মেইন ম্যেনু

পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে পোপের বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

বিশ্বে খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস মন্তব্য করেছেন, ‘ঈশ্বর কোনো জাদুকর নন। তার জাদুদণ্ডের স্পর্শে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়নি। বরং সৃষ্টিতত্ত্বের সমাধান করেছে বিগ ব্যাং থিওরি ও বিবর্তনবাদ।’

তার এই মন্তব্য নিয়ে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে পোপের পুরো ব্যাখ্যা শোনার পর এ নিয়ে বির্তক কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।

পন্টিফিক্যাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের আলোচনা সভায় তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘বিশ্ব সৃষ্টির পেছনে মূল কারণ অবশ্যই বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা। এক কথায়, বাইবেল প্রচারিত সৃষ্টি রহস্য ও স্মৃষ্টিকর্তা হিসেবে ঈশ্বরের অস্তিত্বের তত্ত্বকে গুরুত্ব দেননি পোপ।

ভ্যাটিকান বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘোষণার মাধ্যমে প্রয়াত পোপ বেনেডিক্ট প্রচারিত আধ্যাত্মিক মতবাদের উল্টো পথেই হাঁটলেন পোপ ফ্রান্সিস।

বলতে গেলে, বাইবেল উল্লিখিত ঈশ্বরের সৃষ্টি করা বিশ্বের তত্ত্ব নাকচ করে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, `জেনেসিস-এ সৃষ্টির আদিকথা পড়তে গিয়ে আমাদের ধারণা হয় যে, ঈশ্বর একজন জাদুকর, যিনি জাদুদণ্ডের ছোঁয়ায় যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়।`

তিনি আরো বলেন, ‘ঈশ্বর মানুষ সৃষ্টি করে উন্নতি সাধনের ভার তাদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি তাদের যে নিয়মে বেধে দিয়েছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই তারা পরিপূর্ণতা লাভ করেছে।’

পোপ জানান, `বিগ ব্যাং পৃথিবী সৃষ্টিতে ঈশ্বরকে অস্বীকার করে না, বরং তার উপযোগিতা সম্পর্কে সম্মত হয়। প্রাকৃতিক বিবর্তনের সঙ্গে সৃষ্টির কোনো সংঘাত নেই, কারণ বিবর্তনের জন্য সৃষ্টি জরুরি।

বিজ্ঞানের সঙ্গে ক্যাথলিক চার্চের সংঘর্ষ বহু প্রাচীন। চার্চের চাপের কাছে মাথা ঝুঁকিয়ে শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর সূর্য প্রদক্ষিণের তত্ত্ব প্রত্যাহার করে নিতে হয়েছিল বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলিকে। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক বিতর্কের পথে না গিয়ে বরং পোপ দ্বাদশ পায়াসের দেখানো রাস্তাই অনুসরণ করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। পোপ দ্বাদশ পায়াস বিবর্তনবাদ ও বিগ ব্যাং তত্ত্বকে প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন করেছিলেন। তার এক ধাপ ওপরে গিয়ে ১৯৯৬ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল স্বীকার করেন, বিবর্তনবাদ কোনো ধারণা নয়, পরীক্ষিত সত্য। কিন্তু তা সত্বেও পোপ ফ্রান্সিসের পূর্বসূরী পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট এবং তার ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতারা বিবর্তনের পেছনে অতিবুদ্ধিমান স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রচার চালিয়ে গেছেন।

ভ্যাটিকানের প্রধান ধর্মগুরুর এই মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন ইতালির বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানী জিওভানি বিগমানি জানিয়েছেন, `পোপের মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগ ব্যাং থেকেই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। আর সৃষ্টির হাত ধরেই আসে বিবর্তন।’

আবার ইতালির মিলান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান দর্শনের অধ্যাপক জিউলিও জিওরেল্লির মতে, `আসলে বিজ্ঞান ও চার্চের চিরাচরিত সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক সহজ করার চেষ্টা করেছেন পোপ ফ্রান্সিস।`

বাইবেলের তত্ত্বের বাইরে গেলেও পূর্বসূরী সম্পর্কে নিখাদ শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। ভ্যাটিকান উদ্যানে পন্টিফিক্যাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস চত্বরে পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করতে গিয়ে তিনি জানান, `জ্ঞান, বুদ্ধি এবং নিরন্তর প্রার্থনা তার হৃদয় প্রশস্ত করেছিল। বিশ্ববাসীর সেবায় পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টকে উপহার দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে অশেষ ধন্যবাদ।`

এখন দেখার বিষয়, সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে বাইবেল ও বিজ্ঞানের বৈরী সম্পর্কের দৌড় কোথায় গিয়ে ঠেকে।

তথ্যসূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস অনলাইন।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই