মেইন ম্যেনু

কুখ্যাত ১০ নারী গ্যাংস্টার

গ্যাংস্টার বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে কাওবয় চেহারার ভিলেন ধাচের পুরুষ মানুষের মুখ। কিন্তু এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কিছু নারীকেও দেখা গেছে অপরাধ জগতে পুরুষদের পাশপাশি রাজত্ব করতে। কখনো এরা নিজেরাই নিজের দল নিয়ে কাজ করছে কখনো আবার অন্য কোনো গ্যাংস্টারদের সঙ্গেও কাজ করছে। এ রকম বিখ্যাত ও কুখ্যাত ১০ নারী গ্যাংস্টারদের নিয়েই আজকের আয়োজন।

১. বনি পার্কার
যুক্তরাষ্ট্রের নারী গ্যাংস্টারের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত বনি পার্কার। বিখ্যাত বলা হচ্ছে কারণ বনি পার্কার আর দশজন তারকার মতই মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। অপরাধ করার ক্ষেত্রে তার সঙ্গী ছিল আরেক পুরুষ গ্যাংস্টার ক্লাইড বরো। দুজনকে মানুষ চিনত বনি ও ক্লাইড নামে। মূলত ব্যাংক ডাকাতির জন্যই এরা কুখ্যাতি লাভ করে। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৪ এই তিন বছর গ্যাংস্টারগিরি করে তারা। কারণ ১৯৩৪ সালেই পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে তার মৃত্যু হয়।

২. স্টেফিন সেইন্ট ক্লেয়ার
ক্লেয়ার ছিল ফ্রেঞ্চ ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন নারী গ্যাংস্টার। যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরনগরী নিউইয়র্কের হারলেমে বেশ কিছু অপরাধী চক্রের পালের গোদা ছিলেন তিনি। উনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে নিউইয়র্কে মাফিয়ার প্রচণ্ড প্রভাব থাকলেও ক্লেয়ার মাফিয়াদের অধীনস্ত হননি। নিজের অবস্থান অপরাধ জগতেই ঠিকই টিকিয়ে রেখেছিলেন।

৩. ওপাল ‌‌লঙ্গ
দীর্ঘদেহী এই নারী গ্যাঙ্গস্টারকে শরীরের আকৃতির কারণে ম্যাক ট্রাক (যার অর্থ মালবাহী ট্রাক) নামে ডাকা হত। জন ডিলিঙ্গারের কুখ্যাত টেরর গ্যাঙ্গের সদস্য ছিলেন ওপাল। তার স্বামীও টেরর গ্যাঙ্গের হয়ে কাজ করতেন। টেরর গ্যাঙ্গের সদস্যদের নিজের পরিবারের মতো করে খাওয়ানো ছাড়াও পুলিশের লোকচক্ষুর আড়ালেও রাখার কাজ করতে তিনি। কিন্তু ১৯৩৪ সালে পুলিশ তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্রথমে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেও কোনো লাভ না হওয়াই শেষ পর্যন্ত ডিলিঙ্গারের কাছে অর্থসহায়তা চান ওপাল। কিন্তু অর্থসহায়তার বদলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে স্বামীর মতো তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত জেল খেটে বের হয়ে শিকাগোয় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেন ওপাল।

৪. হেলেন গিলিস
হেলেন গিলিস ছিলেন ডিলিঙ্গারের টেরর গ্যাঙ্গের অন্যতম সদস্য এবং কুখ্যাত গ্যাঙ্গ লিডার বেবি ফেস লিনসনের স্ত্রী। স্বামী বেবি ফেসের সকল অপরাধের সঙ্গীনী হিসেবে কাজ করার কারণেই পুলিশের খাতায় গ্যাঙ্গ লিডার হিসেবে তার নাম ওঠে। ১৯৩৪ সালে একবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এরপর জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারো স্বামীর সঙ্গে অপরাধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু কিছু দিন পরই ডিলিঙ্গারের মৃত্যু হলে তাদের গ্যাঙ্গ ভেড়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত কয়েক মাস জেল খেটে তার গ্যাংস্টার জীবনের সমাপ্তি ঘটে।

৫. ম্যা বার্কার
ম্যা বার্কার ছিলেন নির্মম এক নারী গ্যাংস্টার। অল্প বয়সেই অ্যারিজোনা ক্লার্কের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিছু দিন পরই দুজনের সংসারের সদস্য হয়ে দাড়ায় ছয় জনে। আর এই ছয় জনের পরিবার হয়ে ওঠে একটি অপরাধী পরিবার। ১৯১০ সালের দিকে ম্যা বার্কারের নেতৃত্বে তার স্বামী ও ছেলেমেয়েরা মহাসড়কে ডাকাতি শুরু করে। এরপর শুরু হয় তাদের অপহরণ ব্যবসা। তবে ১৯২৭ এর দিকে এসেই বার্কারের ব্যাবসায় মন্দা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৩৫ সালে ফেরারি হয়ে ঘোরার সময় এফবিআইয়ের গুলাতি স্বামীসহ প্রাণ হারান বার্কার।

৬. পার্ল এলিয়ট
পার্ল এলিয়ট সরাসরি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বরং অপরাধীদের আশ্রয় দেয়া ও তাদের সম্পদের দেখভাল করার কাজ করতেন। আর এর থেকেই তার মোটা অঙ্কের অথ উপার্জন হত। যুকক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত দুই গ্যাংস্টার ডিলিঙ্গার ও হ্যারি পিয়েরপয়েন্টর সঙ্গে তার এ ধরনের লেনদেন ছিল। শেষ দিকে এসে ডিলিঙ্গারের অর্থ জমা রাখা কাজও করতেন তিনি। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে এলিয়টের মৃত্যু হয়। তবে আর দশজন গ্যাংস্টারের মতো জেলে ধুকে কিংবা গুলিতে নয়, ক্যান্সারে।

৭. ম্যারি বেকার
ম্যারি বেকার নিজের আকর্ষণীয় চোখ আর চেহারার কারণে সুন্দরী গ্যাংস্টার হিসেবে পরিচিত পান। সব সময় দুহাতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘুরতেন। প্যান্ট গ্যাং নামে একটি ডাকু দলের নেত্রী ছিলেন তিনি। মূলত বিভিন্ন দোকান পাটে ডাকাতি করতেন এই নারী গ্যাংস্টার। আর তার গ্যাঙ্গের নাম প্যান্ট হওয়ারও একটি ইতিহাস আছে। প্রথম ডাকাতি করতে গিয়ে দোকানে উপস্থিত সকলকে প্যান্ট খোলার নির্দেশ দেয়ার কারণেই তার গ্যাঙ্গের নাম হয়ে প্যান্ট! শেষ পর্যন্ত তিন বছর জেল খেটে তার গ্যাংস্টার জীবনের সমাপ্তি ঘটে।

৮. ভার্জিনিয়া হিল
ভার্জিনিয়া হিল পরিচিত ছিলেন ফ্লেমিঙ্গো এবং নারী গ্যাংস্টারদের রাণী হিসেবে। হিল গ্যাঙ্গস্টার বাগসি সিগেলের স্ত্রী হিসেবে কুখ্যাতি লাভ করেন। প্রথম জীবনে অত্যন্ত দারিদ্রের মধ্যে দিয়ে বড়ো হওয়া হিল সৌভাগ্যের খোঁজে লস অ্যাঞ্জেলসে যান। সেখানেই তার সঙ্গে দেখা হয় সিগেলের। তারপর পরিচয় থেকে পরিণয়। ১৯৪৭ সালে নিহত হয় সিগেল। সে সময় বাড়ির বাইরে থাকায় বেঁচে যান হিল। তবে ১৯৬১ সালে ঘুমের বড়ি খেয়ে তার মৃত্যু হয়। তবে কারো কারো মতে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

৯. অ্যরলিন ব্রিকম্যান
১৯৩৩ সালে পূর্ব হার্লেমে এক ইহুদি পরিবারে জন্ম ব্রিকম্যানের। ছোট বেলা থেকেই তার আদর্শ ছিল গ্যাঙ্গলিডার ভার্জিনিয়া হিল। অল্প বয়সেই গ্যাঙ্গলিডারদের সঙ্গে তার কার্যক্রম শুরু হয়। মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে গ্যাং লিডারদেরকে ঋণ দেয়ার কাজও করতেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ঋণ দেয়াকে কেন্দ্র করে ঝামেলা শুরু হলে গ্যাং লিডারদের ওপর গোয়েন্দাগিরি শুরু করেন ব্রিকম্যান।

১০. এলভিন বিলি ফ্রেচেট
নারী গ্যাংস্টার ফ্রেচেট কুখ্যাত হন গ্যাংস্টার ডিলিঙ্গারের বান্ধবী হিসেবে। অবশ্য আর বাকী নারী গ্যাং লিডারদের মতো তার ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসেননি ফ্রেচেট। আফ্রিকান ও রেড ইন্ডিয়ান বাবা মায়ের সন্তান ফ্রেচেট ছিলেন উচ্চ শিক্ষিত। কিন্তু তারপরেও চাকরি না জোটায় শেষ পর্যন্ত শিকাগোতে এক ডাকাতের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সেই ডাকাত স্বামী জেলে গেলে ডিলিঙ্গারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কয়েক বছর পর ডিলিঙ্গারের সঙ্গীনী হওয়ার কারণে তাকে দু বছর জেল খাটতে হয়। জেল খাটা শেষে অপরাধমুক্ত নতুন জীবন শুরু করেন ফ্রেচেট। অপরাধের বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই