মেইন ম্যেনু

সনি হ্যাকিংকাণ্ড :

ওবামা এগোলেই যুক্তরাষ্ট্রে হামলা

প্রযুক্তির ভূবনে বিখ্যাত নাম সনি। জাপানি এই কোম্পানিটি সম্প্রতি হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ায় আবারও আলোচনার শীর্ষে চলে এসেছে। ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করার পর দীর্ঘ সময় প্রযুক্তি বাজারে একচেটিয়া বাণিজ্য করে আসছিল। কিন্তু ২০০০ সাল থেকে মার্কিন কোম্পানি অ্যাপল প্রযুক্তি বাজারে একের পর এক চমক নিয়ে আসতে থাকলে সনির একচেটিয়া আধিপত্য অনেকটাই কমে যায়। ২০০৮ সালের দিকে বিশ্বব্যাপী সনির শেয়ারের মূল্য অনেক কমে যাওয়ায় কোম্পানিটি বেশকিছু বাণিজ্যিক শাখা বন্ধ করে দেয় এবং নতুন ও পুরনো কিছু শাখা উন্মোচন করে। এরকমই একটি বাণিজ্যিক শাখা হলো ‘মুভি প্রমোশন’ শিল্প, যা সনি পিকচার্স নামে পরিচালিত হয়।

সম্প্রতি সনি কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, কিছুদিন আগে হ্যাকাররা সনির শীর্ষ কর্মকর্তাসহ কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ ছাড়াও চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যসহ অনেককিছু চুরি করেছে। আর এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সনির প্রায় সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে জানায় যে, উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সনি ‘দ্য ইন্টারভিউ’ নামে একটি বিদ্রুপাত্মক চলচ্চিত্র নির্মাণের করার কারণে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা সনির সাইট হ্যাক করতে পারে। যদিও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার জড়িত কিনা এই বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই মার্কিন প্রশাসন থেকে জানানো হয় যে, হ্যাকিংয়ের পেছনে উত্তর কোরিয়ার সরকারের হাত রয়েছে। পাশাপাশি সনি কোম্পানিকে প্রয়োজনে সব রকমের সহায়তারও প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আর এতেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা কমিটি। হ্যাকিং বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নাক গলালে উত্তর কোরিয়া সোজা হোয়াইট হাউসে হামলা চালাবে বলে হুমকি দেয়া হয়।

উত্তর কোরিয়ার দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী এবং জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাইবার স্পেসেও যুদ্ধ করা হবে।’ উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়া এর আগেও বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রকে এধরণের হুমকি দিয়েছে। তবে এই হুমকির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু বলা না হলেও, মার্কিন প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। সনির ঘটনায় যদি যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে তাহলে এবারই প্রথমবারের মতো সরাসরি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে, চলতি মাসের ২৫ তারিখ দ্য ইন্টারভিউ চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি দেয়ার কথা থাকলেও তা থেকে সরে এসেছে সনি পিকচার্স। আর সনির এই সিদ্ধান্তে নাখোশ হয়েছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে ‘দ্য ইন্টারভিউ’ অন্য কোন ভাবে মুক্তি দেয়া যায় কিনা সেটা সনি ভেবে দেখছে বলেও জানা গেছে। হ্যাকারদের হুমকি অনুযায়ী এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি দিলে সনি পিকচার্সের অন্য চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য এবং আনুষঙ্গিক তথ্যাদি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। ডেমস বন্ড সিরিজের পরবর্তী চলচ্চিত্রটিও সনি পিকচার্সের ব্যানার থেকেই বের হওয়ার কথা এবং এই চলচ্চিত্রটিরও চিত্রনাট্য হ্যাকারদের হাতে।






মন্তব্য চালু নেই