মেইন ম্যেনু

ফিরে আসছে জিয়ৎ কুণ্ডু

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মিথে আহত-নিহত মানুষের পুনরুজ্জীবিত জীবিত হয়ে ফিরে আসার গল্প চালু আছে। যেমন ভাইকিংসদের বিশ্বাস, যুদ্ধে নিহত যোদ্ধাদের তাদের নির্মিত স্বর্গের দ্বারপ্রান্তে রেখে দিলে তারা সুস্থ হয়ে যায়। তেমনি বাংলাদেশের মহাস্থানগড়ের এমনি এক কুয়া হলো জিয়ৎ কুণ্ডু। যে কুয়াকে কেন্দ্র করে মিথ চালু ছিল যে, এই কুয়ায় আহত বা নিহতদের ফেলে দিলে তারা পরবর্তীতে জীবিত হয়ে ফিরে আসে। কিন্তু বর্তমান আধুনিক প্রাযুক্তিক দুনিয়ার এই সব মিথের কোনো বাস্তবিক ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনে এমন একটি ডিভাইস তৈরি করেছে, যে ডিভাইস যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈন্যদের ক্ষত সারিয়ে তুলবে নিমিষেই। আর ক্ষত সারতেই আবারও বন্দুক হাতে গুলি করবে শত্রু সেনার উদ্দ্যেশে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা এই ডিভাইসটির নাম দিয়েছে ‘ইনজেকটেবল ফোম’। এই ফোম আহত সৈন্যের রক্তপাত বন্ধ করবে মুহূর্তেই।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই দেখেছেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রে আহত ব্যক্তি রক্তশূণ্য হয়ে মারা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যরা ঘাড় এবং কাধে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। যেখানে রক্তপাত থামানো খুব কষ্টকর। এরকম বিভিন্ন সমস্যার কথা মাথায় রেখে, জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ছাত্র সিডনী রুনির তত্তাবধানে একটি গবেষক দল এই প্রকল্পের কাজ করে। তাদের আবিস্কৃত ফোম ক্ষতস্থানের রক্ত বন্ধ করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ক্ষতের কারণে যে টিস্যুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলোকে পুণরায় তৈরিতেও সহায়তা করবে।

রুনি জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের বাঁচানোর সবচেয়ে বড় কাজটিই হলো তাদের রক্তপাত বন্ধ করা। রক্তপাত বন্ধ করা গেলে আহতকে সারিয়ে তোলা সম্ভব। এক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হলো, গুলিতে যদি হাড় অথবা নার্ভ সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে এটা সবসময় কাজ নাও করতে পারে। আমরা এই ফোমটির উন্নয়নে আরও কাজ করছি। আশা করছি পরবর্তীতে শরীরের যেকোনো স্থানের ক্ষত নিরাময়ে এই ফোম ভূমিকা পালন করবে।

গবেষক দলের অপর সদস্য আ্যালি সানজি জানান, এই ফোমটি ক্ষতের মধ্যিখানে প্রবেশ করে টিস্যুগুলোর মাঝে একটা প্রাথমিক দেয়াল তৈরি করবে, যা রক্তপাত বন্ধ করবে। একই সঙ্গে পেশিকে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটা শক্ত করে ফেলবে, যাতে আহতের শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।






মন্তব্য চালু নেই