মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ

মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এছাড়া দুর্ঘটনারোধে সড়ক-মহাসড়কের সব ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে ডিভাইডার স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনা এড়াতে মন্ত্রী দুরপাল্লার সব যানবাহনে দুইজন চালক রাখার অনুরোধও জানিয়েছেন পরিবহন মালিকদের।

বুধবার সচিবালয়ে ঈদের ঘরমুখো এবং কর্মস্থলমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে গঠিত মনিটরিং টিমের কার্যক্রম পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা অবাধ চলাচলের কারনে মহাসড়ক গুলোতে দুর্ঘটনা ঘটছে এ জন্য চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা এখানে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে চাই না। এবারের ক্রুটিগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী ঈদে কাজে লাগাতে চাই। আসন্ন ঈদুল আযহার প্রস্তুতিও আমরা শুরু করতে যাচ্ছি।

মন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে বাইপাইল পর্যন্ত ২২ কিমি. দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে এর কাজ শুরু হবে। সরকার ধাপে ধাপে দেশের সকল মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

তিনি বলেন, এবারে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা এবং কর্মস্থলে ফিরে আসা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ছিল অধিক স্বস্তির। আমি আগেই আপনাদের মাধ্যমে জানিয়েছিলাম এবার দেশের সড়ক-মহাসড়ক যানজটের কারণ হবে না। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নিবিঢ় মনিটরিং-এ মানুষ নিরাপদে ঈদ উদযাপন করে ফিরে আসতে পারায় আমরা আনন্দিত। তবে যারা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদের আগের দিন টাঙ্গাইল সড়কে কয়েকটি ফিটনেসবিহীন যানবাহন (৮টি) অকেজো হয়ে পড়লে সেখানে যানজট সৃষ্টি হয়। আমি চন্দ্রা মোড় থেকেই যোগাযোগ করি এবং যানজট কমিয়ে আনার চেষ্টা চালাই। দুপুর নাগাদ যানজট কমে আসে।

এবার ঈদে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় আগে থেকেই কর্ম-পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।বৃষ্টি বিঘ্নিত যাত্রা আরামদায়ক ও স্বস্তিকর করতে আমাদের প্রচেষ্টায় কোন ঘাটতি ছিল না।

মন্ত্রী বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী যে সকল প্রকৌশলী ভাল কাজ করেছে, দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে তাদের পুরষ্কৃত করা হবে। আর ব্যর্থতার জন্য ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নের মধ্যদিয়ে কর্মের স্বীকৃতি তথা পুরষ্কার ও তিরষ্কার নির্ধারিত হবে।

তিনি বলেন, ঈদের আগে-পরে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সড়ক দুর্ঘটনায় মূল্যবান প্রাণহানি ঘটে। প্রতিটি মৃত্যুই অপূরণীয় ক্ষতি। আমি গতকাল নির্ধারিত সকল কর্মসূচি স্থগিত করে ছুটে যাই দুর্ঘটনার স্পটে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্ত তথা দুর্ঘটনাস্থলের সড়কে কোন সমস্যা ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টরা আমাকে জানিয়েছেন, বেপরোয়া গাড়ি চালানোই দুর্ঘটনার কারণ।

তিনি বলেন, কক্সবাজার থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত একজন চালকের একটানা ড্রাইভিং করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভোর নাগাদ তার ঝিমুনি আসতে বাধ্য। এসকল ক্ষেত্রে বা দূরপাল্লার ট্রিপে দুজন চালক দেয়ার জন্য আমরা ইতোমধ্যে পরিবহন মালিকদের অনুরোধ জানিয়েছি।

তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে চারটি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্পটে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আদলে নিউজার্সি ব্যারিয়ার বা ডিভাইডার স্থাপন করা হবে আগামী দু’মাসের মধ্যে। আজ থেকে কাজ শুরু হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আগামী সেপ্টেম্বরে জয়দেবপুর হতে এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিমি. সড়ক চারলেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। পরবর্তী পর্যায়ে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে বনপাড়া-হাটিকমরুল সড়কও চারলেনে উন্নীত করা হবে।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের আরও জানাতে চাই, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতির লাইফ-লাইন। ইতোমধ্যে এ মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের ১৪৩ কিমি. কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ছয়লেন বিশিষ্ট এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির কাজ শেষ হয়েছে।

জাইকা’র অর্থায়নে এ মহাসড়কে ২য় কাঁচপুর সেতু, ২য় মেঘনা সেতু ও ২য় গোমতী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বানসহ অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ বছরের সেপ্টেম্বরে সেতু তিনটির নির্মাণকাজ শুরু হবে।

কাদের বলেন, সড়ক প্রকৌশলীদের দক্ষতা মূল্যায়নের পাশাপাশি আমরা যথাসময়ে প্রকল্প তথা মেরামতকাজ শেষ করতে ব্যর্থ ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছি। কার্যাদেশ অনুযায়ী যথাসময়ে কাজ শেষ করতে অহেতুক বিলম্বের জন্য পিপিআর অনুযায়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওটিবিএল এবং পিবিএল এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই