মেইন ম্যেনু

আশকোনা অভিযান: সন্তানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন আত্মঘাতী মা

আত্মঘাতী মায়ের বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত শিশুটির বাবা ইকবাল জঙ্গি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ ছিলেন না। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি ক্যানসারে ভুগে মারা গেছেন। সূর্য ভিলায় পুলিশি অভিযানে শিশুটিকে তার মা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ের পর শিশুটির মা জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন। ওই নারীকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করেন তাঁর দ্বিতীয় স্বামী সুমন ওরফে সাগর। সুমন ওরফে সাগর নব্য জেএমবির সদস্য। আহত শিশুটির বাবার নাম ইকবাল। তিনি জঙ্গি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ ছিলেন না।’ পুলিশ সূত্র বলছে, সুমন ওরফে সাগর এখন নজরদারিতে আছেন।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে একনাগাড়ে ১৬ ঘণ্টা ধরে চলা অভিযানে পাঁচ বছরের আহত শিশুটিকে তার মা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন বলে জানান ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। শুরু থেকেই নানাভাবে পুলিশ সদস্যরা বাড়ির ভেতরে থাকা সদস্যদের বেরিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পর এক নারী শিশুটির হাত ধরে বেরিয়ে আসতে থাকেন। শিশুটি তার মাকে ধরে এগোতে শুরু করে। শিশুটির পরনে ছিল ফুলতোলা ফ্রক আর জ্যাকেট।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা তাঁকে মাথার ওপর দুই হাত তুলে এগিয়ে আসতে বলি। ওই নারী শিশুটিকে পুলিশের দিকে এগিয়ে দেন। তিনি ধারণা করছিলেন, আমরা এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে যখনই ধরতে যাব, তখনই তিনি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটাবেন। এতে করে সন্তানসহ তিনি ও পুলিশ সদস্যরা নিহত হবেন।’

আত্মঘাতী হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি মাটিতে পড়ে ছিল। পরে পুলিশ শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের রেজিস্ট্রার জেসমিন আক্তার গতকাল বলেন, শিশুটি এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির খাদ্যনালিতে ১২–১৩টি ছিদ্র ছিল। তার অস্ত্রোপচারে সময় লেগেছে পাঁচ ঘণ্টা। খাদ্যনালির বেশ কয়েক জায়গা কেটে ফেলতে হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিশুটির জ্ঞান ফিরে এলেও কথা বলার মতো সুস্থ নয়। একরকম নির্বাক পড়ে আছে। গতকাল রাত পর্যন্ত শিশুটির খোঁজ নিতে কেউ হাসপাতালে আসেনি।-প্রথম আলো






মন্তব্য চালু নেই