মেইন ম্যেনু

ভারতে শৈত্যপ্রবাহে মৃত ১৬৭

ভারতের উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরপ্রদেশজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারপাতের জেরে সোমবার বেলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬৭৷ শৈত্যপ্রবাহে কাবু হয়ে বিভিন্ন্ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি প্রায় হাজার খানেক অসুস্হ রোগী৷ প্রবল তুষারপাতের ধাক্কায় শিমলা-মানালিতে জনজীবন প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে৷ বড়দিন ও বর্ষশেষের ছুটি কাটানোর জন্য বুকিং থাকা হোটেল ও টিকিট ঝড়ের গতিতে বাতিল করে দিচ্ছেন পর্যটকরা৷ দিল্লিও তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি ঘন কুয়াশার চাদরে মুড়ে রয়েছে৷ দিল্লিতে এদিন রেকর্ড সর্বনিম্ন্ তাপমাত্রা ছিল চ্ছ্র.চ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ তবে বাংলাদেশের উপকূলে ঘূর্ণাবর্ত অবস্হান করায় কলকাতার তাপমাত্রা বাড়বে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর৷ দিল্লিতে এদিন দৃশ্যমানতা কার্যত শূন্যর কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সকাল দশটা পর্যন্ত দিল্লি বিমানবন্দর থেকে কোনও বিমান ওঠানামা করতে পারেনি৷ নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ছেড়েছে ৩৬টি বিমান ও দূরপাল্লার ৫০টিরও বেশি ট্রেন৷ কুয়াশার কারণেই বাতিল হয়েছে তিনটি ট্রেন এবং ১২টি ট্রেন ছাড়ার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে৷ স্টেশন ও বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন বহু মানুষ৷ রাজধানীতে যান বিপর্যয়ের রেশ পড়েছে গোটা দেশে৷ কলকাতা, মুম্বই, চেন্নাই, লখনউ ও হরিয়ানা থেকে দিল্লিগামী বিমানগুলিও কুয়াশার কারণে দিল্লি বিমানবন্দরে নামতে পারেনি৷ বেলায় রাজধানী থেকে মুম্বই মেল, দেরাদুন এক্সপ্রেস, পাঞ্জাব মেল, দুন এক্সপ্রেস ছাড়লেও দৃশ্যমানতার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে খুবই ধীরে চলছে ট্রেনগুলি৷ চলতি সপ্তাহে রোজই কুয়াশার জন্য ব্যাহত হবে যান চলাচল৷ নিত্য দুর্ভোগের শিকার হতে হবে যাত্রীদের৷ কুয়াশা ও ঠান্ডায় জবুথবু দিল্লি, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দারা৷ শৈত্যপ্রবাহে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে জনজীবন ও যান চলাচল৷ রবিবার রেকর্ড শীতে জমে গিয়েছিলেন দিল্লিবাসী৷ স্বাভাবিকের থেকে একলাফে সাত ডিগ্রি কমে সর্বনিম্ন্ তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছিল ছ.চ্ছ্র ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ যানজট ও কোলাহলের জন্য বিখ্যাত রাজধানীর ব্যস্ত রাস্তাও শুনশান৷ ঠান্ডার কামড় থেকে বাঁচতে ভারী জ্যাকেট, সোয়েটার-টুপি চাপিয়ে যাঁরা বেরিয়েছেন তাঁরাও দ্রূত গন্তব্যে পৌঁছনোর চেষ্টায় রয়েছেন৷ শৈত্যপ্রবাহের জেরে ইতিমধ্যেই লখনউয়ের সব স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ উত্তরপ্রদেশে দৃশ্যমানতা ২০-৫০ মিটার৷ সরকারি অফিসেও কর্মী সংখ্যা কম৷ প্রশাসনের তরফে সবাইকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, “আস্তে গাড়ি চালান৷ সবার প্রথমে অফিস পৌঁছনোর জন্য কেউ মেডেল পাবেন না৷” বড়দিনের আগে থেকেই তাই ছুটির মেজাজে উত্তর ভারত৷ তবে মন্দের ভাল, অত্যধিক ঠান্ডার জন্যই উত্তর ভারতে চুরি, ডাকাতি কম হচেছ বলে দাবি প্রশাসনের৷ কলকাতায় এদিন সকালে তাপমাত্রা ছিল ১৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি কম৷ আকাশে মেঘ থাকায় ঠান্ডা কমবে৷ অন্যদিকে হিমালয়ে থেকে ঠান্ডা বাতাস প্রবাহের ফলেই দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশে, রাজস্হানে শৈত্যপ্রবাহ চলছে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে৷ রাতে ঠান্ডা আরও বাড়বে৷ গত সপ্তাহে বুধ ও বৃহস্তপতিবার তুষারপাতে উত্তরাখণ্ড-সহ গোটা উত্তর ভারতে মৃত্যু হয়েছিল ৩৮ জনের৷ এদিকে কয়েক ফুট বরফের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের পছন্দের জায়গা শিমলা, মানালি-সহ হিমাচল প্রদেশের একাধিক পর্যটন কেন্দ্র৷ বিদেশি পর্যটকরা স্কেটিং-এর জন্য পৌঁছলেও দেশের বেশিরভাগ পর্যটকই ক্রিসমাসে হোটেলের বুকিং বাতিল করেছেন বলে জানিয়েছেন মানালির হোটেল ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি অনুপ ঠাকুর৷






মন্তব্য চালু নেই