মেইন ম্যেনু

বাতির আলোয় এলো সোনালী সাফল্য

রাজশাহী : ফাতেমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। দিনমজুর বাবার অভাবের সংসার, সেখানে বিদ্যুতের আশাও সে করে নি। পড়াশোনার প্রবল আগ্রহ ছিল, বাবাও উৎসাহ জুগিয়েছেন সবসময়। হারিকেন ও বাতির আলোতেই তাই পড়ালেখার কাজটা এগিয়ে নিয়ে গেছেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির এই মেয়েটি। গোল্ডেন জিপিএর সোনালী সাফল্য পেয়ে সবাইকে চমকেও দিয়েছেন।

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় তানোর উপজেলার আকচা উচ্চবিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন আকচা ফকির পাড়া গ্রামের দিনমজুর সাইফুল ইসলাম ও গৃহিণী তারামন বেগমের মেয়ে ফাতেমা।

তার বাবা সাইফুল ইসলাম মেয়ের রেজাল্ট শুনে আপ্লুত হয়ে বলেন, আমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় ফাতেমা রাতে গরমের মধ্যেও খুব কষ্ট করে পড়ত। বাতির আলোতে রাত জেগে ওর পড়ালেখা করা দেখে ওকে উৃৎসাহ দিতাম। তিনি বলেন, ফাতেমার ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের কারণেই আজ সবার মুখ উজ্জল হয়েছে। তার দিনমজুর বাবা ও গৃহিণী মায়ের সঙ্গে শিক্ষক ও এলাকাবাসীও গর্বিত হয়েছে।

তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আরো বলেন, আমার মেয়ে এসএসসি পাশ করলো কিন্তু কলেজে ভর্তি করাতে বা পড়ালেখার খরচ চালাতে পারবো কিনা জানি না। এ ব্যাপারে কথা হয় ফাতেমার মা তারামন বিবি বলেন, খেয়ে না খেয়ে ফাতেমা পড়া লেখা করেছে। তার কঠোর প্ররিশ্রম আজ তাকে ভালো ফলাফল উপহার দিয়েছে। তিনি সকলের কাছে ফাতেমার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

ফাতেমার ভবিষ্যৎ ইচ্ছা সম্পর্কে জানতে চাইলে সে জানায়, আমার বাবাকে একবার মিথ্যা মামলায় কারাভোগ করতে হয়েছিল। সেদিন থেকেই মনের মাঝে একটা গোপন ইচ্ছা ইচ্ছা লুকিয়ে রেখে পড়ালেখা করেছি, আমি উচ্চশিক্ষা নিয়ে আইনজীবী হবো। জানিনা আমি হতদরিদ্র পরিবার থেকে আইনজীবী হিসেবে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো কী না!

আকচা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন বলেন, ফাতেমা খুবই মেধাবী ছাত্রী। সে নিয়মিত ক্লাশ করার পাশাপাশি কঠোর প্ররিশ্রম করায় তার ফলাফল ভালো হয়েছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্বিত।






মন্তব্য চালু নেই