মেইন ম্যেনু

আসছেন একদিন আগে, যাবেনও একদিন আগে!

স্থলসীমা নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ছবিটি ঢাকার সামনে তুলে ধরতেই হয়তোবা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সফরসঙ্গী হতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন । তবে মোদির সে আমন্ত্রণে সাড়া দিলেও একসঙ্গে আসছেন না মমতা। বরং একদিন আগেই অর্থাৎ ৫ তারিখ রাতেই কলকাতা থেকে ঢাকা পৌঁছানোর কথা তাঁর। আর যাওয়ার বেলায়ও একসঙ্গে যাচ্ছেন না দুজন। মোদির আগে আগেই ঢাকা ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মমতা। ৬ তারিখই কলকাতা ফিরছেন তিনি। মোদি ফিরবেন এক দিন পরে, ৭ তারিখে। আর এ মধ্য দিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে কেন্দ্র-রাজ্যের চিরাচরিত বিবাদ অমিমাংসিত থাকার আশঙ্কা।

পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক সংবাদপত্র আনন্দবাজার জানায়, মোদির বাংলাদেশ সফরে মমতার সঙ্গে থাকাটা অনেক দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে দাবি করছেন ভারতের কূটনীতিকদের একাংশ। মমতা নিজেই কিছু দিন আগে বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। জট না কাটলেও আলোচনা হয়েছে তিস্তা নিয়ে। তাই নরেন্দ্র মোদির পক্ষেও এই বার্তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে যে, তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়িত করার ব্যাপারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং যা পারেননি, তিনি সেটা করতে পারছেন। অর্থাৎ মমতাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সমস্যা সমাধানে এগোচ্ছেন। প্রচারে এটাও সাফল্য বলে দেখাতে পারবেন মোদি। আর তাই মমতাকে সাথে আনতে এ যাত্রায় তিস্তা চুক্তি না করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আর মোদির একদিন আগে কলকাতায় ফিরে মমতার প্রচারণা কী হবে সেটা এখন কৌতুহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সহজেই মিটছে না কেন্দ্র-রাজ্যের দ্বন্দ্ব
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, দুই দেশের মধ্যে স্থলসীমান্তের সবচেয়ে বড় অংশটি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। সেই কারণে মোদির এই সফরে মমতার সঙ্গী হওয়াটা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, মোদীর সঙ্গে হাসিনার বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি তোলা হবেই। তবে প্রকাশ্যে তিস্তা নিয়ে মোদি কোনও কথা বলবেন না বলেই ঠিক হয়েছে। এমনকী কোনও যৌথ বিবৃতিতেও তিস্তার উল্লেখ থাকবে না। কিন্তু গঙ্গা এবং তিস্তা ছাড়া আরও যে ৫৪টি নদীর পানিবন্টন ঘিরে দুই দেশের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে, তার সবই খতিয়ে দেখার একটা আশ্বাস ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া হতে পারে। এই বিষয়গুলিকে যৌথ নদী কমিশনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টাও হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে তিস্তা জট ছাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর তরফে উদ্যোগ যে নেওয়া হবে, এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।

মনমোহন সিং সরকারের সময় তিস্তা নিয়ে যে সমাধানসূত্রটি তৈরি করা হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল শুকনো মৌসুমে তিস্তায় যে পরিমাণ পানি থাকবে, তা সমান ভাগে ভাগাভাগি হবে দুই দেশে। যার মধ্যে আবার প্রত্যেক দেশ থেকেই চার ভাগ পানি বরাদ্দ করা হবে নদীখাতে নাব্যতা বজায় রাখতে চার্জিংয়ের জন্য। কিন্তু মমতা এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তাঁর যুক্তি, শুকনো মৌসুমে তিস্তায় কার্যত পানিই থাকে না। আর বর্ষার সময় বাংলাদেশ পানি পায় প্রকৃতির নিয়মেই। তাই সমস্যা মূলত শুকনো মৌসুমেই। এ দিকে সিকিম তিস্তায় প্রায় ৮টি হাইড্রোলিক বাঁধ তৈরি করেছে। মমতার আপত্তি রয়েছে এ নিয়েও। সিকিমের বক্তব্য, তারা পানি আটকে বাঁধ দেয়নি। মমতা তবু দাবি করে আসছেন, সিকিমের এই দাবি যাচাই করার দায়িত্ব পুরোপুরি কেন্দ্রের।

অসমর্থিত সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার জানায়, তিস্তা চুক্তি সম্ভব হলে ওই নদী সংস্কার এবং পানি সরবরাহের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে বিপুল ঋণ পাওয়া যাবে। ফলে এখন তিস্তা প্রকল্পে ভারতের যে ৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে পানি যায়, ভবিষ্যতে তা ৯ লাখ হেক্টর জমিতে সরবরাহ করা যেতে পারে। কিন্তু কেন্দ্র-রাজ্যের এই বিতর্ক এখনও মেটেনি। ফলে হাসিনা সরকারের থেকে মোদিকে আরও খানিকটা সময় চেয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে।






মন্তব্য চালু নেই