মেইন ম্যেনু

বরিশালের ভেঙ্গে পড়া তিনটি ব্রীজ সংস্কার হয়নি তিন বছরেও

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়ার বাইলাখারী, আগৈলঝাড়ার জোবারপাড় ও গৌরনদীর সরিকল হাটের জনগুরুত্বপূর্ণ তিনটি ব্রীজ ভেঙ্গে পড়ার তিনবছর পরেও সংস্কার কিংবা পূনঃনির্মান করা হয়নি। ফলে ওইসব এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার বাসিন্দাদের প্রতিদিন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই।

সূত্রমতে, চরকাউয়া ইউনিয়নের বাইলাখারী খালের উপরের ব্রীজটি গত তিন বছর পূর্বে ভেঙ্গে পড়ায় প্রতিদিনই খালের দু’পার্শ্বের দুইটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ জনসাধারনকে পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহাবুব হোসেন জানান, বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কলাগাছের ভেলায় শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা পারাপার হতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় অসংখ্য দূর্ঘটনা।

তিনি আরও জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি পূঃননির্মানের জন্য একাধিকবার সরকারের সংশ্লি¬ষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেও কোন সুফল মেলেনি। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুর রউফ মিয়া বলেন, চেয়ারম্যানদের কাছে খবর পেয়ে আমি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবে খুব শীঘ্রই ব্রীজটি পূনঃনির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আগৈলঝাড়ার জোবারপাড় ব্রীজ ॥ আগৈলঝাড়া-পয়সারহাট খালের জোবারপাড় বাজার সংলগ্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি গত তিন বছর থেকে ভেঙ্গে পড়ে যানবাহনসহ জনসাধারণের চলাচল বন্ধ হয়ে রয়েছে। ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহনসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও জনসাধারন চলাচল করতেন। ব্রীজটি ভেঙ্গে পরার পর থেকে অদ্যবর্ধি সংশ্লি¬ষ্ট দপ্তর থেকে সংস্কার কিংবা পূনঃনির্মানের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রতিদিনই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও জনসাধারনের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি জানান, জেলা পরিষদ থেকে ১০ বছর পূর্বে ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মান করা হয়েছিলো। তিনি আরও জানান, ব্রীজ নির্মানের শুরুতেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিন্মমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার এ ব্রীজটি নির্মান করায় ব্রীজটি ধ্বসে পড়েছে। বিষয়টি সংশ্লি¬ষ্ট জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের জানিয়েও কোন সুফল হয়নি।

গৌরনদীর সরিকল হাটের ব্রীজ ॥ সরিকল-আগরপুর খালের সরিকল হাটের মধ্যকার ব্যস্ততম ব্রীজের গোঁড়ার একটি অংশ গত সাড়ে তিন বছর পূর্বে ধ্বসে পরেছে। ধ্বসে পড়া অংশে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাঁশের সাকো নির্মান করে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাতায়াত করলেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন মিলন বলেন, ওই ব্রীজটি দিয়ে প্রতিদিন সরিকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় শত শত বাসিন্দারা পারাপার হতে গিয়ে বিকল্প বাঁশের সেতুতে দূর্ঘটনার স্বীকার হতে হচ্ছে। জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি সংস্কারের জন্য একাধিকবার উপজেলা উন্নয়ন সভায় উপস্থাপন করেও কোন প্রতিকার মেলেনি।

চরকাউয়া, জোবারপাড় ও সরিকল হাটের তিনটি ব্রীজ ভেঙ্গে পড়ায় জনদূর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ব্রীজ সংস্কার ও পূনঃনির্মানের জন্য ইতোমধ্যে বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই