মেইন ম্যেনু

মোদী-রাজ্যেও ধর্মান্তরণ, মুখে কুলুপ বিজেপির

আগরার পরে এ বার ধর্মান্তরণের আয়োজন হল গুজরাতের বলসাডে। আগরা-কাণ্ড নিয়ে সংসদে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ার পর মোদী সরকারের খাসতালুকে এমন ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছে বিজেপি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ প্রধান মোহন ভাগবতের ‘হিন্দু সমাজ’ গড়ার মন্তব্য নিয়েও কোনও কথা বলতে চাইছেন না বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।

গত শনিবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আয়োজন করা একটি অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শতাধিক মানুষকে ‘ঘর ওয়াপসি’ কর্মসূচিতে ধর্মান্তরিত করা হয় বলে খবর। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলসাডের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রেসিডেন্ট অজিত সোলাঙ্কি জানিয়েছেন, খাবার বা শিক্ষার লোভ দেখিয়ে বা জোর করে নয়, ওই পরিবারের সদস্যরা স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়েছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বলসাড শাখার প্রধান নাটু পটেল গত কালই বলেছেন, “ঘরে ফেরানোর যে কর্মসূচি শুরু হয়েছে, তার অংশ হিসেবেই আজ ২২৫ জনকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে।” আজই, কেরলের আলাপ্পুঝাতে আটটি পরিবারের প্রায় ৩০ জন সদস্যকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে বলে খবর। এ ক্ষেত্রেও ঘটনার কথা স্বীকার করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। স্থানীয় পরিষদ নেতা প্রতাপ ডি পডিক্কল দাবি করেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওই ৩০ জন স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়েছেন।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের আগরায় ধর্মান্তরণের ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বিজেপি সরকারকে। এই নিয়ে কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম দলগুলি-সহ বিরোধীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে সংসদ। এই পরিস্থিতিতে মোদীর রাজ্যেই এমন ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই অস্বস্তিতে বিজেপি। বলসাডের এই ঘটনা থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে আজ গুজরাত সরকারের মুখপাত্র নিতিন পটেল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে সরকারের কোনও যোগ নেই। তিনি বলেন, “জোর করে ধর্মান্তরণ করা হয়েছে বলে কোনও খবর আমাদের কাছে আসেনি। মানুষ ইচ্ছেমতো যে কোনও ধর্ম পালন করতেই পারেন।”

গত কালই কেরল ও পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ করেছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। অমিত সাফ জানিয়ে দেন, বিজেপি ধর্মান্তরণ সমর্থন করে না। সংসদে ধর্মান্তরণ বিরোধী বিল আনার প্রস্তাব জোরদার করে বিরোধীদের কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তিনি। তাঁর দাবি, সরকার ধর্মান্তরণ বিরোধী বিল আনতে চাইলে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির উচিত তাকে সমর্থন করা। গত কালই ভাগবত বলেছিলেন, তাঁরা শক্তিশালী হিন্দু সমাজ গঠন করতে চান। আজ, চেন্নাইয়ের এক সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহকে ভাগবতের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান। বরং এই নিয়ে দলের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়ে বিরোধীদেরই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ধর্মান্তরণ বিরোধী বিলের প্রস্তাব তুলেছেন অমিত শাহ। তিনি জানান, জোর করে ধর্মান্তরণ করানো নিয়ে তাঁদের অবস্থান সঠিক এবং হইচই করে কেউ মোদী সরকারের উন্নয়নের পথে বাধা দিতে পারবে না। পাশাপাশি, ধর্মান্তরণ রুখতে সংসদে ধর্মান্তরণ বিরোধী বিলের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। তাঁর কথায়, “যদি কেউ মনে করেন, বিভিন্ন রাজ্যে নিয়ম তৈরি করে যদি কাজ না হয়, তবে গোটা দেশের জন্য আইন তৈরি করতে হবে। সরকার ইতিমধ্যেই সংসদে সেই প্রস্তাব পেশ করেছে। বিরোধীরাই তা সমর্থন করছে না।” আজ, ভোপালের একটি সভায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া প্রশ্ন তোলেন, এক বিশেষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বিদেশে তীর্থ করতে যাওয়ার জন্য ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। বাকিরা কী পাচ্ছেন?” সঙ্ঘ প্রধান ভাগবতের শক্তিশালী হিন্দু সমাজ গঠন নিয়ে মন্তব্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিশেষত, আগরা-কাণ্ডের পর মোদীর জবাব চেয়ে সংসদ উত্তাল হলেও বিবৃতি দেননি মোদী। তার মধ্যেই হিন্দু রাষ্ট্রের কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন ভাগবত। সূত্রের খবর, ধর্মান্তরণের খবর এবং ভাগবতের মন্তব্য নিয়ে আগামীকাল সংসদে বিক্ষোভ দেখাবে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি।

কংগ্রেস নেতা মণীশ তিওয়ারির দাবি, দেশের ‘পাকিস্তানিকরণ’ করতে পারবে না আরএসএস। কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহের টুইট বলছে, “ব্যক্তিগত ভাবে ধর্মান্তরণ বিরোধী আইন নিয়ে আপত্তি নেই। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরঙ্গ দলই জোর করে ধর্মান্তরণ করছে।” প্রধানমন্ত্রীর মুখে কুলুপ আঁটার কারণ জানতে চেয়ে টুইট করেছেন রশিদ অলভি। মোদী প্রসঙ্গে সুর চড়িয়েছেন জেডি(ইউ) নেতা কে সি ত্যাগী। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য না করায় ভাগবতের মন্তব্যকে জোরদার করছে।”






মন্তব্য চালু নেই