মেইন ম্যেনু

সকালে অমর একুশে পালন, দুপুরে আত্মহত্যা!

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের জন্য স্কুলে যায় দশম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া আক্তার। প্রভাতফেরি ও অনুষ্ঠান সেরে বাসায় আসার পর দুপুরে নিজ বাসায় উদ্ধার করা হয় তার ঝুলন্ত লাশ।

মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ইনাতনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তানিয়া বড়ঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ত।

ওই ঘটনার পর একই গ্রামের জিয়াউর রহমান (১৭) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

তানিয়ার স্বজনদের অভিযোগ, আটক জিয়াউর রহমান তানিয়াকে উত্ত্যক্ত করত, এ কারণে তানিয়া ‘আত্মহত্যা’ করেছে। আটক জিয়াউর গৃহস্থালির কাজ করে।

তবে আটক জিয়াউর রহমান ওই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তাদের দুজনের মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। মঙ্গলবার তানিয়ার সঙ্গে দেখা করার সময় একদল যুবক এসে তাকে মারধর করে তানিয়াকে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় যুবকরা।

তানিয়ার ভাই আলামিন বলেন, ‘আমার বোনকে একটি ছেলে উত্ত্যক্ত করত শুনেছি। মঙ্গলবারও তাকে পথে উত্ত্যক্ত করে ওই ছেলে। পরে এলাকার লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।’

ভাষাশহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের জন্য মঙ্গলবার স্কুলে যায় তানিয়া। ফেরার পথে জিয়াউরের সঙ্গে দেখা হয় বলে তানিয়ার স্বজনরা দাবি করেন। বাসায় আসার কিছুক্ষণ পর তানিয়াকে ঝুলন্ত ও মৃত অবস্থায় পান তার স্বজনরা।

মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জাহানারা বেগম বলেন, ‘শুনেছি নিহত মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ছেলেটির। আজ মঙ্গলবার উভয়ে দেখা করে। একপর্যায়ে মেয়েটিকে ধরে বাড়ি নিয়ে যায়। ছেলেটিকে পুলিশের হাতে দিয়ে দেয়। এরপরই মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে আত্মহত্যা করে।’

তবে অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান বলে, ‘১৫ দিন আগে রং নাম্বারে মিস কলের মাধ্যমে আমাদের জানাশোনা হয়। এর পর থেকে তানিয়ার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ শুরু হয়। আজ মঙ্গলবার দুজন দেখা করতে গেলে তিন থেকে চারজন যুবক আমাদের দুজনকেই ধরে মারধর করে। একপর্যায়ে তানিয়াকে বাড়িতে নিয়ে যায় এবং আমাকে পুলিশের কাছে দিয়ে দেয়।’

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনার পর সদর উপজেলার কলাইয়া গ্রামের এক তরুণকে আটক করে এলাকাবাসী পুলিশে দিয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছে। এই বিষয়ে সত্যতা জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত শেষে মূল ঘটনা জানা যাবে।’






মন্তব্য চালু নেই