মেইন ম্যেনু

সড়ক নয় যেন মরন ফাঁদ!

বরিশালের প্রথম শ্রেনীর গৌরনদী পৌরসভার নাগরিকেরা সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পৌরসভার সম্মুখের জনগুরুতরপূর্ণ প্রধান সড়কসহ পৌর এলাকার প্রত্যেকটি সড়ক দীর্ঘদিন থেকে অভিভাবকহীন ভাবে বেহাল অবস্থায় পরে থাকলেও বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই। সংস্কারের অভাবে প্রত্যেকটি সড়ক এখন মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। পিচ উঠে, সড়ক ভেঙ্গে ও বড় বড় খানাখন্দের কারণে সড়কগুলোর অবস্থা এতোই নাজুক হয়ে পরেছে যে যানবাহন চলাচলতো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও মানুষ চলাচল করতে পারছেন না। ফলে প্রতিনিয়ত জনসাধারনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও পৌর সদরের অধিকাংশ এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টিতেই জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পৌর নাগরিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নেই পর্যাপ্ত কোন লাইটিং এর ব্যবস্থা।

সরজমিনে ঘুরে পৌরবাসীদের অভিযোগে জানা গেছে, বর্তমান পৌর মেয়র মোঃ হারিছুর রহমানের সময়ে গত প্রায় সাড়ে চার বছরে পৌর এলাকার কোথাও চোখে পড়ার মতো কোন উন্নয়ন হয়নি। রিকসা চালক আব্দুল কুদ্দুস, হেমায়েত উদ্দিনসহ একাধিক ব্যক্তিরা জানান, গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ড থেকে বন্দর ভায়া পৌরভবন, উপজেলা পরিষদ, থানা, পল্লী বিদ্যুত অফিস সড়কটি দিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পুরো সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে খানাখন্দে যান ও জনসাধারনের চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পরে থাকলেও বিষয়টি আজো মেয়রের দৃষ্টি গোচর হয়নি। একইভাবে আশোকাঠী ফিলিং ষ্টেশন থেকে গেরাকুল, টরকী বন্দরের প্রবেশ সড়ক, গৌরনদী বন্দর থেকে টরকী বন্দরের নদীর পাড়ের সড়ক, আশোকাঠী কাঁচা বাজার থেকে মোল্লাবাড়ি সড়ক, টিকাসার-গেরাকুল সড়ক, কাছেমাবাদ-হাইমার্কেট সড়ক, দক্ষিণ বিজয়পুর-শাওড়া সড়ক, উপজেলা পরিষদ থেকে আশোকাঠী বাজারসহ পৌর এলাকার জনগুরুতপূর্ণ প্রত্যেকটি সড়ক দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় সেগুলো খানাখন্দে এখন যান ও জনসাধারনের চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পরেছে। যেকারনে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পূর্বের এসব পাঁকা সড়কে কর্দমক্ত হয়ে পৌরবাসীদের পায়ে হেঁটে চলাচলেও চরম দুর্ভোগে পরতে হবে।

উপজেলা এলওজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উল্লেখিত অধিকাংশ সড়ক সংস্কার ও পূর্ণ নির্মানের জন্য কয়েক মাস পূর্বে টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে দলীয় অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে ঠিকাদারেরা সড়ক সংস্কার ও পূর্ণ নির্মানের কাজ শুরু করতে পারছেন না। স্থানীয় আ’লীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পৌর মেয়র হারিছুর রহমানের বেপরোয়া কমিশন বাণিজ্যের কারনে বর্তমানে গৌরনদী পৌর এলাকাসহ উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত কোটি টাকার ঠিকাদারী কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে গৌরনদীবাসী সরকারের সকল প্রকার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সূত্রে আরো জানা গেছে, পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমানের কমিশন বানিজ্যের প্রতিবাদ করায় ইতোমধ্যে তার (মেয়রের) নেতৃত্বে একাধিক সরকারী অফিসে হামলা, ভাংচুর ও দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের লাঞ্ছিতসহ প্রশাসনের মাধ্যমে হয়রানি অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রে আরো জানা গেছে, মেয়র নিজের আখের গোছাতে প্রত্যেকটি উন্নয়নমূখী কাজ না করে শুধু ঠিকাদারী কাজ বাগিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন। কাজ বাগিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি পরিচয়ে প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজে মোটা অংকের টাকা কমিশনের নেশায় ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

বিশেষ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে মেয়র হারিছুর রহমান ও তার বাহিনীর প্রভাব বিস্তারের অসংখ্য কাহিনী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সাধারণ ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, উপজেলার টেন্ডার হওয়া ও প্রক্রিয়াধীন উন্নয়ন কাজগুলো মেয়র হারিছুর রহমানের মোটা অংকের টাকা কমিশন দাবির কারণে থমকে রয়েছে। মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্স নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগী ঠিকাদার রাশেদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গৌরনদীর নলচিড়ার কান্ডপাশা ও বাটাজোর বটতলা এলাকার দুটি রাস্তা ও ব্রিজের প্রায় দুই কোটি টাকার কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পেয়ে অতিসম্প্রতি তিনি কাজ শুরু করতে যান। কিন্তু মেয়র তার কাছে পুরো কাজের ৩০% কমিশন দাবি করেন। তার দাবি উপেক্ষা করে কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য দোয়া-মিলাদের আয়োজন করা হলে মেয়র হারিছের নির্দেশে তার সহযোগী শাহজাহান কবীর মিলাদ অনুষ্ঠান পন্ড করে দিয়েছেন।

একাধিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারীদের অভিযোগে আরো জানা গেছে, মেয়র হারিছ নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের একমাত্র প্রতিনিধি দাবি করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে প্রতিটি কাজের কমিশন দাবি করে আসছেন। তার কথার অবাধ্য হলেই প্রশাসন দিয়ে হয়রানি ও নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা চালানো হয়। সূত্রমতে, মেয়র হারিছুর রহমানের মোটা অংকের টাকা কমিশনের দাবির মুখে মেসার্স খন্দকার এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পাওয়া গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড (এনএইচডব্লিউ) হতে সরিকল জিসি ভায়া গৌরনদী বন্দর সড়ক উন্নয়নের জন্য ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭৩৮ টাকার কাজ, মেসার্স এস.এম এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে গৌরনদী উপজেলা হেড কোয়ার্টার হতে কাজিরহাট ভায়া বিল্বগ্রাম বাজার সড়ক উন্নয়নের ২৭ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৬ টাকার কাজ, মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্সের অনুকূলে বাটাজোর জিসি হতে পিঙ্গলাকাঠী বাজার ভায়া পশ্চিম চন্দ্রহার জিপিএস সড়ক উন্নয়নের ৭৮ লাখ ৫ হাজার ১৫৯ টাকার কাজ, সরিকল জিসি হতে সাহেবেরচর বাজার ভায়া নলচিড়া বাজার সড়ক উন্নয়নের ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮৫ টাকার কাজ, গৌরনদী বন্দর জিসি হতে মুলাদী জিসি ভায়া কুতুবপুর বাজার সড়ক উন্নয়নের ৫১ লাখ ২২ হাজার ৬৯৫ টাকার ৩টি কাজ, রূপালী কনষ্ট্রাকশনের অনুকূলে মাহিলাড়া-পয়সারহাট ভায়া-ছয়গ্রাম সড়ক উন্নয়নের ৭০ লাখ ২২ হাজার ৪২ টাকার কাজ শুরু করতে পারছেনা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। মেয়র হারিছের একক আধিপত্য বিস্তারের কারণে এখন নিস্কীয় হয়ে পরেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান, একাধিক ইউপি চেয়ারম্যানসহ দলের প্রকৃত নেতাকর্মীরা।

এ ব্যাপারে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযুক্ত পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারিছুর রহমান বলেন, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা হবে,তিনি আরও বলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আমাকে ভালো জানেন বলে দলীয় কিছু নেতা কর্মিরা আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই