মেইন ম্যেনু

প্রিয় নেত্রী! যে কথা আপনায় বলিবেনা কেউ !

সালাম ও শুভেচ্ছা ! প্রিয় নেত্রী, কিছু কথা অকপটে বলার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বিশ্বাস আমার মতো বেহিসেবী নির্বোধ লোক আপনার দলে দ্বিতীয়টি নেই। তাই হয়তো অবোধের মতো বলেই যাচ্ছি গত ৬/৭ বছর ধরে। মাঝে মধ্যে নিজেকে যে প্রশ্ন করিনি তা নয়। বহুবার ভেবেছি কেনো আমি এত্তোসব বলতে যাই বা কি কারণে এত্তোসব লেখালেখি। পরে সান্তনা পাই এই ভেবে যে- আমার আপত্তি বা সমালোচনা কিংবা আবেদন সমূহ তো সবই বাস্তবায়িত হয়েছে। কাজেই আমি আমার কর্ম করেই যাবো। ইংরেজীতে একটি প্রবাদ রয়েছে যার বাংলা অর্থ হলো- যেখানে শয়তান কিংবা ফেরেশতারা যেতে ভয় পায় – বোকারা সেখানে চলে যায় নির্দিধায়। আমি হয়তো ওমন প্রকৃতির বোকা নই। আমি যা করি বা বলি তা আপন বিশ্বাস ও ভালোবাসার বোধ ও বুদ্ধি থেকেই বলি।

অতীতে আমি আপনাকে অনেক কথা বলেছি এবং আগামীতেও বলবো। আমার এই অধিকার আমি নিজেই সৃষ্টি করেছি বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রগাঢ় শ্রদ্ধা, অনুরাগ এবং তাঁর আওলাদগণের প্রতি প্রবর মমত্ব এবং ভালোবাসার স্বোপার্জিত বন্ধনের কারণে। আমি আপনাকে সব কথা বলতে পারি কারণ আমি যে আপনায় ভালোবাসি। আপনি আমার হৃদয় থেকে প্রার্থনায় চলে আসেন এবং অশ্র“জলে বিধাতার নিকট আপনাকে সমর্পনের সময় কেবলই আপনার মঙ্গল কামনা করি। আমি আপনার নিকট পদ পদবী, অর্থকড়ি, সহায় সম্বল, স্বার্থ-কিছুই চাইনা এবং চাইবোও না। কোনদিন আপনার আঙ্গিনার সদর দরজা অতিক্রম করবো না- তবে দরজার সামনে ময়লা আবর্জনা দেখলে চোখ মুখ বুজে থাকতে পারবো না।

প্রিয় নেত্রী! আপনি কি আপনার বয়সের দিকে একবারও নজর দিয়েছেন! প্রকৃতির নিয়মে আপনি আর কতোদিন কর্মোক্ষম থাকতে পারবেন তা কেবল আল্লাহ পাকই জানেন । আমরা চাই শতবর্ষের কর্মোক্ষম আয়ু। তারপরও আমাদের দরকার আপনার একজন উত্তরাধিকারী। আমরা জানিনা কে হবেন আগামী দিনে আপনার প্রতিনিধি। আপনি দয়া করে ঘোষণা দিন। এতে করে দল শক্তিশালী হবে এবং আপনার উত্তরাধিকারী তার সকল সাধ এবং সাধ্য নিয়ে দেশ ও জনগণের জন্য চেষ্টা করতে পারবেন । আপনি যদি ইন্দিরা গান্ধীকে অনুসরন করতে চান তবে তা হয়তো সবদিক থেকেই হবে মঙ্গল জনক। ইন্দিরাজী কিন্তু সঞ্জয় এবং রাজীব উভয়ের জন্যই নির্ধারন করে দিয়েছিলেন কারা হবেন তাদের রাজনৈতিক সহচর, বিনোদন বন্ধু, পরামর্শ দাতা এবং সাহায্যকারী। ইন্দিরাজী তাঁর জানামতে সুশিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত, মেধাবী, চরিত্রবান, প্রজ্ঞাবান এবং ইতিবাচক পাবলিক ইমেজ রয়েছে এমন সব যুবকদেরকে ডেকে কথা বলেছেন। তাদের কেউ হয়তো ব্যবসায়ী অঙ্গনের সফল তারকা, কেউ বা সাংবাদিক, অনেকে চলচিত্রের মহাতারকা, কেউ কেউ নামকরা অধ্যাপক, কিংবা সাহিত্যিক এসকল যুবকগণের মধ্যে যাদের সহজাত রাজনৈতিক নেতৃত্ব গুন রয়েছে, রয়েছে রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং আগ্রহ এবং যারা জীবনের বোধবুদ্ধি অর্জনের পর থেকে কংগ্রেসের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেছেন তাদেরকে ডেকে আলাদা আলাদাভাবে কথা বলেছেন। তারপর নিজের ছেলের চরিত্র, অভ্যাস, মনোভাব এবং মেধার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন। যদি মোটামুটি সামঞ্জস্য দেখতে পেতেন তবেই দ্বিতীয় স্তরে যেতেন।

দ্বিতীয় পর্বে তিনি তাঁর ছেলেদের পরিবারের সঙ্গে ঐ সকল যুবকদের পরিবারের পরিচয় করিয়ে দিতেন এবং দুরতম নিভৃত পল্লীতে কয়েকদিন ভ্রমন করিয়ে আনতেন । গোয়েন্দা বাহিনীর লোকজন নিবিড় পর্যবেক্ষন করতে গিয়ে যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখতেন তা হলো যুবকগণের পরিবারের সঙ্গে সঞ্জয় কিংবা রাজীবের পরিবারের সদস্যদের কিরূপ মিল মহব্বত হচ্ছে ? যুবকগণ কিংবা তার পরিবারের সদস্যগণ কি অতিরিক্ত ভক্তি শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে বন্ধু হবার পরিবর্তে ভৃত্য হবার চেষ্টা করছেন কিনা? অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রগণ কি লোকজনকে বন্ধু বানাতে চাচ্ছেন নাকি অনুগত মোসাহেব বা ভৃত্য বানানোর চেষ্টা করছেন ? ভ্রমনকালীন সময়ে কাফেলার লোকজনের খাওয়া দাওয়া, বিশ্রাম, স্বার্থপরতা কিংবা স্বার্থহীনতা, দায়িত্ববোধ, কর্তব্যপরায়নতা, পোশাক পরিচ্ছদ, নেতৃত্বগুন, কাজ করার মানষিকতা পর্যবেক্ষন করা হতো। আরো পর্যবেক্ষন করা হতো- তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু। তারা কি দেশ নিয়ে কিছু ভাবছে নাকি কেবল নিজের স্বার্থ, আনন্দ ফ’র্তি ইত্যাদি নিয়েই ব্যাস্ত ?

দ্বিতীয় পর্বের গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে ইন্দিরাজী তৃতীয় পর্বে প্রবেশ করতেন। যাদেরকে মনোনীত করা হতো তাদেরকে এমন গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব দেয়া হতো যাতে করে যুবকগণ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ পেতেন। তারা দিনরাতের যেকোন সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা বাসভবনে ঢুকতে পারতেন কোন রকম পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে। আপনি শুনে অবাক হবেন যে, ইন্দিরাজীর মনোনীত সেই সব পরিবারই আজ কংগ্রেসের মূল শক্তি। তারাই আজ ভারতের চলচিত্র, ভারতের ব্যবসা এবং সংবাদপত্র শিল্পের চালিকা শক্তি । একজন লোকও গত ৩৫ বছরে কংগ্রেস ছেড়ে যায়নি । তাদের কারুর জন্য কংগ্রেস বা নেহেরু পরিবারকে বদনামীর শিকার হতে হয়নি। বরং তারা আপন কর্ম মহিমায় পুরো ভারতবর্ষকেই পৃথিবীর বুকে তুলে ধরছেন। কংগ্রেসতো বটেই- ভারতবর্ষও তাদেরকে নিয়ে গর্ব করে।

মাননীয় নেত্রী ! আপনি কি ইন্দিরাজীর মতোন করে কিছু একটা শুরু করেছেন নাকি করবেন? ইন্দিরাজীর দ্বিতীয় পদক্ষেপ ছিলো সাংবাদিক মনোনয়ন। তিনি তথাকথিত চাপাবাজ, চরিত্রহীন, বদনামীর দূর্গন্ধযুক্ত দলীয় সাংবাদিকদেরকে সব কিছু থেকে দুরে রাখতেন। যারা ইউনিয়ন করতো তাদের বেশিরভাগই ভালো কোনো পত্রিকার সাংবাদিক হতো না । এসব লোকেরা দু’কলম লিখতেও জানতো না। তারা যদি কংগ্রেসের পক্ষে কোন কিছু বলতো বা লিখতো তবে জনমত বিরুদ্ধে চলে যেতো। এরা যেখানে উপস্থিত হতো সেখানে ২/৪ টা গন্ডগোল না বাঁধিয়ে ঘরে ফিরতো না । এরা দম্ভ করতো, বড় বড় কথা বলতো এবং ভাব দেখাতো তারা দুনিয়ার সকল কিছু জানে। কিন্তু বোমা মারলেও পেট থেকে দু’কলম বিদ্যে কিংবা মাথা থেকে একটুখানি সুবুদ্ধি বা চরিত্র থেকে সামান্যতম সুগন্ধি বের হতো না। এদের খপ্পরে পড়ে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সময়ে তিনি একটার পর একটা ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পুরো দুই বছর দেশে জরুরী অবস্থা জারী করেও রক্ষা পাননি। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ভরাডুবির পর তিনি বুঝলেন কি মহা সর্বনাশ তিনি করেছিলেন । নিজের সকল অভিমান, অহংকার এবং অশিক্ষা ও কুশিক্ষার মোহময় দেয়াল তিনি নিজের হাতে ভেঙ্গে ফেলেন। তার পিতার মহান আদর্শ, শিক্ষা এবং বিবেক বিবেচনাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ঘুরে দাঁড়ালেন।
ইন্দিরা গান্ধী যখন পতনের একদম তলানীতে ছিলেন তখনতো আপনি দিল্লীতে। নিশ্চয়ই আপনার মনে আছে অনেক কিছু। তিনি নিজে কয়েকজন নামকরা এবং প্রতিথযশা সাংবাদিকের বাড়ীতে গিয়ে দেখা করলেন। রামনাথ গোয়েঙ্কা, খুশবন্ত সিং, অমলেশ ত্রিপাঠী প্রমুখের সহযোগীতা চাইলেন । তারা সকলেই কিছু কিছু শর্ত দিলেন এবং তিনি তা বিনা বাক্য ব্যায়ে মেনে নিলেন। এর পরের ইতিহাসও আপনার জানা। মাত্র তিন বছরের মাথায় ১৯৮০ সালে তিনি পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে এলেন।

আপনার চারপাশের পরিচিতজনদের দিকে তাকিয়ে একটু জিজ্ঞাসা করুন যে, তারা কোন পত্রিকায় লিখে এবং তাদের লেখা কোন কালে কতজন পাঠ করেছেন। কিংবা আপনি তাদের কোন লেখাটি পড়ে অতি আশ্চর্য হয়ে ভেবেছিলেন- আহা! এমন লেখা লেখক লিখলো কি করে ! তাদের আচার আচরন, পোশাক আশাক, কথাবার্তা এবং শিক্ষাদীক্ষা যদি আপনার নিজের পছন্দ না হয় তবে আপনি কি করে আশা করতে পারেন যে, জনগণ তা পছন্দ করবে ! অন্যদিকে জনগণের পছন্দের বিষয়টি যদি আপনি না বুঝেন কিংবা না মর্যাদা দেন অথবা জনগণ যা দেখলে বিরক্ত হন সেই সব জিনিস যদি বার বার তাদের চোখের সামনে দোলাতে থাকেন তবে মানুষের মন বিষাক্ত হতে হতে একসময় বিক্ষুব্দ হয়ে উঠবে।

ইন্দিরা গান্ধী সব সময় প্রকৃতির আইনকে ভয় পেতেন এবং শ্রদ্ধা করতেন সমাজ, সংশার এবং রাষ্ট্রের মধ্যে ঘটে যাওয়া প্রকৃতির চিরায়ত নিয়ম কানুনকে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে- আল্লাহ যা চান তা তিনি মানুষের মুখ দিয়ে বহুদিন ধরে প্রচার করাতে থাকেন । দরিদ্র এবং খেটে খাওয়া মানুষ যাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত লেনাদেনা নেই বললেই চলে তারা তার সম্পর্কে কি ভাবেন এবং কি বলেন তা নিয়ে তিনি চিন্তিত থাকতেন সর্বদা । কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন-খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ যারা রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধার কিছুই পান না বা চান না তারাই মূলত প্রকৃতির অমোঘ হাতিয়ার। এই লোকগুলো যদি আড়ালে আবডালে গালাগালি করেন তবে ধরে নিতে হবে তিনি নিশ্চিত ভুল পথে আছেন।

১৯৭৩-৭৪ সাল থেকেই ইন্দিরা গান্ধী দেখলেন জনমত ধীরে ধীরে তার বিপক্ষে চলে যাচ্ছে । পথে প্রান্তরে, দিল্লীর বস্তিতে কিংবা মানালীর পাহাড়ের চুড়ায়- সর্বত্রই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তাকে ভীষন গালাগালি করছে । তিনি কৌশলে সেইসব অকথ্য এবং অশ্রাব্য গালাগালি নিজের কানে শুনলেন। ছদ্মবেশে গালাগালকারীদের সঙ্গে কথা বলার পর তার মন আরো খারাপ হয়ে গেলো। কারণ লোকজনের কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারলো না কেনো তারা গালাগাল দিচ্ছে। তাদের একটিই জবাব- ঐ কুত্তী বেশ্যাকে দেখলে গা জ্বালা করে। ঠিক এই সময়ে সঞ্জয় গান্ধী হঠাৎ করেই মানেকা গান্ধীকে বিয়ে করে বসেন। বিয়ের দিন অর্থাৎ ২৩ শে সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সাল থেকে তাঁর জীবনে শুরু হলো নতুন আরেক বেদনা। বউ-শ্বাশুড়ীর চীরায়ত মতানৈক্যের যন্ত্রনায় তিনি অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেন। সারাদিন কাজ এবং সারারাত ধরে ঝগড়া। জীবনটা বিষাদময় হয়ে উঠলো। এতো কিছুর পরও তিনি ধৈর্য্য হারালেন না। প্রকৃতির আইনের নিকট আত্ম সমর্পন করলেন । নিজেকে সুধরানোর পূর্বে মনকে প্রবোধ দিলেন- নিশ্চয়ই তিনি ভুল করেছেন এবং ভুল পথে আছেন নচেৎ খেটে খাওয়া মানুষ কেনো তাকে গালাগাল করবে আর বিধাতাই বা কেনো তার ঘরের মধ্যে পুত্রবধু নামের একটি আজাবের বাক্স ঢুকিয়ে দিবে।

১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ক্ষমতা হারিয়ে তিনি চলে গেলেন দিল্লীর শাহী জামে মসজিদে। দেখা করলেন ইমাম সৈয়দ আব্দুল্লাহ বুখারীর সঙ্গে। এরপর গেলেন হিন্দুদের পূন্যভূমি মথুরা। সেখানকার পূন্যার্থীরা সদলবলে তার ওপর আক্রমন চালালো। তাঁর সঙ্গী ছিলেন বিখ্যাত সাংবাদিক এবং লেখক পাঝা নিদুমারান। সর্বশক্তি দিয়ে তিনি সেদিন ইন্দিরাজীকে বাঁচালেন। এভাবে রাজ সিংহাসন ছেড়ে তিনি দিনের পর দিন পথে প্রান্তরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঢুকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হতে হতে পুনরায় সিংহাসনে ফিরে এলেন তাদের হৃদয়ের রাণী হয়ে।

আমার প্রাণপ্রিয় নেত্রী ! আপনি কি সত্যিই জানেন ঢাকা শহরের রিক্সাওয়ালারা আপনাকে নিয়ে কিসব কথা বলে? আপনি কি খোঁজ নিয়েছেন দেশের মাছ বিক্রেতা, তরকারীর ফেরীওয়ালা, কলা বিক্রেতা এবং পথের দ্বীনহীন ভিক্ষুকেরা আপনাকে নিয়ে কিসব বলাবলি করে ? আপনি ওসব মানুষের মুখের কথাকে অবহেলা করবেন না কিংবা তাচ্ছিল্য ভাবে বলবেন না- ওরা কি জানে বা ওরা কি বোঝে ? বিশ্বাস করুন- প্রকৃতি তার আপন ইচ্ছা শক্তির সবটুকুই কিন্তু ওসব মানুষের মুখ দিয়ে বের করে আনছেন। এখন মানা বা না মানা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
আপনার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য এবং উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। ইতি – গোলাম মাওলা রনি।
সূত্র : আমাদের সময়






মন্তব্য চালু নেই