শোকাহত ম্যারাডোনা

দীর্ঘ ৩০ বছরের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল। দিয়েগো ম্যারাডোনা আজ বন্ধুহীন। কিউবার মহান বিপ্লবী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রোর প্রয়াণের পর বাকরুদ্ধ ম্যারাডোনা। এতটাই শোকাহত যে, কাস্ত্রোর নামের আগে কিংবা পরে ‘ছিলেন’ শব্দটা লিখতে তার বাধছে।

১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপ মাতিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি। তার বাঁ-পা কথা বলত। তার খেলা পছন্দ করতেন কিউবার প্রেসিডেন্টও। পরের বছরেই কিউবায় পা রেখেছিলেন ম্যারাডোনা। দেখা করেছিলেন কাস্ত্রোর সঙ্গে।

আপ্লুত কিউবা প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘দিয়েগো খুব ভালো বন্ধু। অত্যন্ত সৎ। দূরন্ত অ্যাথলেট। কিউবার মানুষদেরও ভালোবাসে।’

১৯৯৪ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার বিরুদ্ধে উঠেছিল ডোপিংয়ের অভিযোগ। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল তাকে। চারদিকে সমালোচনায় জর্জরিত ম্যারাডোনা চলে গিয়েছিলেন কিউবায়। সে সময় বেশ কিছুদিন কাটিয়েছিলেন কাস্ত্রোর সঙ্গে। তৎকালীন কিউবা প্রেসিডেন্ট ম্যারাডোনাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনেছিলেন, যা কোনো দিন ভুলতে পারবেন না দিয়েগো।

তাই তো ম্যারাডোনা কতবার যে বলেছেন, ‘আমি ফিদেল কাস্ত্রোর ভক্ত’ তার ইয়ত্তা নেই। নিজের বাঁ-পায়ে ক্যাস্ত্রোর ট্যাটু বানিয়েছেন। আত্মজীবনী উৎসর্গ করেছিলেন ফিদেলকে। কয়েক বছর আগেও ফিদেল যখন গুরুতর অসুস্থ, গোটা দুনিয়া উদগ্রীব তার খবর জানার জন্য।

গুজবও রটে গিয়েছিল যে, কাস্ত্রো আর বেঁচে নেই। ম্যারাডোনা ছুটে গিয়েছিলেন কিউবায়। পরে তিনিই জানিয়েছিলেন ক্যাস্ত্রো ভালো আছেন। শুক্রবার রাতে ক্যাস্ত্রো চলে গেছেন অন্যভুবনে। রেখে গেছেন বন্ধুকে, ভক্তকেও। ওয়েবসাইট।



মন্তব্য চালু নেই