মেইন ম্যেনু

তীরে এসে ডুবলো তরী : কারাগারের নিচে ৩৭ মিটার সুড়ঙ্গ

আর মাত্র ৭ মিটার সুড়ঙ্গ খোড়া বাকি ছিল। কিন্তু গোয়েন্দাদের নজরে এসে ভেস্তে গেল সব পরিকল্পনা। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় কারাগারের ঘটনা এটি, যেটিকে ঘিরে পাকিস্তান জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

কারাগারের 7ATA নামক বিভাগকে লক্ষ্য করে পাশ্ববর্তী আবাসিক এলাকা গাউসিয়া কলোনি থেকে বিশাল এক সুড়ঙ্গ খোড়া হয়। সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ৩৭ মিটার; প্রায় ১২১ ফুট। ঐ বিভাগে আটক অবস্থায় ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত আল কায়েদা, তেহরিক ই তালিবান, সিপাহ ই মুহাম্মাদ ও লস্কর ই জংগভির মূল্যবান সদস্যেরা। একে একে তাদের বের করে নিয়ে আসাই ছিল উদ্দেশ্য।

একাধিক সশস্ত্র ইসলামি দল এর সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ মিলেছে। জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারী মাস থেকে এই সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। এই উদ্দেশ্যে, প্রথমে কারাগারের নিকটবর্তী আবাসিক এলাকা গাউসিয়া কলোনিতে ৬০ ইয়ার্ড বা ৫৪০ বর্গফুট আয়তনের একটি জমি কেনা হয়।

প্লটটিকে ঘিরেই প্রথম রহস্যের সূত্রপাত। ঐ প্লটটি পাকিস্তান পুলিশ বাহিনীর জনৈক স্টাফ এক মদ্যপের কাছ থেকে কিনেছিলেন ৩ লাখ রুপিতে। পরে শহীদ নাম নিয়ে এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে প্লটটি কিনতে চায় এবং মূল্য হিসেবে প্রস্তাব করে ১৩ লাখ রুপি। পুলিশ স্টাফ তখন ঐ ব্যক্তির হাতে প্লটের মালিকানা হস্তান্তর করে। স্থান বিবেচনায় ১৩ লাখ রুপি ছিল যথেষ্ট লাভজনক।

প্লটটিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল বিশাল পাচিল। ভেতরে দুই ঘর বিশিষ্ট এক বাড়ি ছিল, টিনের চালে ছাওয়া। পূর্বের সত্ত্বাধিকারী বাড়ির কাছে একটি পানির কুয়ো খুড়েছিলেন। সেটি ছিল ৫ ফুট প্রশস্ত এবং ৮ ফুট গভীর। সশ্স্ত্র সংগঠনের তৎপর সদস্যেরা প্লটটি কেনার পর সেই কুপের গভীরতা ১৩ ফুট পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়। এরপরই তা কেন্দ্রীয় কারাগারের 7ATA অংশ লক্ষ্য করে এগোতে থাকে। উঁচু পাচিলে ঘেরা রহস্যময় প্লটকে ঘিরে এলাকাবাসীর কৌতুহল ক্রশ ঘনীভূত হতে থাকে।

পাকিস্তানের তদন্তকারী সংস্থা পাকিস্তান রেঞ্জার্স গুপ্তচরের তথ্য অনুযায়ী প্লটটিতে আকস্মিক অভিযান চালায়। অভিযানে একজনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। ধৃত ব্যক্তিকে প্রশ্নকক্ষে নেয়া হয়েছে। পাকিস্তানের উচ্চতর তদন্ত কমিটি বিষয়টির আদ্যপান্ত খতিয়ে দেখছে। কেননা, এই একটি ঘটনা আরও অজস্র অনুরূপ সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

পাকিস্তান রেঞ্জার্সের উপ মহাপরিচালক কর্নেল তাহির এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই