মেইন ম্যেনু

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের কাছে কোণঠাসা হচ্ছে পাকিস্তানি শ্রমিকরা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছে জায়গা হারাচ্ছে পাকিস্তানি শ্রমিকরা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি ও ভারতীয় শ্রমিকদের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে পাকিস্তানি শ্রমিকরা; যার ধাক্কা লাগছে দেশটির অর্থনীতিতে।

স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান জানিয়েছে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে দেশটির রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ২ শতাংশ পতন হয়েছে। পতনের এ তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পাকিস্তানি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে।

সোমবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অনিশ্চয়তা বিরাজ করায় নয় বরং ব্রেক্সিটের ফলে টালমাটাল যুক্তরাজ্য ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোতেও অস্থিতিশীলতা বিরাজ করায় পাকিস্তানি প্রবাসীদের অর্থ স্থানান্তরের পতন আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান বলছে, জিসিসিভুক্ত দেশগুলো থেকে পাকিস্তানের রেমিট্যান্স পরিমাণ কমেছে। সৌদি আরব থেকে কমেছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। একইভাবে কমেছে আরব আমিরাত থেকেও। দেশটি থেকে ২.৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.৮ বিলিয়ন ডলারে। এছাড়া উপসাগরীয় অন্য দেশগুলো থেকে কমেছে ১.৭ থেকে ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার।

দেশটির এই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাকিস্তানের মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৯.৯ বিলিয়ন ডলার। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে পাকিস্তানি প্রবাসীদের অবদান দেশটির মোট রেমিট্যান্সের ৬৫ শতাংশ। পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।

বিশ্ববাজারে তেল ও রাসায়নিক পদার্থ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতিতে ধাক্কা লেগেছে। ইয়েমেন যুদ্ধ ও তেহরানের সঙ্গে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এসব দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে লড়াই করছে জিসিসি রাষ্ট্রগুলো। বিশ্বের ৪৫ শতাংশ তেলের মজুদসহ সৌদি আরব একাই ৩৭ শতাংশ তেল সরবরাহ করছে বিশ্ববাজারে। সৌদি ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়নে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করেছে সৌদি আরব।

ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যতার দিকে এগিয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চাকরির বাজারে পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। ফলে এসব দেশে নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী ও আধা-দক্ষ টেকনিশিয়ানের প্রয়োজন হবে না। পাকিস্তান, ভারত, মিসর, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের পরিবর্তে আধুনিক যন্ত্রপাতি, রোবট ও অটোমেটেড টেলার মেশিন ব্যবহার করবে জিসিসির দেশগুলো।

গত দশকে সস্তা এবং ভালো প্রশিক্ষিত বাংলাদেশি ও ভারতীয় শ্রমিকদের কাছে জায়গা হারিয়েছে পাকিস্তানি শ্রমিকরা। তবে এজন্য পাকিস্তানি শ্রমিকদের অলস মনোভাবকে দায়ী করেছে মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামাবাদ দূতাবাসগুলো। কয়েক বছর আগে কুয়েত পাকিস্তানি শ্রমিকদের নিষিদ্ধ করেছে। যেখানে বাংলাদেশি ও ভারতীয় শ্রমিকদের নিয়োগ এখনো অব্যাহত রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই