আংকেল আমাকে বাঁচান – অপহৃত ১০ বছরের শিশুর আকুতি

‘আংকেল আমাকে বাঁচান। আমাকে চোরেরা নিয়ে এসেছে’-এই আকুতি ১০ বছর বয়সী শিশু জয়ের। যাকে ক্রিকেট ব্যাট কিনে দেয়ার কথা বলে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। ঢাকা থেকে ৪ দিন আগে অপহরণ করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ফেনীতে। সেখানে স্থানীয় লোকদের কাছে এভাবেই তার বাঁচার আকুতি তুলে ধরে শিশুটি।

সোমবার রাত ২টার দিকে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনি নদীর পাড়ে ঘটনা ঘটে। পরে স্থানয়রা রাসেল নামে এক অপহরণকারীকে আটক করে পুলিশে দেয় এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে।

অপহরণের শিকার শিশু পারভেজ আহম্মদ জয় ঢাকার শুক্রাবাদ নিউ মডেল স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র। অপহরণকারীরা ২ মে বিকেলে সোবহানবাগ স্টাফ কোয়াটার মাঠ থেকে ক্রিকেট খেলার সময় ব্যাট কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার রাত ২টার দিকে রাসেল নামে এক অপহরণকারী ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনিয়া নদীর পাড়ে জয়কে নিয়ে অপেক্ষা করছিল। এ সময় নদীতে মাছ ধরতে আসা স্থানীয় কামাল উদ্দিন, সোহেল ও সেলিমকে দেখে জয় বলে ওঠে ‘আংকেল আমাকে বাঁচান। আমাকে চোরেরা নিয়ে এসেছে।’ শিশুটির এমন আকুতি শুনে তাকে উদ্ধার করে ও অপহরণকারী মো. রাসেলকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে দাগনূঞা থানায় নিয়ে আসে।

অপহরণকারী রাসেল শেরপুর জেলার জিনাগাতি উপজেলার ঝিনাইদহ গ্রামের আতিবের ছেলে।

এদিকে, জয়ের বাবা ঢাকার শেরে বাংলা নগরের শুক্রাবাদে বাসিন্দা গাড়ি ব্যবসায়ী ও গাড়ি চালক মো. বাবুল মিয়া জয়কে অপহরণের ব্যাপারে ঢাকার শেরে বাংলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজহারে তিনি জানান, জয়ের অপহরণের পরের দিন জয়ের মায়ের মোবাইলে অপহরণকারীরা ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন এবং মুক্তিপণের টাকা কুমিল্লার ক্যান্টেনমেন্ট এলাকায় নিয়ে আসতে বলেন। পুলিশের পরামর্শে তারা অপহরণকারীদের সঙ্গে ৭লাখ টাকার একটি আপোস নামা করেন এবং কথা মতো ফেনীর দাগনভূঞায় টাকা নিয়ে আসেন। পরে তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জয়কে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে দেয়।

এ ব্যাপারে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল ফয়সাল অপহৃত শিশু উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।



মন্তব্য চালু নেই