তুরস্কে গ্রেপ্তার ৬ হাজার

অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে তুরস্কে ৬ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারাভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তুরস্কের বিচারমন্ত্রী বাকির বোজদাগের উদ্ধৃতি দিয়ে সম্প্রচার মাধ্যম এনটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। বোজদাগ আরো জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিচারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শুক্রবার শুরু হওয়া অভ্যুত্থান চেষ্টা শনিবার সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুরু হয় ধরপাকড়। শনিবার রাতে তুর্কি সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৩ হাজার জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। রোববার এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার। গ্রেপ্তারকৃতদের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িতদের ‘চরম মূল্য দিতে হবে’ বলে শনিবার ঘোষণা দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট সিরেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এরপর শুরু হওয়া গ্রেপ্তার অভিযান এখনো চলছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের যেসব কর্মকর্তা অভ্যুত্থান চেষ্টার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন, তাদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। শনিবার ২ হাজার ৭০০ বিচারককে বরখাস্ত করা হয়।

এ অভ্যুত্থান চেষ্টার ঘটনায় মোট ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী এবং এর প্রতিরোধকারীরা রয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন, মৃত্যুদন্ডের বৈধতা দেওয়ার প্রস্তাব আনা হবে পার্লামেন্টে।

এদিকে এ অভ্যুত্থান চেষ্টার হোতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত তুর্কি ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে অভিযুক্ত করেছেন এরদোয়ান। অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন গুলেন।

শনিবার অভ্যুত্থান ঘোষণা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জনগণকে রাস্তায় নামতে আহ্বান জানান। তার ডাকে সাড়া দিয়ে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলে এরদোয়ানপন্থি তুর্কিরা। মূলত জনতার প্রতিরোধের মুখে পরাস্ত হয় সামরিক বাহিনীর বিদ্রোহী সদস্যরা।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলুতে বলা হয়েছে, বোরবার যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদধারী সামরিক কর্মকর্তা হলেন- ডেনিজলি গ্যারিসন এবং ১১তম কমান্ডো বিগ্রেডের কমান্ডার মেজর জেনারেল ওজহান ওজবাকির।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অন্যান্যরা হলেন- থার্ড আর্মির কমান্ডার জেনারেল এরদাল ওজতুর্ক, সেকেন্ড আর্মির কমান্ডার জেনারেল আদেম হুদুতি এবং বিমান বাহিনীর প্রাক্তন প্রধান আকিন ওজতুর্ক।

তথ্যসূত্র : আলজাজিরা অনলাইন।



মন্তব্য চালু নেই