শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি চায় শোলাকিয়ায় জঙ্গী হামলায় নিহত কনস্টেবলের পরিবার

আরমান জাহান চৌধুরী, মদন (নেত্রকোণা) থেকে : শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি চায় শোলাকিয়ায় জঙ্গী হামলায় নিহত মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের পুলিশ কনস্টেবল আনসারুলের পরিবার।

এ দাবী মৌখিক দাবী নয়,সরকারের কাছে তাদের দাবী রাষ্ট্রীয় ভাবে যেন তাকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। তার পরিবারকে যেন শহীদ হিসেবে সরকারের সকল সুযোগ সুবিদা দেয়া হয় এবং সরকার তার হত্যাকারীদের ফাঁসি দেয় এ বিষয়ে তারা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানান। আনসারুল হকের বৃদ্ধ মা রাবিয়া আক্তার বার বার প্রলাপ করছেন আর বলছেন আমার পুত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নিজের জীবন দিয়ে শোলাকিয়া ঈদ গাহ মাঠে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাচাইচে,দেশের লাইগা জীবন দিছে। আমার হুত শহীদ। আমার হুতেরে যারা মারছে তাদের ফাঁসি চাই। আনসারুলের বিধবা স্ত্রী লুনা আক্তার বলেন,আমার স্বামী শহীদ হয়েছে,সরকারের কাছে আমার দাবী আমি যেন শহীদের স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পাই । আনসারুলের ছোট ভাই রিকশা চালক আমিরুল হক বলেন,আমার ভাই দেশের জন্য জীবন দিয়েছে এতে আমাদের কোন দুঃখ নাই তবে সরকার আমার ভাইকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে আমাদের সংসারের অভাব অনটনের মাঝেও আমরা মনে শান্তি পাইতাম।

এ ব্যাপারে পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দৌলতপুর গ্রামের একে এম শামছুল হক বলেন, দেশের জন্য যারা জীবন বিসর্জন দেন তাদেরকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে এ সব পরিবারে সহজেই শোক কাটিয়ে উঠে সমাজে উজ্জল হয়ে বেচেঁ থাকতে পারবে। আমি তাদেরকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় জন্য সদাশয় সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান ফকর উদ্দিন আহম্মেদ জানান, দেশের জন্য যারা জীবনদেন তাদেরকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে দেশের ভবিষ্যৎ মঙ্গল হবে আমি ও চাই তারা যেন শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

নিহত আনসারুল হক ঈদ-উল ফিতরের জামাতের আগে শোলাকিয়া ঈদগাহের মাঠের পার্শ্বে জঙ্গী হামলায় নিহত হন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যাক্তি নিহত পুলিশ সদস্য আনসারুলকে হারিয়ে তার পরিবারের মধ্যে এখনও শোক কাটেনি।



মন্তব্য চালু নেই