মেইন ম্যেনু

স্বেচ্ছার মৃত্যুকে বরণের অপেক্ষায় নববধূ (ভিডিও)

ব্রিট্টানি মেইনার্ড এর বয়স ২৯। মাত্র কিছুদিন আগেই বিয়ে হয়েছে তার। স্বাভাবিক ভাবেই এখন তার জীবনটা হওয়ার কথা অনেক রঙিন ও প্রানবন্ত। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনি মৃত্যুর দিন গুনছেন। ডাক্তাররা জানিয়েছেন তিনি আর মাত্র ২৬ দিন বেঁচে থাকবেন সুন্দর এই পৃথিবীতে।

গত এপ্রিল মাসেই ব্রিট্টানি জানতে পারেন তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি ব্রেইন ক্যান্সার। তখন ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন তিনি মাত্র ৬ মাস বেঁচে থাকবেন। টিউমার যত বড় হতে থাকবে, মৃত্যু ততই কষ্টকর হবে। তাই ব্রিট্টানি ঠিক করেছেন ক্যান্সার তার জীবন কেড়ে নেয়ার আগেই তিনি নিজের জীবনের ইতি টানবেন। তার ইচ্ছা ছিলো প্রিয় সব মানুষের সান্নিধ্যে তিনি স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করবেন। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়াতে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করার অনুমতি নেই। তাই তিনি ওরিগনে চলে যান কারণ সেখানে Death With Dignity Act আছে।

ব্রিট্টানি বলেন ‘আমার শরীরের একটি কোষও চায় না আমি আত্মহত্যা করি। কিন্তু আমি নিরুপায়। কারণ আমার বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেওও আমি ক্যান্সারের কাছে পরাজিত। ক্যান্সারে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করার চাইতে স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বরণ করে নেয়াটা অনেকটা কম কষ্টের হবে আমার জন্য’।

পৃথিবীতে মাত্র ৫টি স্থানে সেখানে Death With Dignity Act আছে। ওরিগন, মনটানা, নিউ ম্যাক্সিকো, ভারমন্ট এবং ওয়াশিংটনে অসুস্থ ব্যক্তিরা শারীরিক কষ্ট কমানোর জন্য সেখানে Death With Dignity Act এর সহায়তায় স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করতে পারেন। ব্রিট্টানিকে একটি বিশেষ ধরণের মেডিসিন প্রয়োগ করা হবে যা শারীরিক কষ্ট ছাড়াই ব্রিট্টানির জীবনবসান ঘটাবে।

নভেম্বর মাসের ১ তারিখের অপেক্ষা করছেন ব্রিট্টানি। সেদিনই তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করবেন। ৩০ অক্টোবর তার প্রাণপ্রিয় স্বামীর জন্মদিনটা শেষবারের মতো উদযাপনের পর তিনি নিজের মৃত্যুর দিনটি ঠিক করে রেখেছেন। নিজের বিছানাতে প্রিয় সব মানুষের সান্নিধ্যেই তিনি চিরদিনের মতো চোখ বুজবেন শান্তিতে।






মন্তব্য চালু নেই