মেইন ম্যেনু

মার্কিন সফরে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন মোদি? স্পিকারকে চিঠি রিপাবলিকানদের

দিলীপ মজুমদার (কলকাতা): যে নরেন্দ্র মোদিকে ২০০২-এর গুজরাত দাঙ্গার ইস্যু তুলে দীর্ঘদিন ভিসা দেয়নি আমেরিকা, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকেই বড় সম্মান দেওয়ার উদ্যোগ চলছে সেদেশে। সেপ্টেম্বরে মার্কিন সফরে যাচ্ছেন তিনি।তখন তাঁকে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে বিরল সম্মান দেখানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে।হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সেনেটের যৌথ সভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ডাকার প্রস্তাব দিয়ে হাউস স্পিকার জন বোয়েনারকে চিঠি পাঠিয়েছেন জনপ্রতিনিধি সভার বৈদেশিক বিষয়সংক্রান্ত কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান এড রয়েস।তাঁর চিঠিতে বলা হয়েছে, আমরা সকলেই জানি, ভারত।আমেরিকার এক গুরুত্বপূর্ণ শরিক।রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বা নিরাপত্তা।ইস্যু, সব দিক থেকেই দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের চেয়ে। আর কোনও বেশি গুরুত্বপূর্ণ শরিক নেই আমেরিকার এটা বললেও বিন্দুমাত্র অত্যুক্তি হবে না যে, ২১ শতকের সবচেয়ে নির্ধারক শরিকি সম্পর্কগুলির অন্যতম হবে ভারত-মার্কিন বোঝাপড়া।চিঠিতে সই করেছেন উত্তর ক্যারোলিনার রিপাবলিকান জনপ্রতিনিধি জর্জ হোল্ডিংও। রয়েস, হোল্ডিং চিঠিতে এও লিখেছেন, ভারতের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন।এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক উত্সব তো বটেই, ভারতের কাছেও ছিল এক ঐতিহাসিক মূহূর্ত।দুদেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে জোরদার করতে আমেরিকাকে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দৃঢ়ভাবে হাত মিলিয়ে চলতে হবে।

স্পিকারের কার্যালয় থেকে এখনও এই চিঠির জবাব পাঠানো হয়নি বটে, তবে নির্বাচনে মোদির বিপুল জয়ের পর যেভাবে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে শুরু করে একাধিক মার্কিন নেতা তাঁকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, সেই ধারার প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে তাঁকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হতে চলেছে, এমন সম্ভাবনা প্রবল।

কিন্তু মোদির বিরুদ্ধেই ২০০২-এর গুজরাত হিংসার সময় হাত গুটিয়ে বসে থাকার অভিযোগ তুলে ১৯৯৮ সালের এক আইনের আওতায় ২০০৫ সালে তাঁর ভিসা বাতিল করে তত্কালীন মার্কিন প্রশাসন।ওই আইনে ধর্মীয় স্বাধীনতা ব্যাপক লঙ্ঘন করেছেন, এমন বিদেশিদের আমেরিকায় ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে দেরিতে হলেও ভারতে সদ্যসমাপ্ত ভোটের ফল বেরনোর পর দ্রুত অবস্থান বদলে মোদিকে সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে আমেরিকা সফরের আমন্ত্রণ জানান ওবামা।

চিঠিতে গুজরাতের কথাও উল্লেখ করেছেন দুই রিপাবলিকান আইনপ্রনেতা।তাঁরা বলেছেন, মোদির নেতৃত্বে গুজরাতে যেমন সমৃদ্ধি এসেছে, একইভাবে তিনি গোটা ভারতকেও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে দেবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

তাঁদের বক্তব্য, গোটা ভারতের জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশের বাস গুজরাতে।কিন্তু সেই রাজ্যই দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ২৫ শতাংশ হয় ওই রাজ্য থেকে! সেখানে গরিবির হার একদিকে চোখে পড়ার মতো কমেছে, অন্যদিকে পরিকাঠামোর দারুণ উন্নতি হয়েছে।

মোদির বিনিয়োগ-বান্ধব ভূমিকার কথাও বলেছেন তাঁরা।তাঁদের কথায়, গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, মোদি বেসরকারি উদ্যোগে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন, আমলাতন্ত্রের ফাঁস আলগা করতে চান, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই