মেইন ম্যেনু

অধরাই থেকে গেল লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার শুরু থেকেই বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য বিরোধীদল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচনের কয়েকদিন আগে থেকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদানসহ সেনা মোতায়েন এবং সকল প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দাবি করে আসছিলেন। নির্বাচনের মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা বাকি থাকলেও বিরোধীদলের এ দাবি অধরাই থেকে গেল।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না পাওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পূর্বশর্ত। এ দাবি শুধু আমাদের নয়, এটা জনগণের। কিন্তু জনগণের এ দাবি সরকার ও ইসি উপেক্ষা করেছে। তাদের এ দাবি আমলে না নেওয়ায় প্রমাণ হয়, তারা একচেটিয়া ও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার ষঢ়যন্ত্র করছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই আমাদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমাদের নির্বাচনী ক্যাম্পগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে। আমাদের পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়া হয়েছে। লিফলেট, প্রচার মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক ক্যাম্প অফিস সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা দখল করে নিয়েছে। আমাদের কর্মীদের পুলিশ ও সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে গেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে। প্রতিদিন নির্বাচন কমিশনে আমরা লিখিতভাবে এ সব অভিযোগ জানালেও তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’

এদিকে, সিটি করপোরেশনে কার্যত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি বলে মনে করে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি) নামের একটি সংগঠন।

সংগঠনটি জানায়, নির্বাচনী প্রচারণাকালে প্রার্থীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আতঙ্কে ছিলেন। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কার্যক্রমের কারণে কিছু কিছু প্রার্থীকে খুবই সীমিতভাবে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। অনেক প্রার্থী গ্রেফতার কিংবা রাজনৈতিক মামলার কারণে পুলিশের হয়রানির শিকার হতে পারেন ভেবে প্রচারণা চালাননি। এ ছাড়া পরিস্থিতি অনুকুলে না থাকায় অনেকে প্রচারণা চালাতে পারেননি। বিশেষ করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচারণা সামগ্রী অন্য প্রার্থীদের তুলনায় কম ছিল।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবহিনী ব্যারাকে থাকবে না ভোটকেন্দ্র এলাকায় টহল দেবে এ বিষয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নির্বাচনের দিন সহিংসতা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউডব্লিউজি। এর ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতও কমতে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।

তিনি বলেন, ‘আমরা আর ভয় পাই না। আমাদের নেতাকর্মীরা আর ভয় পায় না। ভোটকেন্দ্রে ভোট কারচুপি করতে দেওয়া হবে না। নগরবাসী ভোট ডাকাতদের প্রতিরোধ করবে। সরকার বুঝে গেছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি নিশ্চিত। ইনশাআল্লাহ জনগণ বিপুল ভোটের ব্যাবধানে আমাদের বিজয়ী করবে।’

এদিকে, ঢাকা দক্ষিণে মির্জা আব্বাসের নির্বাচন প্রধান সমন্বয়কারী বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, ‘সরকার এই সময়ের মধ্যে সব প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি। বরং আমাদের প্রার্থী ও প্রার্থী সমর্থিত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে, নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্প ভাঙচুর করেছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশি তল্লাসী চালানো হয়েছে। মোট কথা পুরো নির্বাচনী এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকার পরিকল্পিতভাবে এ সব অপতৎপরতা চালিয়েছে যাতে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ভোটারগণ ভোট কেন্দ্রে না যায়। আর এ সুযোগে সরকার প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোট কারচুপি নিজেদের বিজয় ঘোষণা করে দিতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার সমর্থক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রার্থী, ভোটার, পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, গ্রেফতার করছে। সরকার সমর্থক প্রার্থীরা নির্বাচনী আচারণ বিধি লঙ্ঘন করছে।’

এ সব অভিযোগ নির্বাচন কমিশনকে একাধিকবার করেও কোনো প্রতিকার পাননি উল্লেখ করে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন চাইলে শেষ মুহূর্তে এখনও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও সরকার ও ইসি সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। সরকারের ইশারা ও নির্দেশে ইসি সেনামোতায়েনের সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসে। এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির মাধ্যমে করতে পারলে ইসি হারানো ইমেজ কিছুটা হলেও উদ্ধার করতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগও তারা হারিয়েছে।’

ব্যারিস্টার মওদুদ আরও বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিন সিটিতেই জনগণ জাতীয়তাবাদী সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করবে।’

তিনি ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখল ঠেকাতে ভোটার, দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাহারা বসানোর আহ্বান জানান।






মন্তব্য চালু নেই