মেইন ম্যেনু

সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পুত্রের পিতা জুতা মেরামতকারী

কলারোয়ায় প্রতিভাবান পুত্রের গর্বিত পিতাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান

‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তার উপরে নাই’- কথাটি আবারো অক্ষরে অক্ষরে প্রমানিত হলো। বংশ কিংবা পেশা কোনটা-ই মূখ্য নয়, মূখ্য হলো ‘মানুষের মতো’ মানুষ হওয়া। আর সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে ‘সত্যিকারের বিবেকবান মানুষ’ হিসেবে গড়ে ওটাই আসল কথা।

তেমনি উদাহরণ সাতক্ষীরার কলারোয়ায় এস.এস.সি’তে জিপিএ-৫ পাওয়া প্রদীপ কুমার দাশ ও তার পিতা অর্জুন দাশ।

ছেড়া জুতা সেলাই ও মেরামত করার পেশায় নিয়োজিত প্রদীপের পিতা অর্জুন দাশ। কলারোয়া জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুল মোড়ে অন্যের দোকানের সামনে সিড়িতে বসে জুতা সেলাই বা মেরামত করে আসছেন বহু বছর ধরে। জুতা সেলাই করে নিজের অভাবের সংসার ‘কোনমতে’ চালালেও নিজের ছেলে প্রদীপকে পড়াশুনা করিয়েছেন সঠিক ভাবেই। পিতার আদর্শ ও অনুপ্রেরণার দামও সঠিকভাবে দিলো প্রদীপ দাশ।

প্রদীপ ২০১৬ সালের এস.এস.সি. পরীক্ষায় কলারোয়া জিকেএমকে পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। শুধু তাই নয়, সে কলারোয়া উপজেলা থেকে সর্বোচ্চ নম্বর (প্রায় ৯১% নম্বর) পেয়েছিলো। বর্তমানে ছেলেটি খুলনা পলিটেকনিক কলেজে অধ্যায়নরত।

সামান্য আয়ের পিতার পক্ষে ছেলের পড়াশুনা অব্যাহত রাখা যেন কঠিন হয়ে পড়ছিল। এমন-ই মুহুর্তে কলারোয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হামিদ এগিয়ে এলেন অন্যভাবে। তিনি গত ২২মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি লেখা পোস্ট দেন গরীব ওই পিতা-পুত্রকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য। সেই লেখার ফলশ্রুতিতে নগদ অর্থ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক শেখ ও কলারোয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হামিদ।

মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কলারোয়া থানায় সেই অর্থ সহায়তা তুলে দেয়া হয় প্রতিভাবান পুত্রের গর্বিত পিতা অর্জুন দাশের হাতে।

অর্জুন দাশ উপজেলার জালালাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হামিদ জানান, অর্জুন কুমার দাশের বড় ছেলে এস.এস.সি’তে উপজেলার সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রদীপ কুমার দাশ। অর্জুন জুতা সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আয় অতি সামান্য। ছেলে পড়াশোনা অব্যাহত রাখা তার বাবার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে গত ২২ মার্চ, ২০১৭ তাকে কিছু সহায়তা করার জন্য ফেসবুকে একটি লেখা দিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে সমাজের বিত্তবান বেশ ক’জন ব্যক্তি সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করেছেন। ২৮মার্চ মঙ্গলবার কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছেলেটির বাবার হাতে কিছু অর্থ সাহায্য হিসেবে দিলেন।






মন্তব্য চালু নেই