মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে হাজারো রোহিঙ্গা শিশু

মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রোহিঙ্গা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সেখানে রোহিঙ্গা শিশুদের একটি বড় অংশ মারাত্মক পুষ্টিহীনতা ও চিকিৎসা সেবার অভাবে ভুগছে। সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা জঙ্গিদের ওপর কথিত সামরিক অভিযানের ফলে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষসহ শিশুদের ওপর মারাত্মক দুরবস্থা নেমে এসেছে।

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের নথিভুক্ত অন্তত তিন হাজার শিশু জাতিসংঘের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারছে না। উত্তরাঞ্চলীয় ওই রাখাইন প্রদেশটিতে বাহিরের সাহায্য সহযোগিতা পাঠানো বন্ধ রয়েছে।

গত বছরের ৯ অক্টোবর বর্ডার পোস্টে হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হয়। ওই হামালার প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সরকার। অভিযানকালে দেশটিতে বাহিরের গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সব ধরণের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সাহায্য সহযোগিতার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক মহলের ক্রমাগত আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের মধ্য ডিসেম্বরে সীমিত পর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা চালাতে দেওয়া হয় বুথিডং শহরতলীতে। আর গত মাসে উত্তর মংডং এ ত্রাণ তৎপরতা শুরু করে জাতিসংঘ। কিন্তু অসংখ্য শিশুদের কাছে এখনো জাতিসংঘের ত্রাণ পৌঁছায় নি। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে জাতিসংঘের ধারণার চাইতেও বেশি শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে।

ত্রাণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে শিশুরা হচ্ছে এই সংঘাতের ‘পরোক্ষ ভুক্তভোগি’। তাদের মতে নাফ নদী ও সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসা ৭০ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে অধিকাংশ শিশুই মারা গেছে বা হারিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে আরাকান প্রজেক্ট নামে একটি এনজিওর পরিচালক ক্রিস লিউয়া বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রতিবেদন আছে শিশুরা অপুষ্টিতে মারা গেছে। এই সংঘাতের ফলে সরাসরি হামলার চেয়ে পরোক্ষ হামলায় মারা যাওয়া শিশুদের সংখ্যা অনেক বেশি হবে।’ আরাকান প্রজেক্টের মতে অন্তত ২০০ জন রোহিঙ্গা সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। তবে অন্যান্য সংস্থাগুলো এই সংখ্যা সহস্রাধিক বলে মনে করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা ডব্লিউএইচও এর বরাতে জানা যায়, অপুষ্টির কারণে শিশু মৃত্যুর হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। এদিকে গত সপ্তাহ থেকে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযান স্থগিত করেছে। তবে এখনো সেখানে বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট



মন্তব্য চালু নেই