মেইন ম্যেনু

হোক না পাটখড়ির, শ্রদ্ধাই বড়

সিমেন্ট বালুর গড়া বিশাল অট্টলিকার মতো শহীদ মিনার নেই। নেই ঝলমলে আলোকসজ্জা। তাতে কি হয়েছে। শ্রদ্ধার জায়গাটা বুকে। আর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা তো মিশে আছে রক্তে। তাইতো তাদের আয়োজন চলে সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থেকে। পরের দিন মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি)।

ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছে তাদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে। কিন্তু কিভাবে? সেখানে নেই কোনো শহীদ মিনার। তাই শিশুরা পাটখড়ি দিয়েই তৈরি করলো তাদের প্রাণের শহীদ মিনার।

মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে পাড়ার শিশুরা জড়ো হয় সেখানে। যে যেমন পারে তেমন ফুল নিয়ে এসে প্রাণের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাজশাহী পবা উপজেলার বিরস্তইল গ্রামে এমনই এক শহীদ মিনার তৈরি করে শিশুরা।

আট বছরের শিশু তৌফিক। মঙ্গলবার সকালে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে ছিলো তাদের বানানো শহীদ মিনার প্রঙ্গনে। হাতে জবা ফুল। বাড়ির পাশ থেকে ছিঁড়ে নিয়ে এসেছে। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে তাই।

পাটখড়ি দিয়ে নিজেদের তৈরি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছে দুই শিশু
শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সবাই প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। অনেক ইচ্ছে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। কিন্তু আশেপাশে না থাকায় তারা যেতে পারে না। সে কারণে তারা নিজেরাই বইয়ের পাতায় ছবি দেখে পাটখাড়ি দিয়ে শহীদ মিনারটি বানিয়েছে।

রাস্তার পাশে একটি বাড়ির বারান্দায় নির্মাণ করা শহীদ মিনারটি নিয়ে যেনো শিশুদের আগ্রহের শেষ ছিলো না। শহীদ বেদীটি ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিশু রাব্বি, মাহাদী, মারুফ, তামিম, রোহান, সোহাগ, সোহান, রিংকি, বর্ষা, আলোসহ অনেকেই।

প্রতিবেশী সজিব জানান, টেলিভিশনে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো দৃশ্য দেখে শিশুরা উদ্বুদ্ধ হয়েছে। সোমাবর (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে তারা নির্মাণ শুরু করে। পাটখড়িতে কাগজ মুড়িয়ে তারা শহীদ মিনারটি তৈরি করে। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শিশুরা আশেপাশে যাদের গাছে ফুল ছিলো সেগুলো ছিঁড়ে এনে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

শিশুদের এমন আগ্রহে অভিভাবকদের অনেকেই খুশি।






মন্তব্য চালু নেই