মেইন ম্যেনু

ইসরাইলি নৃশংসতা তুলে ধরায় সংবাদদাতাকে শাস্তি

এনবিসি টেলিভিশনের সংবাদদাতা আইমান মোহেইলদিন গাজার সমুদ্র সৈকতে ইসরাইলি সেনাদের হাতে চার ফিলিস্তিনি বালকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর প্রচার করায় ইসরাইল-ঘেঁষা এই টিভি এই সংবাদদাতাকে শিগগিরই গাজা ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে।

মিশরিয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান আইমান নিজে ওই হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন এবং তার এ সংক্রান্ত সাহসী রিপোর্ট বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছে।

নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ইসরাইল-বান্ধব এনবিসি আইমানকে গাজা থেকে চলে আসার নির্দেশ দিলেও পরে সেখানে রিচার্ড এঞ্জেল নামের এক সংবাদাতাকে এক মার্কিন প্রোডিউসারের সঙ্গে সেখানে পাঠিয়েছে যিনি অতীতে কখনও গাজায় যাননি ও আরবিও জানেন না। আইমান ও এঞ্জেল উভয়ই আরবিতে কথা বলতে পারেন।

আইমান এর আগে সিএনএন ও আলজাজিরা টেলিভিশনে কাজ করেছেন এবং বেশ কিছু ভালো প্রতিবেদন তৈরির জন্য খ্যাতি অর্জন করেন।

আইমান মোহেইলদিন গত বুধবার গাজার সমুদ্র সৈকতে গানবোটে চড়ে আসা ইসরাইলি সেনাদের হাতে ফুটবল খেলায় ব্যস্ত চার ফিলিস্তিনি বালকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যটি নিজ চোখে দেখেন এবং এরপর ইসরাইলি সেনাদের ওই বর্বরতা তুলে ধরে সংবাদ প্রচার করেন। একই বৃহৎ পরিবারের কয়েক মায়ের ওই চার শিশুর বয়স ছিল নয় থেকে ১১। আইমান মোহেইলদিন নিহত শিশুদের একজন মায়ের ও আহত এক শিশুর সাক্ষাৎকারও প্রচার করেছিলেন ওই প্রতিবেদনে।

বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচারের কারণে মার্কিন নব্য-রক্ষণশীল ও ইসরাইলপন্থী ওয়েবসাইটগুলো আইমান মোহেইলদিনকে ‘হামাসের মুখপাত্র’ বলে উপহাস করে আসছিল। সম্প্রতি এক রিপোর্টে আইমান বলছিলেন: আপনারা বুঝতে পারছেন যে কেনো কোনো কোনো মানবাধিকার সংস্থা গাজাকে “খোলা আকাশের নীচে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম কারাগার বলে অভিহিত করছে; এখানকার জনগণের অন্যতম প্রধান অভিযোগ ও দুঃখ হলো এটা যে ইসরাইল সেখানকার সবাইকে গণহারে শাস্তি দিচ্ছে। আপনারা দেখছেন যে গাজার ১৭ লাখ মানুষের ওপর এখন বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে এবং তাদের পালানোর বা আশ্রয় নেয়ার কোনো স্থান নেই।”

সত্যিই গাজাবাসীদের আশ্রয় নেয়ার কোনো স্থান নেই, কিন্তু এখন আইমান মোহেইলদিনের জন্যও গাজায় ফিরে আসার কোনো পথ খোলা রাখলো না ইসরাইলপন্থী ওই টেলিভিশন সূত্র-রেডিও তেহরান






মন্তব্য চালু নেই