প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষা

সাতক্ষীরায় ডিজিটাল টেস্ট পেপারে মুক্তিযুদ্ধে’র ইতিহাস বিকৃতি

সাতক্ষীরায় প্রথমিক সমাপনী পরীক্ষার টেস্ট পেপারে ইতিহাস বিকৃতি করে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রে জানা যায়, ডিজিটাল পাবলিকেশন্স যার প্রকাশক মোঃ মিলন আহমেদ কর্তৃক প্রকাশিত ৫ম শ্রেণির যোগ্যতাভিত্তিক টেস্ট পেপার প্রকাশিত হয়েছে। যে বইটির ২৩৩ পৃষ্টায় ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ের প্রথম অধ্যায় ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক শিরোনামের ২ নং প্রশ্নে “বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৎকালীন মুজিবনগর সরকারের এ পদমর্যাদায় কে ছিলেন?” এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে (গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম। যার সঠিক উত্তর (খ) তাজউদ্দীন আহম্মেদ। এছাড়া ২৩৪ পৃষ্ঠার ২৫ নং প্রশ্নে “ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপ্রতির দায়িত্ব পালন করেন কেন?” এ প্রশ্নটি বিকৃতি হয়েছে বলে সচেতন অভিভাবকরা জানান। এখানে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রতি ছিলেন তবে সেটি উল্লেখ করা হয়নি। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে এ ধরনের ইতিহাস ও প্রশ্ন বিকৃতি করে বইটি বাজারে চালানো হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা সঠিক ইতিহাস জানতে হিমশিম খাচ্ছে।
সিলভার জুবলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চায়না ব্যানার্জী বলেন, “এটা সরকারি কোন বই না। তার পরেও অনেক শিক্ষার্থী এগুলো ক্রয় করছে। এ ধরনের বইয়ের কারণে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে শিক্ষার্থীরা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে এবং প্রথম পরীক্ষায় এ বই থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বলে আমরা অভিযোগ করেছিলাম।”
এব্যাপারে অভিভাবক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “গাইড ও সাজেশন্স বই সরকার নিষিদ্ধ করলেও কিছু অসাধু শিক্ষকদের সহযোগিতায় এ ধরনের বই জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালানো হচ্ছে। কিন্তু এ ধরনের ইতিহাস বিকৃত করা বই পড়লে স্বাধিনতার সঠিক ইতিহাস জানতে শিক্ষার্থীরা বাধাগ্রস্থ হবে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে”
এব্যপারে ডিজিটাল পাবলিকেশন্স যার প্রকাশক মোঃ মিলন আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে সমাধান করা হবে। ভূল তো ভুলই, ভূলের কোন সংশোধন নেই। তবে অনাকাঙ্খিত ভাবে যদি এধরেনের ভূল হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সংশোধন করা হবে।”
এব্যাপারে জেলা পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি শেখ শরিফুল ইসলাম বলেন, “ইতিহাস বিকৃত করে যদি কোন প্রকশনী বই বাজারজাতকরণ করেন তবে সমিতির সংঘ স্মারক ও সংঘবিধি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যবস্থা নিতে পারেন। এ বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে জানানো হবে।”
এব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কোন টেস্ট পেপার, সাজেশন্স বা গাইডের অনুমোদন নেই। এটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আইনগত অপরাধ। আমরা সকল শিক্ষকদের এব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে।”



মন্তব্য চালু নেই