মেইন ম্যেনু

মক্কায় রমজানের ৩ দিনে ইফতারি বর্জ্য ৫ হাজার টন

রোজার ইফতার তথা খাদ্যবর্জ্যে ঢেকে গেছে মক্কা নগরী। পবিত্র রমজান মাসের প্রথম তিন দিনে পাঁচ হাজার টন বর্জ্য জমেছে ওই নগরীতে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী সৌদিবাসীরা রমজানের খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটায় ২০ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল খরচ করে থাকে।

শুক্রবার আরব নিউজের এক সংবাদে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মক্কা নগর কর্তৃপক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার আরব নিউজকে জানায়, এসব বর্জ্যের মধ্যে রমজানের দুই দিনে জবাই করা ২৮ হাজার মেষের বর্জ্য যোগ হয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষ রমজানের জন্য মধ্য মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদেরে কাছে ৪৫টি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যন্ত্র বসিয়েছে এবং আট হাজার পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগ করেছে।

রমজানের শুরুতে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, রমজান মাসে জমা হওয়া বর্জ্যের শতকরা ৪৫ ভাগ হচ্ছে উচ্ছিষ্ট খাদ্য। মন্ত্রণালয়টি এও জানায়, এসব খাদ্যের ৮০ ভাগ অস্বাস্থ্যকর।

কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সৌদি আরবে প্রতিদিনের খাদ্যবর্জ্যের পরিমাণ সাড়ে চার হাজার টন। গবেষণায় দেখানো হয়েছে, রমজানে প্রতিদিন তৈরি হওয়া চার মিলিয়ন ইফতারির থালার মধ্যে ৩০ ভাগ বর্জ্য হিসেবে ফেলা হয়। এর আর্থিক পরিমাণ ১.২ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল। সমাজ বিজ্ঞানীরা এ অপচয়কে অগ্রহণযোগ্য আচরণ বলে অভিহিত করেছেন।

সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খাদ্য আমদানিকারক। একই সঙ্গে সবচেয়ে বাজে অপচয়কারী দেশও।

মিউনিসিপ্যালিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ শীর্ষস্থানীয় পরিচ্ছন্ন কোম্পানির একজন ভারতীয় সুপারভাইজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রমজানের এই খাদ্যবর্জ্য সংগ্রহ বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কষ্টসাধ্য কাজ।’

এ পরিস্থিতিতে দেশটির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মিনিস্ট্রি বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জনসাধারণকে ইফতারির জন্য হালকা খাবার তৈরি করতে বলেছে। এছাড়া দেশটির কাসিম মিউনিসিপ্যালিটি বুরাইদে খাদ্যবর্জ্য দিয়ে জৈব সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যেখানে রমজানেই ২৪ হাজার টনেরও বেশি খাদ্যবর্জ্য উৎপন্ন হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনগণ রমজানে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাদ্য ক্রয়ে মনোযোগী। দেশটির অনেক লোকে এই পবিত্র মাসে খাদ্যের জন্য বেশিমাত্রায় দান করে থাকে। এগুলো বর্জ্যে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশটিতে খাদ্যবর্জ্যের পরিমাণ ১.৩ বিলিয়ন টন, যা আর্থিক পরিমাণে ২.৮ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল।






মন্তব্য চালু নেই