মেইন ম্যেনু

লক্কড় ঝক্কড় যানমুক্ত রাজধানী!

রাজধানীসহ সারা দেশে ফিটনেসবিহীন মোটরযান ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়ররা।

এদিকে রাজধানীতে প্রচারণার পাশাপাশি বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত কারওয়ানবাজার, গাবতলী ও কাকলী মোড় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত শাহবাগ, কলেজগেট, বাবুবাজার এলাকায় অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযান শুরুর পরপরই রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। লক্কড় ঝক্কড় বাস মিনিবাসগুলো সরে পড়েছে রাস্তা থেকে।

বিআরটিএর তথ্যমতে, দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ২১ লাখ ৫ হাজার ১শ ৪০টি। মোটরসাইকেল বাদে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৭শ ৩৫টি। সড়ক-মহাসড়কে চলাচলকারী এসব যানবাহনের মধ্যে ৩৩ শতাংশেরই নেই কোনো ফিটনেস সনদ। ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ১৩ হাজার। এর মধ্যে খোদ রাজধানীতেই ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা ৯৩ হাজার ৬শ ৪টি।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ মোটরযান এবং লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী এ অভিযান পরিচালনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি দেয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে জানান, নাটোরের বড়াইগ্রাম দুর্ঘটনার পর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এ ব্যাপারে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। সারাদেশে অভিযান চলছে, যা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বিআরটিএ কাজ করে দুইভাবে। একটি সচেতনতা বৃদ্ধি, অন্যটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান।

তিনি আরও বলেন, এ অভিযান ফিটনেসবিহীন যানবাহন, লাইসেন্সবিহীন গাড়িচালক, ভুয়া লাইসেন্সধারী গাড়িচালক, ট্রাফিক আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ যানবাহন ও মোটর যান অধ্যাদেশ অনুযায়ী চলাচলকারী অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নজরুল ইসলাম আরও জানান, অভিযানের মুখে ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালনার প্রবণতা কমে যাবে, যথাযথ প্রশিক্ষণ শেষে লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালনায় আগ্রহ সৃষ্টি হবে, ক্রটিপূর্ণ যেসব যানবাহন রাস্তায় নামানো হয়, তাদের মালিক ও চালকদের এ ব্যাপারে একটি সচেতনতা তৈরি করবে যা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন রাইজিংবিডিকে জানান, রাজধানীর বাইরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) স্বস্ব এলাকায় অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের অধীনে রাজধানীর শাহবাগ, কলেজগেইট, বাবুবাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা গেছে ম্যাজিস্ট্রেট তারিক হাসান, ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার ও ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদকে।
রাজধানীর কারওয়ানবাজার, গাবতলী ও কাকলী মোড়ে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন নাসির উদ্দিন ও দেবাশীষ নাগ।

এদিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এ প্রচারণামূলক অভিযানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঘটা করে অভিযান শুরু করার কারণে আজ রাস্তায় অনেক গাড়ি নামেনি। এ কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। একদিনে তো আর এ সমস্যার সমাধান হবে না। ধীরে ধীরে এর সমাধান করা হবে। আমার জনস্বার্থে এ অভিযান শুরু করেছি। যানজট নিরসনে আমাদের এ উদ্যোগ।’

মন্ত্রী জানান, গাবতলীতে ৩৪টি মামলা ও ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কাকলী মোড়ে ২৩টি মামলা, ৩৪ হাজার টাকা জরিমানা ও একজনকে ১৫ দিনের জেল দেওয়া হয়। কারওয়ানবাজারে ২০টি মামলা, ১৮ হাজার টাকা জরিমানা, দুটি গাড়ির কাগজ জব্দ, দুটি গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠানো ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে একটি বাস ও বাসের ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই