মেইন ম্যেনু

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাবিরোধী বিক্ষোভ

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাবিরোধী (জাতিগত সংখ্যালঘু) বিক্ষোভ হয়েছে। এ বিক্ষোভে কয়েকজন বৌদ্ধ ভিক্ষুও অংশ নেন। বুধবার দেশটির সাবেক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে ওই বিক্ষোভ আয়োজন করা হয়।

আলজাজিরা জানিয়েছে, প্রায় চারশ লোক ওই বিক্ষোভে অংশ নেয়। যার মধ্যে ৪০ জন ছিলেন বৌদ্ধ ভিক্ষু। চলমান অভিবাসী সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর যে চাপ সৃষ্টি করছে তার প্রতিবাদে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছে। এছাড়া অনেক রোহিঙ্গা এখনও মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার অপেক্ষায় সাগরে ভাসছে। তাদের অভিযোগ, নির্যাতনের ভয়েই তারা বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমার ছেড়ে পালাচ্ছে।

এমন অবস্থায় জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো মিয়ানমারকে সতর্ক করে বলেছে, এর ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দেশটির প্রতি আহবান জানিয়েছে তারা।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এমন চাপের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দেশটির জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় গ্রুপগুলো ওই বিক্ষোভের আয়োজন করে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্যান্দি থিন মার ওও বলেন, মানবিক সংকটের জন্য মিয়ানমার দায়ী নয়। বিক্ষোভকারীদের সামনে লাউডস্পিকারে চিৎকার করে তিনি বলেন, ‘ওইসব লোক (রোহিঙ্গা) মিয়ানমারের নয়।’

অবর্ণনীয় মানবিক সংকটের মূল হোতা হিসেবে মিয়ানমারকে দায়ী না করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানান তিনি। স্যান্দি বলেন, ‘মিয়ানমারকে এককভাবে দায়ী করবেন না। মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন না।’ এ সময় বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের তিনি তার সঙ্গে স্লোগান দিতে উৎসাহিত করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ভিক্ষু ইউ উইন হলান থ বলেন, মিয়ানমারের সত্যিকার নাগরিকদের পক্ষে তার সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ওইসব লোক আমাদের কেউ নয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যা প্রচার করছে তা সবই ভুল।’ তাদেরকে কখনও গ্রহণ করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের পরিহিত টি-শার্টে লেখা ছিল-নৌকায় উদ্ধার হওয়া লোকরা মিয়ানমারের নয়। তাদের দায়-দায়িত্ব নেওয়া মিয়ানমারের উচিত নয়।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের অভিযোগ রোহিঙ্গা মুসলমানরা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে দেশটিতে গেছে। তাই তাদের রোহিঙ্গা বলতে নারাজ দেশটি। এর পরিবর্তে মিয়ানমার সরকার তাদের পরিচয় দেয় ‘বাঙালী’ হিসেবে। যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সহজেই তাদের বাংলাদেশে পাঠানো যায়।






মন্তব্য চালু নেই