মেইন ম্যেনু

রাহুলের বাধায় প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি সোনিয়া

ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া্ গান্ধী ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী পদের দাবি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এবং মনমোহন সিংকে ওই পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘অন্তরাত্মার ডাকে’ তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু আজ দীর্ঘ দশ বছর পর শোনা যাচ্ছে, ছেলে রাহুল গান্ধীর বিরোধিতার কারণেই নাকি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি সোনিয়া। এ দাবি করেছেন গান্ধী পরিবারের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে নটবর সিং।

সম্প্রতি এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ৮৩ বছরের নটবর সিং দাবি করেন, ‘অন্তরাত্মার ডাক নয়,আসলে রাহুলই চাননি তাঁর মা প্রধানমন্ত্রী হোন। কারণ, রাহুলের ভয় ছিল, সোনিয়া প্রধানমন্ত্রী হলে তার দাদী ইন্দীরা গান্ধী এবং বাবা রাজীব গান্ধীর মতো তার মাকেও মেরে ফেলা হবে!’ শেষ পর্যন্ত ছেলের জেদের মুখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন সোনিয়া।

‘ওয়ান লাইফ ইজ নট এনাফ’ নামে আত্মজীবনী লিখছেন নটবর। এক সপ্তাহ পর তা প্রকাশ হওয়ার কথা। তার আগে এক নিউজ চ্যানেলে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরো দাবি করেন, বইয়ে যাতে এই সব বিতর্কিত বিষয় না লেখা হয়, সে জন্য সোনিয়া ও তার কন্যা প্রিয়ঙ্কা গান্ধী সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। নটবরের দাবি, ভোলকার-কাণ্ডে মন্ত্রিসভা ও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি থেকে তাঁকে বহিষ্কারের ঘটনা নিয়ে সে দিন দুঃখও প্রকাশ করেন সনিয়া।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবি ভারতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল। একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠল সনিয়ার সততা নিয়েও! কেননা পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সনিয়ার আত্মত্যাগই তাঁকে রাজনৈতিক উচ্চতা দিয়েছে। তা ছাড়া কংগ্রেসও গত এক দশক ধরে সেই স্বার্থত্যাগ নিয়ে বড়াই করে আসছিল। কিন্তু এখন যদি দেখা যায়, তার ছেলের আশঙ্কা ও আপত্তির কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তবে সেটি কংগ্রেসের জন্য অস্বস্তিকর হবে। এমনিতেই সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির ঘটনায় দেশের রাজনীতিতে ব্যাকবেঞ্চে চলে গেছে দলটি।

তবে নটবরের বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছে কংগ্রেস। সাবেক বিদেশমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই বুধবার বৈঠকে বসেন কংগ্রেসের উর্ধ্বতন নেতারা। দলের প্রধান মুখপাত্র অজয় মাকেন বলেছেন, ‘এটা খুবই বিরক্তিকর ব্যাপার। বই বিক্রির জন্য ইদানীং উল্টোপাল্টা কথা লিখে চাঞ্চল্য তৈরি করা একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটাও সে রকমই একটা ঘটনা। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানোও অর্থহীন।’ নটবরের দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও সোনিয়া ও প্রিয়ঙ্কা কেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সে বিষয়ে কিছু বলেনি কংগ্রেস।

এ প্রসঙ্গে নটবরের বক্তব্য হচ্ছে,‘বইটি নিয়ে কথা বলতেই এসেছিলেন সোনিয়া ও প্রিয়াঙ্কা। এটাই প্রমাণ করে আমি সত্যি বলছি।’

প্রসঙ্গত, নেহরু-ইন্দিরা জমানা থেকেই গান্ধী পরিবারের খুব কাছের মানুষ ছিলেন প্রাক্তন কূটনীতিক নটবর সিং। সেই কারণেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আমলার পদ থেকে অবসর নেয়ার পর ১৯৮৪ সালে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। রাজীবের মন্ত্রিসভারও সদস্য ছিলেন তিনি। পরে কংগ্রেস সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন।কিন্তু ইরাকের সঙ্গে তেলের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্পে নটবরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর সনিয়া-মনমোহন তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেন।

নটবরের বই নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গণে ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া পড়ে গেছে। অনেকে তো বইটিকে ‘এন বোমা’ মানে নটবর বোমা বলেও উল্লেখ করছেন। বইটি প্রকাশিত হচ্ছে আগামী সাত আগস্ট। এখন থেকেই একটু একটু করে তার আবহ তৈরি করতে চাইছেন নটবর। বুধবারের সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ফাঁস করবেন আরও কিছু নতুন তথ্য।






মন্তব্য চালু নেই