মেইন ম্যেনু

‘মাদ্রাসা সমকামীদের আখড়া, নিষিদ্ধ করা হোক’

ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়াসিম রাজা বলেছেন, ‘মাদ্রাসা অনাচার ও সমকামীদের আখড়া। মাদ্রাসা নিষিদ্ধ করা হোক। তার এই মন্তব্যে ভারত জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক খবরে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষক ওয়াসিম রাজা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একটি গ্রুপে আপাল-আলোচনার সময় ক্ষুদে বার্তায় একথা বলেছেন, যা পরে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে পাঠান তিনি। ক্ষুদে বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘মাওলানারা এই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত।’

তিনি আরো বলেন, ‘তখনই মুসলিম তরুণদের ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন হবে, যখন তাদের কল্যাণে মাদ্রাসা নিষিদ্ধ করা হবে।’

তার এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে বুধবার আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বেফাঁস মন্তব্যের জন্য তার পদত্যাগ ও উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষুদে বার্তায় ওয়াসিম রাজা লিখেছেন, ‘আমরা চাই মাদ্রাসা উঠে যাক… যেখানে সমকামিতা হয় অবাধে…মাওলানারা এ কাজের সঙ্গে যুক্ত।’

আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন দশক শিক্ষকতা করছেন ওয়াসিম রাজা। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো কথা বলিনি আমি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে আমি কয়েকটি সার্ক সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। আমি এই সম্প্রদায়ের পুনর্গঠনের কথা বলেছি। মাদ্রাসা কি সমাজের অংশ নয়? এর অর্থ এই নয় যে, আমি ওই রকম কথা বলেছি। আমার ফোন হ্যাক হয়েছিল এবং এখন ওই চ্যাট গ্রুপ আমি ব্লক করে দিয়েছি।’

ওয়াসিম রাজা তার মন্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করলেও মুসলিম সম্প্রদায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে ভর্ৎসনা করা হচ্ছে।

এদিকে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক দাবি করেছেন, ওয়াসিম রাজা ওই গ্রুপে চ্যাট করার সময় তিনিও ছিলেন তাদের সঙ্গে। সেটি ছিল রাজার ব্যক্তিগত মত। সে সময় আমি তাকে মেসেজে জানাই, ‘মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে আপনার। কিন্তু আপনি যা বলছেন তা ধারণাবশত, কোনো যুক্তি নেই। এর মাধ্যমে আপনি এই সম্প্রদায়কে শক্তিশালী নয়, দুর্বল করছেন।’

অধ্যাপক ওয়াসিম রাজার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আপনার মতো লোক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ডোবাচ্ছে। আল্লাহ আপনাকে চিন্তা করার শক্তি দিয়েছেন। সুতরাং কথা বলার আগে ভেবে চিন্তে নিন।’

আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফা জাইদি বলেছেন, ‘কী বলা উচিত, তা আগেই ‘হিসাব করা’ দরকার ছিল ওই শিক্ষকের। এ ধরনের বক্তব্য আস্থা নষ্ট করে এবং এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

রশিদ সাজ নামে এএমইউ-এর একজন পরিচালক ওয়াসিম রাজার বক্তব্যের ভর্ৎসনা করে বলেছেন, ‘মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট সংস্কৃতিমান এবং তাদের মধ্যে নৈতিক মানদ- আছে। তাদেরকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে অবশ্যই সাক্ষ্যপ্রমাণ দেখানো উচিত।’

বিতর্কিত মন্তব্য করায় এই শিক্ষকের কী শাস্তি হচ্ছে বা আদৌ হচ্ছে না, তা এখনো জানা যায়নি। রাহাত আবরার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘উপাচার্য বাইরে আছেন। তিনি ফিরে এলেই যা সিদ্ধান্ত হওয়ার হবে।’

উল্লেখ্য, ভারতের উত্তর প্রদেশের আলিগড়ে উপমহাদেশের বিখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ স্যার সৈয়দ আহমদ খান ১৮৭৫ সালে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য মোহামেডান অ্যাঙলো-অরিয়েন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই কলেজই এখনকার আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।






মন্তব্য চালু নেই