মেইন ম্যেনু

ভয়ংকর ‘পেরেক গোলা’ মারছে ইসরায়েল

যেকোনো সময় পেরেকগুলো ছুটে এসে চোখ, মুখ, মাথায় কিংবা অন্য যেকোনো জায়গায় লাগতে পারে। এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিতে পারে হৃৎপিণ্ডটাও। এরপর যন্ত্রণাকাতর মৃত্যুর প্রহর গোনা। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ছোড়া বিস্ফোরক বোমার পাশাপাশি পেরেক ভর্তি ফ্লেশেট গোলার আঘাতে এই করুণ মৃত্যুই ‘বরণ’ করতে হচ্ছে গাজাবাসীকে।

এমন অস্ত্র ব্যবহারের কথা ইসরায়েল অস্বীকার তো করেইনি, উল্টো দাবি করেছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন আর সশস্ত্র যুদ্ধের নিয়ম মেনেই অস্ত্রটি ব্যবহার করছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ যুক্তিতে ছুড়ে চলেছে ফ্লেশেট গোলা। গোলায় ব্যবহৃত পেরেকগুলো বিষাক্ত, এমন সন্দেহও করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বি’সেলেম জানিয়েছে, সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর বিরুদ্ধে ফ্লেশেট গোলা ছোড়া হয় ট্যাংক থেকে। ছোড়ার পর গোলাটি বায়ুমণ্ডলে বিস্ফোরিত হয়ে হাজার হাজার ধাতব পেরেক ছুটে যায় চারদিকে। প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ ও ৯০ মিটার প্রশস্ত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে পেরেকগুলো। একেকটা পেরেক পৌনে চার সেন্টিমিটার লম্বা।

মানবাধিকার সংগঠনটি আরো জানায়, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসারে এই অস্ত্র নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু অন্যান্য মানবিক আইন অনুসারে গাজায় এর ব্যবহার অবৈধ। অন্যতম একটি মৌলিক নীতি হলো, শুধু শত্রুপক্ষের যুদ্ধরত সৈনিকদের বিরুদ্ধে অস্ত্রটি ব্যবহার করা যাবে। এর বাইরে অন্য কেউ এই অস্ত্রের আঘাতে যাতে আহত না হয়, সে ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আছে।

আন্তর্জাতিক এই আইনের বিপরীতে ইসরায়েলের উচ্চ আদালত ২০০২ সালে দেশটির সেনাবাহিনী কর্তৃক ফ্লেশেট গোলার ব্যবহার বৈধ ঘোষণা করে। ইসরায়েলি সেনা সূত্র জানায়, গাছপালা ঘেরা স্থানে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে বেশ কার্যকর এই ফ্লেশেট গোলা। শুধু যে তারাই এটা ব্যবহার করে তা নয়। বিশ্বের অনেক দেশের সেনাবাহিনী এটি ব্যবহার করে। সবাই আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কেবল শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে অস্ত্রটি কাজে লাগায়।

ইসরায়েল যে গাজায় এই প্রথমবার ফ্লেশেট গোলা হামলা চালাচ্ছে, তা নয়। এর আগেও গাজায় এবং লেবাননে ইসরায়েল এমন হামলা চালিয়েছে। ২০০১-০২ সালে গাজায় ৯ জন এই গোলার আঘাতে নিহত হওয়ার তথ্য রয়েছে বি’সেলেমের কাছে। লেবাননেও হতাহতের সংখ্যা কম ছিল না। এ ছাড়া ২০০৮ ও ২০০৯ সালে গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি কামান থেকে ছোড়া শ্বেত ফসফরাসে বহু মানুষ দগ্ধ হয়ে নিহত হয়। প্রথম দিকে শ্বেত ফসফরাস ব্যবহারের কথা অস্বীকার করলেও পরে ইসরায়েল বলে, তারা স্রেফ ধোঁয়া সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সেটি ব্যবহার করেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, ইসরায়েলের নির্বিচার ওই হামলা তাদের যুদ্ধাপরাধের সাক্ষী। এ ব্যাপারে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ইসরায়েল কোনো বসতিতে আর শ্বেত ফসফরাস ব্যবহার না করার অঙ্গীকার করে। তারা কেবল দুটি ক্ষেত্রে ওই অস্ত্র ব্যবহার করার কথা বলে। তবে সেই দুটি ক্ষেত্র যে কী, তা আর স্পষ্ট করেনি ইসরায়েল। সূত্র : গার্ডিয়ান।






মন্তব্য চালু নেই