলসংখ্যক উৎপাদিত বস্তা ও চট। এছাড়া বিশ্ববাজারে পাট উৎপাদিত পণ্যের ভালো চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সময়মত পাট কারখানায় না পৌঁছানোর কারণে পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিশ্ববাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না পাটজাত দ্রব্য। আর এই কারণে উৎপাদিত পণ্য অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

রাজশাহী জুট মিলের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এমদাদুল হক জানান, মিলের শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তার বেতন বকেয়া রয়েছে। বেতন দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। উৎপাদিত পণ্য অবিক্রিত থাকার জন্য এমনটি ঘটছে। শ্রমিকরা বেতন ভাতাসহ ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। কিন্তু কোনো লাভ হয় নি। তিনি আরো জানান, মজুরি কমিশন অনুযায়ী বকেয়া মজুরি পরিশোধের কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ টালবাহনা করছে।

রাজশাহী জুট মিলের উপব্যবস্থাপক প্রশাসন জাফর বায়েজীদ বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধ করা হয় নি। খরচের চেয়ে কমদামে বিক্রি করায় প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের এ বিষয়ে আরো মনোযোগ দিলে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই