মেইন ম্যেনু

নায়িকা থেকে মুখ্যমন্ত্রী, অতঃপর ঠিকানা জেলখানা

একেই বুঝি বলে ভাগ্যের খেলা। কৈশোর পেরোনোর আগেই রুপালি পর্দায় আবির্ভাব। তারপর বহু জল গড়িয়েছে। তিনি বসেছেন তামিলনাড়ুর মসনদে। নায়িকা থেকে মুখ্যমন্ত্রী। কোন পথে জয়ললিতার জীবন? জেনে নেওয়া যাক এক নজরে।

একদিকে স্বপ্নপূরণ, অন্যদিকে স্বপ্নভঙ্গ। স্বপ্নপূরণ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ। আপাতত ঠিকানা জেলখানা। গতকাল শনিবার বেঙ্গালুরুর বিশেষ আদালত তাকে চার বছরে কারাদণ্ড দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ১০০ কোটি রুপি জরিমানাও করা হয়েছে। আর যদি তিনি জরিমানা দিতে না পারেন তাহলে আরো এক বছরের সাজা ভোগ করতে হবে। ছাড়তে হবে মুখ্যমন্ত্রীর গদিও। তিনি থাকবেনও বেঙ্গালুরুর সেন্ট্রাল জেলে।

পুরো নাম জয়রাম জয়ললিতা । মাত্র ১৫ বছর বয়সে পা রেখেছিলেন চলচ্চিত্রজগতে। সেখান থেকে রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেই তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। স্বপ্ন ছিল, একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। কিন্তু আপাতত তার সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। হিসাববহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীকে চার বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

কিন্তু কীভাবে রুপালি পর্দা থেকে তামিলনাড়ুর মসনদে বসেছিলেন তিনি? কেমন ছিল তার এই যাত্রাপথ? ১৯৪৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জন্ম জয়ললিতার। ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক ছিল। নাচ-গানেও পারদর্শী।

বাবার মৃত্যুর পর সাংসারিক চাপে পড়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই চলচ্চিত্রজগতে পা রাখেন। তামিল, তেলেগু, মালায়লম, হিন্দি, ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় ১৪০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয় সূত্রেই তার পরিচয় হয় তৎকালীন তামিল সুপারস্টার এম জি রামচন্দ্রনের সঙ্গে। এই রামচন্দ্রনই এআইডিএমকের প্রতিষ্ঠাতা।

রামচন্দ্রনের হাত ধরেই ১৯৮২ সালে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখেন জয়ললিতা। রামচন্দ্রনের পাশাপাশি জয়ললিতার জনপ্রিয়তাকেও কাজে লাগানোর সুযোগ এতটকু হাতছাড়া করেনি এআইডিএমকে নেতৃত্ব। ১৯৮৭ সালে মারা যান রামচন্দ্রন। এরপর ১৯৯১ সালে বিপুল ভোটে জিতে প্রথমবার তামিলনাড়ুর মসনদে বসেন জয়ললিতা। লক্ষ্য ছিল, দিল্লির মসনদ। কিন্তু পাঁচ বছরের মধ্যেই ক্ষমতাচ্যুত হন জয়ললিতা। এই সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। হিসেববহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন তৎকালীন জনতা পার্টি নেতা সুব্রমনিয়াম স্বামী। পরে ফের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হলেও ১৮ বছরের শুনানি শেষে এই মামলায় গত শনিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীকে চার বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ভাগ্যদেবী দুহাত ভরে সবকিছু দিয়েছিল তাকে। তবে তা তিনি ধরে রাখতে পারেননি। হয়তো দেবী রুষ্ট হয়েছেন। তাই এখন এককালের চিত্রনায়িকা এখন জেলের চার দেয়ালে বন্দি।






মন্তব্য চালু নেই