মেইন ম্যেনু

যশোরের খবর (১৬/১০/১৪)

কারাগার ক্যান্টিনে মাদক বিকিকিনির তদন্ত শুরু:
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে দূর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে।বুধবার সকাল থেকে রংপুর বিভাগের জিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বনিক তদন্ত কমিটির প্রধান এবং ব্রাম্মন বাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার গিয়াস উদ্দিন ও কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার মিজানুর রহমান সদস্য হিসেবে তদন্তে আসেন। কারাগারের সুত্রগুলো জানিয়েছেন,যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরের পুরাতন জেল ও নতুন জেলে সৃষ্ট ক্যান্টিনের কারনে মাদক পাচারসহ বহুবিধ অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইজি প্রিজন্স যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম ও দূর্নীতি খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি নির্ধারণ করেন।কমিটির প্রধান ও সদস্যরা বুধবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢুকে খুলনা বিভাগীয় ডিআইজি প্রিজন্স একেএম ফজলুল হকের অফিসে প্রবেশ করেন।ডিআইজি মহোদ্বয় তদন্ত কমিটিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে দূর্নীতির তদন্ত কাজে সহযোগীতা করেন। তদন্ত কমিটি কারাগারে অভ্যন্তরে ক্যান্টিন দূর্নীতির তদন্ত করতে কারাগারে বন্দী,কারারক্ষি ও বাইরের বেশ কয়েকজনের নিকট জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে তদন্ত কমিটির প্রধান নিশ্চিত করেছেন।ক্যান্টিনে উচ্চ মূল্যে মালামাল পিসি কার্ডের মধ্যে বিক্রিসহ কিভাবে ক্যান্টিনের মাধ্যমে কারা অভ্যন্তরে মাদক বেচাকেনা হয় সে ব্যাপারে খতিয়ে দেখছে।অপর একটি সুত্র বলেছে,কারাগারে খাদ্য গুদামে কারা সহকারী আনোয়ার দায়িত্ব পালনকালে বন্দি আসামীদের জন্য বরাদ্দকৃত ডাল প্রতিদিন বাঁচিয়ে কয়েকমাসে প্রায় ৫ কুইন্টাল অর্থাৎ ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা ঠিকাদারের মাধ্যমে গ্রহন দেখিয়ে গত ৮ অক্টোবর বিল পরিশোধ দেখিয়ে টাকা পকেটস্থ করেছেন। বর্তমানে বন্দি আসামীদের নামে বরাদ্ধকৃত ডাল খাদ্য গুদামে রয়েছে। কোন ঠিকারের মাধ্যমে গ্রহন দেখানো হয়েছে কিংবা বাজারের কোন দোকান থেকে ক্রয় করা হয়েছে খোঁজ নেয়া হলে দূর্নীতি ধরা পড়বে।কারা সহকারী আনোয়ার হোসেন দূর্নীতি কর্মকান্ড চালানোর কারনে সম্প্রতি তাকে সিলেট কারাগারে বদলী করা হয়। বদলীর আদেশ দেয়ার পর তাকে সন্তানদের লেখা পড়ার অজুহাতে রেখে দেয়া হয়েছে। অপর একটি সুত্র বলেছেন,কারাগারে নতুন আসামী প্রবেশের দিন থেকে ভিতরে ক্যান্টিনে কেনাকাটার জন্য একটি পিসি কার্ড দেয়া হয়। উক্ত পিসি কার্ডে বাইরে থেকে বন্দি আসামীদের আত্মীয়স্বজন টাকা পাঠালে সে টাকা পিসি কার্ডে উত্তোলন করা হয়। উক্ত টাকা কারাগারের এক কর্মকর্তার নিকট জমা থাকে।সুত্রটি জানিয়েছেন,পিসি কার্ডে টাকা থাকলেও অনেক সময় বন্দী হাজতী ও কয়েদী আসামী মামলা সংক্রান্ত কারনে এক জেল থেকে অন্য জেলে বদলী হয়ে যায়। আবার অনেকে বিভিন্ন মামলায় জামিন লাভ ও আবার অনেকে খালাশ পেয়ে বেরিয়ে যায়। যে সব আসামী জামিনে ও খালাস পেয়ে বাইরে চলে আসে তাদের ভিতরে ক্যান্টিনে লেনদেনের জন্য কার্ড ভিতরে থেকে যায়। উক্ত পিসি কার্ডের টাকা প্রতিদিন কারাগারের এক কর্তার নিকট জমা থাকেন।এই সব টাকা পয়সা হিসাবের জন্য কারাগারে রাফ ক্যাশ রেজিষ্ট্রার চালু রয়েছে।সুত্রটি জানিয়েছেন,বদলী,জামিন ও খালাস পাওয়া আসামীদের পিসি কার্ডের টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হওয়ার নিয়ম থাকলেও সেই টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়।সুত্রটি দাবি করেছেন,গত ১০ সেপ্টেম্বর চলতি বছরে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অন্য জেলে কিংবা জামিন ও খালাশ পাওয়া বন্দি আসামীদের পিসি কার্ড তারা যথা সময় না পাওয়ায় উক্ত পিসি কার্ডে জমাকৃত প্রায় কয়েক ৫০ হাজার টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হওয়ার কথা থাকলেও সেই টাকা জায়েজ করার জন্য গত ১০ সেপ্টেম্বর রাফ ক্যাশ রেজিষ্ট্রারে জামিন দেখানো হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে ওই দিন কোন আসামী জামিন লাভ করেনি। রাফ ক্যাশ রেজিষ্ট্রারের সাথে জামিনের রেজিষ্ট্রার খোঁজ নিয়ে ধরা পড়বে জামিন ,খালাশ ও অন্য জেলে চলে যাওয়া যাদের পিসি কার্ডের টাকা উত্তোলন করা হয়নি সে বন্দি আসামীদের পিসি কার্ডের অর্থ কিভাবে আত্মসাত করা হয়েছে।যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তদন্তে আসা কমিটির প্রধানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান,কারাগারের অভ্যন্তরে সৃষ্ট ক্যান্টিনের দূর্নীতি ও মাদক দ্রব্য কেনাবেচা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। এর বাইরে অনিয়ম ও দূর্নীতি তদন্ত পাঠের মধ্যে নাই বিধায় সে দিক আগানো যাবে না।

আলোচিত এসআই আজগর অবশেষে বদলী:
যশোর কোতয়ালি থানায় কর্মরত সিভিল টিমের মোবাইল-১৭ এসআই শেখ আজগর আলীকে দূর্নীতিসহ বহুবিধ অভিযোগে বদলী করা হয়েছে।জন স্বার্থে চৌগাছা থানায় বদলী করা হয়েছে। বুধবার সকালে কোতয়ালি থানা থেকে সিসি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সুত্রটি জানিয়েছেন।পাশাপাশি এসআই শেখ আজগর আলীর বিরুদ্ধে দূর্নীতির বেশ কিছু খবর ফাঁস হয়ে পড়েছে।পুলিশের নির্ভরযোগ্য সুত্রগুলো জানিয়েছেন,বছর দেড় পূর্বে চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে এসআই শেখ আজগর আলী বদলী হয়ে যশোর জেলায় যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর তদ্বীর করে কোতয়ালি থানায় বদলী হয়ে আসেন। কোতয়ালি থানায় বদলী হয়ে আসার পর তিনি সিভিল টিমের দায়িত্ব নেয়ার জন্য তদ্বীর করেন।জেলায় ঢুকে তদ্বীরে সফল হয়ে সিভিল টিমের দায়িত্ব গ্রহন করেন।সিভিল টিমের কোতয়ালি থানার মোবাইল-১৭ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করার পর শেখ আজগর আলী রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়েন।তিনি সিভিল টিমে দায়িত্ব পালন করলেও যশোরে আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নের জন্য তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা না গেলেও তিনি দৈনিক ১০ হাজার টাকা উপার্জনের টার্গেট নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।সুত্রটি জানিয়েছেন,কোতয়ালি থানায় সিভিল টিমের দু’টি মাইক্রোবাস ইতিপূর্বে রিকুইজিয়েশনের মাধ্যমে চলাচল করলেও এসআই শেখ আজগর আলী সিভিল টিমের নিয়মিত দায়িত্ব পালন পাওয়ার পর একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেন। দৈনিক এক সহস্রাধিক টাকা ভাড়ায় একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেন।মোবাইল-১৭ এসআই শেখ আজগর আলীর মাইক্রোবাসের জন্য শুধু মাত্র সরকারী ভাবে দৈনিক তৈল দেয়ার বিধান রয়েছে।এমনকি যে টুকু তেল দেয়া হয়। তা শেখ আজগর আলী টিমের ঘোরা ফেরার কাছে কিছুই নয়।সুত্রটি জানিয়েছেন,সিভিল টিমের শেখ আজগর আলী শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার বাবু’র (ঢাকা মেট্টো চ ৫৪-০৮৯৯)একটি মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে মাইক্রোবাসের চালক হিসেবে ওই এলাকার মিরাজ থেকে যায়। প্রতিদিন ও রাতে সিভিল টিমের এসআই শেখ আজগর আলী কিভাবে অবৈধ ভাবে অর্থ উপার্জন করেছে পাবলিক স্বাক্ষী হিসেবে মাইক্রোবাসের চালক মিরাজ ওয়াকিবহাল।সুত্রটি জানিয়েছেন,শেখ আজগর আলী রামনগর এলাকার এক ডাকাতকে ১লাখ টাকার বিনিময়ে গুলি করে পঙ্গু করেছেন।তাছাড়া,শহরের বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট হতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের শত্রুদের দমন নিপীড়ন করেছেন। এমনকি মিথ্যা মামলায় ও মাদকদ্রব্য নিয়ে নিয়মিত মামলায় চালান দিয়ে প্রতিমাসে তিনি ১০ হাজার টাকা উপার্জন করেছেন।শেখ আজগর আলী পোশাক পড়তে অভ্যস্ত নয় বিধায় সে সব সময় যেখানে চাকুরী করেন সিভিল টিমের দায়িত্ব পালন করতে যেখানে যা করার প্রয়োজন তিনি তাই করেন।পুলিশের সুত্রগুলো জানিয়েছেন,শেখ আজগর আলীর অপকর্মের এক মাত্র স্বাক্ষী তার মাইক্রোবাসের চালক পাবলিক মিরাজ ও পুলিশ লাইন থেকে ডিউটিতে আগত এসএফে’র ফোর্স।সুত্রগুলো দাবি করেছেন,এসআই শেখ আজগর আলী সিভিল টিমের দায়িত্ব পালন করলেও সাজাপ্রাপ্ত,জিআর,সিআর ও নিয়মিত মামলার আসামী আটকের কোন নজির নেই।তার শুধু একটাই ধান্ধা কিভাবে প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা উপার্জন করা যায়।কোতয়ালি থানায় সিভিল টিমের দায়িত্ব পালন করে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলে সুত্রগুলো ধারনা করছেন।পুলিশ হয়েও তিনি পুলিশিং আচারণ করতেন না বলে একটি সুত্র দাবি করেছেন।তিনি পুলিশ হয়েও সন্ত্রাসীর ন্যায় আচারণ করতো। এসআই শেখ আজগর আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ চাওয়া হলে যশোর জেলার কোতয়ালি থানা থেকে কয়েক হাজার অভিযোগ জমা পড়বে যে গুলি তদন্ত করলে পুলিশের তদন্তটিম হতবাক হয়ে পড়বেন বলে সুত্রটি দাবি করেছেন।গত ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯ টায় শেখ আজগর আলী শহরের চাঁচড়া রায়পাড়ার ইউনুচের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে যে লুটপাট করে নিজেকে বাঁচানোর জন্য হেরোইন ও ফেনসিডিল দিয়ে মামলা রুজু করেছেন এটা সকলের নিকট পরিস্কার হয়ে পড়েছেন।যার ফলে তাকে চৌগাছা থানায় বদলীর আদেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার তার বদলীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পাশাপাশি শেখ আজগর আলীর বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।অপর দিকে,কোতয়ালি থানার এসআই মাসুদুর রহমানকে কেশবপুর থানায বদলী করা হয়েছে।

যুবকের আত্মহত্যা:
যশোরে (২০) নামে এক যুবক কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছে। সে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার উলাকোল গ্রামের আনারুলের পুত্র।
মঙ্গলবার বিকেলে ইমরান পারিবারিক কলহের জের ধরে কীটনাশক পান করে। এ সময় তার বাড়ির লোকজন তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বুধবার দুপুরে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ব্যাপাওে যশোর কোতয়ালি থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত আসামী আটক:
বুধবার সকালে যশোর ক নরেন্দ্রপুর ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা অভিযান চালায়। এ সময়
সাজাপ্রাপ্ত আসামী মহাসীনকে আটক করেছে। সে যশোর সদরের পদ্মবিলা গ্রামের গোলাম ব্যাপারীর পুত্র। পুলিশ জানায় একটি মামলায় মহাসীন সাজাপ্রাপ্ত হয়। এরপর থেকে সে দীর্ঘদিন পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। বুধবার হানা দিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।

দুইচোর আটক, হেরোইন ও গাজা উদ্ধার:
যশোরে এক বাড়িওয়ালার পুত্র ভাড়াটের মালামাল চুরি করে পালাবার সময় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হচ্ছে যশোর শহরের বারান্দী পাড়ার সিরাজ খাঁর পুত্র মোহসিন ও যাগী শহরের লোন অফিস পাড়ার মুনজুর হাসান খাঁর পুত্র জুম্মান খান। এ সময় তাদেও কাছ থেকে গাজা ও হেরোইন উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে যশোর কোতয়ালি তানায় মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানায় বুধবার দুপুরে জুম্মান খান ও মোহসিন তাদের খড়কী কবরস্থান পাড়ায় ভাড়া আদায় করতে যায়। এ সময় ভাড়াটিয়ার মালামাল চুরি করে পালাবার সময় তাদেরকে আটক করে। এ সময় তাদের পকেটে থেকে দুই পুরিয়া গাঁজা ও এক পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করে।






মন্তব্য চালু নেই