মেইন ম্যেনু

শিয়া-সুন্নি বিরোধে গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ইয়েমেন

দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ার আরব রাষ্ট্র ইয়েমেনে হুথি শিয়া সম্প্রদায়ের সশস্ত্র ‘বিদ্রোহী’ যোদ্ধাদের সঙ্গে সরকারী বাহিনীর সংঘর্ষে যুদ্ধাবস্থা দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ দুই পক্ষের মধ্যস্থতা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে। বিদ্রোহী শিয়ারা ইতোমধ্যে রাজধানী সানার দিকে অগ্রসর হয়েছে। পরিস্থিতি বিচারে দেশটি গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকেরা।

শুক্রবার জাতিসংঘের প্রতিনিধি জামাল বেনোমার সাদা শহরে হুথি ও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় এক বৈঠকে অংশ নেন। কিন্তু বৈঠকটি ব্যর্থ হয়। জামাল বেনোমার দেশটিতে একটি নতুন প্রশাসন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন যেখানে হুথি শিয়াদের পর্যাপ্ত অংশগ্রহণ থাকবে। কিন্তু প্রশাসন তাতে সম্মত হয়নি। ফলশ্রুতিতে পুনরায় যু্দ্ধের পথে সমাধান খুঁজতে বেরিয়েছে হুথি বা জাইদি শিয়ারা।

যুদ্ধাবস্থা

 বিদ্রোহী ও সরকারী বাহিনী সাঁজোয়া ও আকাশযান ব্যবহারে যুদ্ধে নেমেছে। রাজধানী সানার আকাশে উড়ে যাচ্ছে যুদ্ধবিমান। এবং স্থলভাগে চলছে সম্মুখযুদ্ধ। যুদ্ধের কেন্দ্রবিনদু হয়ে উঠেছে রাজধানী সানার এমন অংশে যেখান থেকে রাষ্ট্রপতির বাসভবন মাত্র এক কিলোমিটার দূরবর্তী। সানা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে দুই দিন যাবৎ। কিন্তু সানার বাইরে তা চলছে আরও আগে থেকেই।

জানা গেছে রাজধানী সানা এ মুহূর্তে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। একভাগ সুন্নি প্রধান প্রশাসনের আওতাধীন। অপরভাগ শাসন করছে শিয়াপ্রধান হুথি সম্প্রদায়। সানার অর্ধাংশ ছাড়াও দেশটির উত্তরাঞ্চলে হুথিদের প্রভাব রয়েছে। উত্তরের শহর সাদা থেকে সানায় প্রবেশের পূর্ব পর্যন্ত এলাকার দখল হুদিদের কাছে। তাদের আধুনিক অস্ত্রসহ প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী রয়েছে।

হুথি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছেন দেশটির সেনাবাহিনীর একাধিক সাবেক ‘দুর্ধর্ষ’ শিয়া সামরিক কর্মকর্তা। সঠিক সংখ্যাটি অজ্ঞাত হলেও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা কয়েক সহস্রাধিক। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হুদিরা যদি রাজধানী সানার দখল নিতে চায়, তবে সেটি তাদের জন্যে সময়ের ব্যাপার মাত্র।

হুদিরা দেশটিতে মূলত উত্তরাঞ্চলকে ঘিরে সংঘটিত। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি নতুন প্রশাসন যেখানে তাদেরও ‘সমান’ অংশীদারিত্ব থাকবে। কিন্তু ‘একপেশে রাষ্ট্রনীতি’ তাদের বরাবরই প্রশাসনের বাইরে রেখেছে এবং ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’ করে রেখেছে। জাতিসংঘ সংঘাত নিরসনে দুই পক্ষের স্বার্থ বিশ্লেষণ করে একাধিক প্রস্তাবনা দিলেও তা ব্যর্থ হয়।






মন্তব্য চালু নেই