মেইন ম্যেনু

ব্রাজিল বিশ্বকাপ

আড়াল থেকে সূর্য হবেন যারা

তারকা-মহাতারকারা ভালো নেই। বিশ্বের এক নাম্বার তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নাকি ব্লাক ম্যাজিকের শিকার! ফিফা ব্যালন ডি অরের তিন নাম্বার তারকা ফ্রাঙ্ক রিবেরিকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন দাঁড়িয়ে গেছে। তারা নিজ নিজ দলের পক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না তা নিয়ে জোর শঙ্কা আছে। নতুন করে চোট পেয়েছেন ডাচ তারকা রবিন ফন পার্সি। ডিয়াগো কস্তা ও লুইস সুয়ারেজরা বিশ্বকাপগামী দলে থাকলেও তাদের ফিটনেস নিয়ে সন্দেহ আছে খোদ তাদের দলের মধ্যেই। রাদামেল ফ্যালকাও তো চোটের কারণে বিশ্বকাপেই আসতে পারলেন না। এই অবস্থায় বিশ্বকাপের নায়ক হতে পারে অন্যান্য কিছু তারকা। তারা কারা?

১. ইয়াইয়া তোরে: আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলার হলেও সেভাবে তার নামটা কখনোই উচ্চারিত হয়না। কিন্তু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের প্রত্যেকটি দল জানে সাবেক বার্সা মিডফিল্ডারের থাকা মানে বাড়তি সতর্কতা। শুধু গোলের সুযোগ সৃষ্টি কিংবা দারুণ সব পাসই নয়, জোরালো শটে প্রচুর গোলও করতে জানেন।

২. ড্যানিয়েল স্টুরিজ: গেল মৌসুমে লিভারপুল যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌঁড়ে ছিল তার অন্যতম কৃতিত্ব ইংলিশম্যান ড্যানিয়েল স্টুরিজের। গোল করাকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন। পেরুর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে লিগের পারফর্ময়্যান্সটাই জাতীয় দলে টেনে এনেছেন। সেজন্য বিশ্বকাপে নায়ক হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে অলরেড এই তারকার।

৩. আলেক্সিজ সানচেজ: জাভি হার্নান্দেজ-আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা-লিওনেল মেসিদের সাথে একই ড্রেসিং রুম ভাগাভাগি করে নিজেকে নতুন করে আবিস্কার করেছেন আলেক্সিজ সানচেজ। নিজের ওপর আস্থা অর্জন করেছেন সাবেক উদিনেস তারকা। তাছাড়া একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের গতি, স্কিল, পাওয়ার কিংবা কন্ট্রোল যা যা থাকা দরকার তা আছে এই চিলিয়ানের।

৪. ফ্রেড: নেইমার ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে গোল করেছেন কিন্তু এখনো ১০০ ভাগ ফিট নন। এক্ষেত্রে ফ্রেড হয়ে উঠতে পারে ব্রাজিল কোচ লুইস ফিলিপ স্কলারির গোল্ডেন হ্যান্ড। গেল কনফেডারেশনস কাপে তা প্রমাণ করেছেন ফ্লুমিনেন্স স্ট্রাইকার। নেইমারের মতো বড় তারকার উপস্থিতিতেও আলাদা করে আলো ছড়িয়েছেন তিনি।

৫. পেদ্রো রদ্রিগেজ: এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের স্বপ্নের সারথি হওয়ার কথা ডিয়াগো কস্তার। কিন্তু ঘাতক ইনজুরি এখনো পুরো ফিট হতে দেয়নি অ্যাটলেটিকো ফরোয়ার্ডকে। তাছাড়া অফফর্মে আছেন ফার্নান্দো তোরেস। এই অবস্থায় ভিসেন্ত দেল বস্কের বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে আলো ছড়াতে পারেন পেদ্রো রদ্রিগেজ। বার্সার এই ফরোয়ার্ড তেকাঠি-টা বেশ ভালোই চেনেন।

৬. ইডেন হ্যাজার্ড: মেসি-রোনালদোদের মতো না হোক, তবে কারিকুরি ও স্কিলে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে একটা আসন গাড়তে পেরেছেন বেলজিয়াম মিডফিল্ডার ইডেন হ্যাজার্ড। সেক্ষেত্রে হ্যাজার্ডের ছন্দে থাকা মানে প্রতিপক্ষের সর্বনাশ। আর সেক্ষেত্রে আদনান জানুজাজ কিংবা রোমেলু লুকাকুদের আরো জ্বলে ওঠার সব রসদ মজুদ হয়ে যায়।

৭. করিম বেনজেমা: গেল মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে প্রতিপক্ষের সামনে প্রায়শেই ভয়ংকর রুপে দেখা দিয়েছিলেন। সেই অভ্যাসটা ফ্রান্সের জার্সিতে টেনে আনতে পারলে বিপক্ষকে অবশ্যই আলাদা ছক কাটতে হবে। তাছাড়া ফ্রাঙ্ক রিবেরি চোট থেকে সেরে না উঠলে বেনজেমার কাছেই ১৯৯৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বাড়তি দায়িত্বটা এসে পড়বে।

৮. অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া: লিওনেল মেসি থাকলেও আর্জেন্টিনার হয়ে নজর কাড়তে পারেন রোজারিও’র দ্বিতীয় বিস্ময় অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। তার প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যেই দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার। গেল চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন এই ডি মারিয়াই। গতি আর স্কিলে ছিপছিপে গঠনের ডি মারিয়া আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় নায়ক। ঠিক মেসির পরেই।

৯. এডিনসন কাভানি: লুইস সুয়ারেজ কবে সুস্থ হবেন কেউ জানে না। সেজন্য এখন উরুগুয়ের প্রধান ভরসা প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) এই ফুটবলার। নিয়মিত গোল করার অভ্যাস থাকায় প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সেই স্বপ্ন পূরণও হতে পারে। সেক্ষেত্রে অস্কার তাবারেজের প্রধান তুরুপের তাস হবেন ওই কাভানি’ই।

১০. মারিও গোটশে: ক্লাবের ফর্ম বজায় রাখতে পারলে বিশ্বকাপের নায়ক হতে পারেন বায়ার্ন মিউনিখের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। যে কোনো সময় গোল করার ক্ষমতা রাখেন। জার্মান কিংবদন্তি ফ্রেঞ্চ বেকেনবাওয়ার ও মাইকেল বালাকরা তাকে এই মুহূর্তে জার্মানির সেরা ফুটবলার হিসেবে গলা ফাটাচ্ছেন।






মন্তব্য চালু নেই