মেইন ম্যেনু

মোবাইল ফোন প্রতারক চক্রের ১০ সদস্য আটক

‘ওয়েল কাম’ জানিয়ে প্রতারণা

সাভারে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন প্রতারক চক্রের ১০ সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। তারা মোবাইল ফোনের গ্রাহকদের কল করে ‘ওয়েল কাম’ জানিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এমন কৌশল ‘ওয়েল কাম’ প্রতারণা নামে পরিচিতি।

প্রতারকরা বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সার্ভিস সেন্টার থেকে রেজিস্ট্রেশনসহ ভিআইপি সিম সংগ্রহ করে। এরপর বিভিন্ন নম্বরে ‘ওয়েল কাম’ জানিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাতে। প্রতারণার অংশ হিসেবে তারা গ্রাহকদের কল করে ‘আপনি ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার জিতেছেন’ বলে বিস্মিত করে দেন। এরপর ওই অর্থে পেতে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দাবি করেন।

বিপুল অঙ্কের অর্থ পুরস্কারের পাশাপাশি গাড়ি, মোটরসাইকেল, ফ্ল্যাট ও প্লট জয়ের সু-সংবাদের ফাঁদে ফেলে ওই প্রতারক চক্র। তারা অল্পশিক্ষিত হলেও কর্পোরেট ভাষায় পারদর্শী। রাজধানীর মিরপুর র‌্যাব-৪ এর কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সিও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাহাবুদ্দিন খান এ সব তথ্য জানান।

আটকরা হলেন— মোহাম্মদ উল্লাহ (২৮), রুবেল হোসেন (২৯), ইসমাইল মাতব্বর (২৬), ইউসুফ আলী খান (২৩), সম্রাট খান (২০), শাহীন শেখ (২৫), মো. সুমন (২২), আজিজুল হাকিম পাভেল (২০), রেজোয়ান মারুফ সজল (২২) ও গাজী শারাফত হোসেন রিয়াদ (১৯)।

র‌্যাব-৪ এর সিও সাহাবুদ্দিন খান বলেন, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে গাজী আশরাফ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ও উলাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এর আগে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির ভুয়া কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী প্রতারক চক্রের উপর র‌্যাব-৪ এর গোয়েন্দারা নজরদারির মাধ্যমে গোপন তথ্য সংগ্রহ করে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারক দলের সদস্যদের চিহ্নিত এবং পরে তাদের আটক করা হয়। প্রতারক দলের আরেকটি গ্রুপ বিকাশ এজেন্টদের টাকাও হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

র‌্যাব থেকে জানানো হয়, ২ ফেব্রুয়ারি সাভারের ডগরমোড়া গ্রামের এক নারীর কাছ থেকে প্রতারকরা তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের এক সঙ্গীতশিল্পীর কাছ থেকে মাসুদ রানা নামে এক প্রতারক তিন লাখ ২৬ হাজার টাকা, সাভার সেনানিবাসের এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুই লাখ ৯২ হাজার টাকা এবং বারিধারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ওই প্রতারক চক্র।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই