মেইন ম্যেনু

কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

ফ্রি পলিব্যাগ পেতে ফোন করুন ডিএসসিসিকে

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল আজহায় জবাই করা পশুর বর্জ্য অপসারণে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এসব উদ্যোগের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য নিজস্ব কর্মী বাহিনীর দ্বারা নগরবাসীকে ফ্রি পলিব্যাগ সরবরাহ, কোরবানির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নগরীকে দূষণমুক্ত করা, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব বর্জ্য অপসারণ করা অন্যতম। বর্জ্য অপসারণে সাহায্য পেতে ডিএসসিসির কন্ট্রোল রুমে ফোন করতে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা।

নগরভবনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে এসব উদ্যোগের কথা জানান ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকার্তা ক্যাপ্টেন মো. রাকিব উদ্দিন ভুঁইয়া।

ক্যাপ্টেন রাকিব উদ্দিন বলেন, ‘ঈদ-উল-আজহায় নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিবছরের মতো এবারো নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঈদে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।’

তিনি জানান, নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সংস্থার পাঁচ হাজার দুইশত পরিচ্ছন্ন কর্মীর পাশাপাশি অতিরিক্ত আরো চার হাজার শ্রমিক কাজ করবে। এজন্য অতিরিক্ত ১২০টি ট্রাক এবং ঈদের পূর্ব রাতে আরো ১৭টি ট্রাক নিয়োজিত থাকবে। একই সঙ্গে পিসিএসপির (ভ্যান সার্ভিস) প্রায় দুই হাজার চারশ কর্মী ছয়শ ভ্যানগাড়ির সাহায্যে বাসা-বাড়ি থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজে নিয়োজিত থাকবে। বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কাজের জন্য পাঁচশ ২০টি নতুন হাতগাড়ি প্রতিটি ওয়ার্ডে সরবরাহ করা হয়েছে। ঈদের আগেই ৫০টি নতুন কনটেইনার বক্স ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরো জানান, পশুর হাট বসানোর দিন থেকে হাটসমূহ পরিষ্কার করে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হবে। এর পর দুর্গন্ধ দূর করতে দূষিত স্থানগুলো সুগন্ধিযুক্ত পানি স্প্রে করা হবে। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ভ্যানগাড়িতে করে স্যাভলন মিশ্রিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ক্যাপ্টেন রাকিব জানান, দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য পর্যাপ্ত ভ্যান সার্ভিসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এজন্য পাঁচটি পে-লোডার, সাতটি টায়ার ডোজার, তিনটি এসকেভেটর, তিনটি চেইন ডোজার, ২৫টি ডাম্পার, পাঁচটি পানির গাড়ি, চারটি ট্রেইলর, দুটি প্রাইম মোভার পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত থাকবে।
একই সঙ্গে ঈদের দিন সকাল থেকে ডিএসসিসির পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার তিনটি পানিবাহী গাড়ি ধোয়ার কাজে নিয়োজিত থাকবে।

তিনি আরো জানান, কোরবানির পশুর নাড়ি-বুড়ি বা বর্জ্য অপসারণের জন্য বিশেষ ধরনের ২৫ হাজার পলিমার ব্যাগ ফ্রি সরবরাহ করা হবে। নগরবাসী এসব ব্যাগ ভর্তি করে জবাইকৃত কোরবানির পশুর বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে রাখবে। সেখান থেকে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কর্মীরা সেসব বর্জ্য অপসারণ করে নিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, ‘কোরবানির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নগরীকে দূষণমুক্ত ও ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব বর্জ্য অপসারণ করার জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা রয়েছে।’

প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরো জানান, কোরবানির পশু জবাইয়ের নিয়মকানুনের বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন করার লক্ষ্যে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করে মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে লিফলেট/স্টিকার বিতরণ করা হবে। প্রতিটি পশুর হাটে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। এসব কাজ মনিটরিং করার জন্য প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকার্তার নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা জানান, ডিএসসিসির বর্জ্য অপসারণে সাহায্য পেতে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, যার টেলিফোন নম্বর ০৯৫৫৬০১৪। এছাড়া নগরীর পাঁচটি অঞ্চলে বর্জ্য অপসারণের জন্য যে কোনো সহযোগিতা পেতে নিচের নম্বরগুলোতে ফোন করতে অনুরোধ জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

অঞ্চল-১ (ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, নিউমার্কেট, মন্ত্রীপাড়া, সেগুনবাগিচা ও পরীবাগ) ০১৭১২৫৯২১২৬। অঞ্চর-২ (খিলগাঁও, বাসাবো, মতিঝিল, কমলাপুর ও মালিবাগ) ০১৯৩৭৬৯১৬৩৯। অঞ্চল-৩ (লালবাগ, হাজারীবাগ, আজিমপুর, ঝিগাতলা ও কামরাঙ্গিরচর) ০১৯১১৭০৯৮৭৮। অঞ্চল-৪ (নয়াবাজা, সিদ্দিকবাজার, লক্ষ্মীবাজার ও সূত্রাপুর) ০১৭১১৬৯৭৫৭। অঞ্চল-৫ (সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, দয়াগঞ্জ ও গেন্ডারিয়া) ০১৭১২২৯৩১৮৬।






মন্তব্য চালু নেই