মেইন ম্যেনু

৪ হাত ৪ পায়ের উদ্ভট শিশু

উগান্ডার পশ্চিমাঞ্চলের ছোট এক গ্রামে ২৭ মে মার্গারেট আইনো তার শাশুড়ির সহায়তায় নিজ বাড়িতেই এক শিশু পুত্রের জন্ম  দেন। শিশু জন্মের পর স্বাভাবিকভাবেই বাড়িতে আনন্দের বন্যা বয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই শিশুটির জন্মের পর তার মা ও দাদীর মুখে দেখা গেলো শঙ্কার ছায়া। কারণ, শিশুটি আর দশটি সাধারন শিশুর মতো হয়নি। শিশুটির চারটি হাত ও চারটি পা রয়েছে।
২৮ বছর বয়সী মার্গারেট শিশুটিকে নিয়ে ছুটে যান পাশ্ববর্তী জেলা হাসপাতালে। সেখান থেকে দ্রুত শিশুটিকে পাঠানো হয় উগান্ডার রাজধানী ক্যাম্পালার এক হাসপাতালে। সেখানে কয়েক ডজন চিকিৎসক সদ্য জন্ম নেয়া শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানান, ‘এই শিশুটির সঙ্গে আরেকটি শিশুর ভ্রুণ গর্ভে এসেছিলো। তবে ওই ভ্রুণটি সম্পূর্ণ ছিলো না। কারণ জন্মগ্রহণ করা শিশুটির চারটি হাত এবং চারটি পা থাকলেও মাথা এবং হৃদপিন্ড একটি।’
শিশুটির নাম দেয়া হয় পল। উগান্ডার চিকিৎসকেরা পলের উপর একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। পলের শরীরে একাধিক অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। যেমন মানবদেহের হৃদপিন্ড থাকে বাম দিকে , কিন্তু পলের ক্ষেত্রে এটি ডান দিকে। অপরদিকে পলের লিভারের অবস্থান ডান দিকে নয় বরং বাম দিকে।
প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তিনমাসের জন্যে পলকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। তিন মাস পর পল এবং যমজ অপরিপক্ক ওই শিশুটিকে পৃথক করার কাজ শুরু হয়।
১৮ আগস্ট তিনজন সার্জন, তিনজন অ্যানেসথিওলজিস্ট এবং দুজনের নার্সের সহায়তা সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটিকে পৃথক করা হয়।
সার্জন চিকিৎসক অস্ত্রোপচার শেষে বলেন, ‘শিশুটিকে সাধারন অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। এরপর তার শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা যমজ শিশুটির হাত এবং পা পৃথক করা হয়। যমজ অপর শিশুটির কোনো হৃদপিন্ড এবং মাথা ছিলো না।’
অস্ত্রোপচারের তিন সপ্তাহ পরে শিশুটি সুস্থ আছে এবং মায়ের দুধ পান করছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। এমনকি চিকিৎসকেরা শিশুটির বাবা-মাকে ভাগ্যবান বলেও উল্লেখ করেন। তবে শিশুটি এখনো হাসপাতলে রয়েছেন এবং আরও দুই সপ্তাহ পলকে হাসপাতালে থাকবে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
এধরনের প্যারাসিটসিক শিশু জন্মের ঘটনা খুবই বিরল। বিশ্বের ৫০ হাজার শিশু জন্মের বিপরীতে মাত্র একটি শিশুর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে। গর্ভধারণের পর দুটি সন্তানের মধ্যে নির্দিষ্ট সময় পর এক শিশুর বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেলে এমনটি ঘটে। এসব ক্ষেত্রে বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাওয়া শিশুটি অপর শিশুটির সঙ্গে মিশে যায়।
এর আগে ২০০৭ সালে আট হাত-পাওয়ালা অপর এক শিশু ভারতে জন্ম নিয়ে সারা বিশ্বের দৃষ্টি কেড়েছিলো। ৩০ জন চিকিৎসক ২৭ ঘন্টা অস্ত্রোপচার চালিয়ে ওই শিশুটিকে সফলভাবে পৃথক করেছিলো।
তবে উগান্ডার চিকিৎসকেরা প্রথমবারের মতো এ ধরনের অস্ত্রোপচারে অংশ নিলো।






মন্তব্য চালু নেই