কেমন হচ্ছে ক্যামেরনের মন্ত্রিসভা ?

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জয়ের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য দ্বিতীয় বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। নির্বাচনে তার দলের ‘ভূমিধস’ জয়ের পর শুক্রবার থেকেই শুরু করেছেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের কাজ।

রক্ষণশীল টোরি পার্টির প্রতি যুক্তরাজ্যের মানুষ যে আস্থা দেখিয়েছে, তা অভাবিত। অবশ্য এ জন্য ক্যামেরন তার মন্ত্রিসভার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই কৃতজ্ঞতা থেকে তার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন আগের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা।

যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর অব একচেকার বা অর্থমন্ত্রী মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। মন্ত্রিসভায় প্রোটকলে প্রধানমন্ত্রীর পরেই তার অবস্থান। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধান অর্থকর্তা। ২০১০ সালে টোরি পার্টির জয়ের পর অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন জর্জ জিডেওন অলিভার অসবর্ন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় যুক্তরাজ্যের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। দেশের দুঃসময়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য ক্যামেরন সরকারে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সেই জায়গা থেকে এবারও তিনি মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন। প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন শুক্রবারই এ বিষয়ে পরিষ্কার ঘোষণা দিয়েছেন।

ক্যামেরন সরকারের আরো তিন পরীক্ষিত মন্ত্রী থেরেসা মে, ফিলিপ হ্যামন্ড এবং মাইকেল ফ্যালন এবারও মন্ত্রিসভায় বহাল থাকছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই তিন জায়গায় পরিবর্তনের কোনো চিন্তা নেই প্রধানমন্ত্রীর। থেরেসা মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ফিলিপ হ্যামন্ড পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাইকেল ফ্যালন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে যথারীতি দ্বিতীয় বারও দায়িত্ব পালন করবেন।

এবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে টোরি পার্টি। পার্লামেন্টের ৩৩১ আসন দখল করেছে তারা। ৩২৬ আসন হলেই এককভাবে সরকার গঠন করতে পারে যেকোনো দল। কিন্তু তা থেকে আরো পাঁচটি আসন বেশি পেয়ে এবার টোরি পার্টি এককভাবে সরকার গঠন করছে।

২০১০ সালের মন্ত্রিসভায় জোট শরিক লিবারেল ডেমোক্রাট (লিব ডেম) পার্টির সদস্যরা ছিলেন। কিন্তু গত মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া লিব ডেমের সেই সব সংসদ সদস্যের অধিকাংশ এবার নির্বাচনে জিততে পারেননি। ফলে মন্ত্রিসভায় তাদের স্থান হচ্ছে না, এটিই স্বাভাবিক। এ ছাড়া এবার জোট গঠনেরও কোনো প্রয়োজন নেই। ফলে মন্ত্রিসভায় প্রায় ৯০ ভাগ মন্ত্রি টোরি পার্টি থেকে দিতে হবে। আর ১০ ভাগ হয়তো আসবে স্কটল্যান্ড ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) থেকে।

শুক্রবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও ক্যামেরন ঘোষণা দিয়েছেন, ‘এক জাতি’ সরকার গঠন করবেন তিনি। অর্থাৎ বিরোধীদল থেকেও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে এসএনপি স্কটল্যান্ডে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই রাজ্যের ৫৯ আসনের মধ্যে ৫৬ আসনই পেয়েছে এসএনপি। ফলে মন্ত্রিসভায় তাদের গুরুত্ব দিতে হবে ক্যামেরনকে।



মন্তব্য চালু নেই