মেইন ম্যেনু

কিম জং-ন্যামকে হত্যা করা হয়েছে বিষাক্ত পদার্থ দিয়ে

উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং-উনের বড় সৎ ভাই কিম জং-ন্যামকে খুবই বিষাক্ত ‘ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট’ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিক ময়নাতদন্ত শেষে এ তথ্য জানিয়েছে মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের চেক-ইন কক্ষে তার দিকে এগিয়ে কিছু একটা নিক্ষেপ করে। এরপরই তিনি মারা যান। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

খবরে বলা হয়, মালয়েশিয়ার টক্সিকোলোজি রিপোর্টে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তাকে ‘ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট’ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে। জাতিসংঘের একে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের শ্রেণীভুক্ত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া রাষ্ট্রকে এ হত্যাকা-ের জন্য দায়ী করেনি মালয়েশিয়া। তবে বলেছে উত্তর কোরিয়ানরাই এ হত্যাকা-ের নেপথ্যে রয়েছে।

১৩ই ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দরে ওই ঘটনা ঘটার পর কিম জং-ন্যামকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার লাশ এখনও একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ লাশ নেওয়ার জন্য উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিকরা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এ নিয়ে দু’ পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

লাশের ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্তে মালয়েশিয়া অটল থাকায় বেশ আক্রমণাÍক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির অভিযোগ, এর পেছনে মালয়েশিয়ার কোন ‘অশুভ’ উদ্দেশ্য রয়েছে। মালয়েশিয়ার পুলিশ প্রধান খালিদ আবু বকর বলেন, কিম জং-ন্যামের চোখ ও মুখের পরীক্ষা করে ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট নামে ওই তীব্র বিষাক্ত পদার্থের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট অব মালয়েশিয়া। তিনি বলেন, আরও অনেক কিছু এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ এই রাসায়নিক বস্তু কীভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছে। তবে পুলিশ প্রধান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘যদি মালয়েশিয়ায় আনা এই রাসায়নিকের পরিমাণ অল্প হয়, তবে আমাদের জন্য তা শনাক্ত করা কঠিন হবে।’

র‌্যান্ড কর্পোরেশনের গবেষণা শাখার সমরাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ব্রুস বেনেট বিবিসিকে বলেন, খুবই সামান্য পরিমাণ ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট দিয়েই যেকাউকে হত্যা করা সম্ভব। বেনেট বলেন, তাই সামান্য পরিমাণ নার্ভ এজেন্ট হয়তো ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে তা খুব দ্রুতই তার øায়ুতন্ত্রে আঘাত হানতে শুরু করে। আর প্রথমে কাঁপুনি দিয়ে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়ে থাকবে।

সিসিটিভি ফুটেজে যে দুই নারীকে দেখা গেছে তাদের একজন তার মুখে কিছু একটা ছুড়ে দেন। খালিদ এর আগে জানান, ওই নারী সঙ্গে সঙ্গে তার হাত ধুতে চলে যান। অর্থাৎ, তিনি খুব ভালো করেই জানেন তার হাতে বিষাক্ত কিছু লেগে আছে। ওই নারী ও আরেক নারী বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। এ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন উত্তর কোরিয়ান নাগরিককেও খুঁজছে পুলিশ। এদের একজন কুয়ালালামপুরে উত্তর কোরিয়ান দূতাবাসের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও আরেকজন রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা এয়ার করয়োর একজন কর্মীও। এর আগে আরও চার উত্তর কোরিয়ান নাগরিক এ হত্যাকা-ে জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে তারা ইতিমধ্যে দেশত্যাগ করেছেন। তবে পঞ্চম আরেক উত্তর কোরিয়ানকে পুলিশ আটক করেছে।






মন্তব্য চালু নেই