মেইন ম্যেনু

ক্রিমিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিল রাশিয়া

ক্রিমিয়াকে একটি ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম’ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়ে ডিক্রি জারি করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি সোমবার রাতে এ তথ্য জানায়।

পুতিনের ডিক্রিতে বলা হয়, গণভোটে ক্রিমিয়ার জনগণের দেয়া সিদ্ধান্ত ও তাদের ইচ্ছার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রুশ সরকার তাদের রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিচ্ছে।

রোববারের গণভোটে ক্রিমিয়ার ৯৭ শতাংশ জনগণ ইউক্রেইন থেকে বেরিয়ে গিয়ে রাশিয়ায় যোগ দেয়ার পক্ষে রায় দেয়, যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা এলো।

ওই গণভোটের পর ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট সোমবার নিজেদের ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে এবং রুশ ফেডারেশনে যোগ দেয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়।

অন্যদিকে পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে রাশিয়া এবং ইউক্রেইনের ২১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সম্পদ জব্দের ঘোষণা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র। পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে ক্রিমিয়াকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র ‘ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্র’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

ওই ঘোষণায় বলা হয়, ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্রকে রুশ ফেডারেশনের অংশ হিসাবে গ্রহণ করার জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ক্রিমিয়া বলছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে তাদের এলাকায় আর ইউক্রেইনের আইন প্রযোজ্য হবে না। ওই এলাকার সব জাতীয় সম্পদের মালিক এখন ‘স্বাধীন’ ক্রিমিয়া।

পার্লামেন্টের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্র সমতা, শান্তি, সুপ্রতিবেশী হিসাবে সহাবস্থানের ভিত্তিতে এবং সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার নীতির ভিত্তিতে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চায়”।

রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মাঝখানে ২৬ হাজর ১০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ক্রিমিয়া এতোদিন ইউক্রেইনের অধীনে একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল হিসাবে ছিল।

রোববারের গণভোটের পর ইউক্রেইনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা এই ফল মেনে নেবে না।
আর ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট রাশিয়ায় যোগ দেয়ার আবেদন করার পর কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দিয়ে ইইউ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন আস্টোন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাশিয়া এখন পর্যন্ত ইউক্রেইনের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি। এটি সদুঃখজনক।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রাশিয়ার শীর্ষ সাত সরকারি কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতাসহ ক্রিমিয়ার চার বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার ওপর এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে ইউক্রেইনের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষুন্ন করার কারণে।

ক্রিমিয়ার ভারপ্রাপ্ত নেতা সের্গেই আকসিওনভ, রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রোগোজিন, রুশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের প্রধান ভ্যালেন্তিনা ম্যাতভিয়েনকো এবং ইউক্রেইনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ রয়েছেন এই কড়াকড়ির তালিকায়।

লিথুনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিনাস লিঙ্কেভিচ সোমবার এক টুইটার বার্তায় লেখেন, মন্ত্রীরা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে একমত হয়েছে। ইউক্রেইন এবং রাশিয়ার ২১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার ব্রাসেলস সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাতিমির পুতিনের কাছের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসতে পারে বলে আভাস দেন লিঙ্কেভিচ।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই