মেইন ম্যেনু

আফগানিস্তানে আফিম চাষে রেকর্ড

আফিম চাসে আবারও রেকর্ড করেছে আফগানিস্তান। আর এই রেকর্ড করায় আফগানিস্তানের আফিম চাষীরা যতটা আনন্দিত ঠিক ততটাই চিন্তিত মার্কিন প্রশাসন। সম্প্রতি আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ ইন্সপেকটর জেনারেল আফিমের এই রেকর্ড সংখ্যক উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হোয়াইট হাউস বরাবর চিঠি লিখেছেন। দেশটিতে আফিম চাষ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছিল।

এতোকিছুর পরেও আফগানিস্তানে আফিম চাষ বন্ধ করা যায়নি। আর এই ঘটনা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন মার্কিন প্রশাসন। কারণ আফিম উৎপাদন থেকে যে মুনাফা আসে তার বেশিরভাগই মূলত চলে যায় তালেবানদের কাছে। আর তালেবান গোষ্ঠি এই বিপুল পরিমান অর্থ যে যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করতেই কাজে লাগাবে তা তো সহজেই অনুমান করা যায়। ২০১৩ সালে আফগানিস্তানের মোট দুই লাখ নয় হাজার হেক্টর এলাকায় পপি চাষ করা হয়। এর আগে ২০০৭ সালে এক লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর জমিতে আফিম চাষ করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের এক পরিসংখ্যান মতে, ২০১৩ সালে আফগানিস্তানে মোট আফিম উৎপাদন থেকে আয় হয়েছিল তিন বিলিয়ন ডলার। আর বর্তমানে যে পরিমান আফিম উৎপাদিত হয়েছে তাতে ২০১৩ সালের তুলনায় প্রায় পঞ্চাশ ভাগ বেশি মুনাফা হবে আফিমচাষীদের। বিশ্বের মোট আফিম চাহিদার ৯০ শতাংশই পূরণ করে আফগানিস্তান।

২০০৯ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে আফিস চাষ বন্ধে মার্কিন বাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ করতো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন বাহিনী দেশটি থেকে ফিরে আসার পর একদিকে যেমন সরকারি পর্যায়ে দুর্নীতির পরিমান বেড়েছে তেমনি বেড়েছে এই দুর্নীতির হাত ধরে আফিস চাষের পরিধি। যদিও এই অভিযোগ মার্কিন মুল্লুকের। কারণ আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসন পূর্ববর্তী সময়ে এই আফিম চাষীদের বীজ দিয়ে এবং অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছিল মার্কিন বাহিনী। তৎকালীন সময়ে সোভিয়েত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনা করতে এবং আন্দোলনকারীদের দেশিয় অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে আফিম চাষীদের নিয়মিত প্রনোদনা দেয়া হতো।

আফগানিস্তানে আফিম নিয়ে দ্বন্দ্ব মূলত দীর্ঘদিনের। দেশটির সামরিক বাহিনীর একাংশ সরাসরি এই ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরে পালের গোদা আফিম ব্যবসায়িরা দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে অইনানুগ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বর্তমানে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির প্রতি অনেকের প্রত্যাশা যেন তিনি আফিম চাষ বন্ধে দ্রুত কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো ঘানির রাজনৈতিক দলের মূল সারির নেতাদের মধ্যে অনেকেই আফিস ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত। যেমনটা হামিদ কারযাইয়ের সময়েও ঘটেছিল।






মন্তব্য চালু নেই