‘বর্তমান পদ্ধতির পরিবর্তন না হলে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়’

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, বর্তমান পদ্ধতির পরিবর্তন না হলে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়। বড় প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির আগেই তা চিহ্নিত করতে দুদককে সম্পৃক্ত রাখার বিষয়ে সরকারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পিআইডি মিলনায়তনে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে দুদক চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সক্ষমতা ও বাধার কথা তুলে ধরেন সিনিয়র সাংবাদিকরা।

বর্তমান সমাজব্যবস্থায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যার টাকা আছে তাকেই সম্মান করা হয়। কিন্তু সেই টাকা কীভাবে উপার্জন করা হলো সে বিষয়ে কোনো আলোচনা হয় না। অনেক সময় জানলেও কেউ মুখ খোলেন না। এমন কথাবার্তা দিয়েই শুরু হয় এই আলোচনা। আর এমন বাস্তবতায় কোথায় কীভাবে দুর্নীতি হয় তা জানলেও প্রতিরোধ করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট আলোচনা হওয়ায় নিজেদের দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন অনেকে।

একুশে টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘ঢাকার বাইরের করেসপনডেন্টরা কিছু টাকা পয়সা খায়। ঢাকায় তো আমরা প্লট খাই, লাইসেন্স খাই, বিদেশ যাত্রা খাই। আমি আওয়ামী লীগকে বলছি, বিএনপিকে বলছি দলগুলো যদি এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সক্ষম না হয়, সরকার যদি সক্ষম না হয়, প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সক্ষম না হয় তাহলে শুধু মিডিয়ার সক্ষমতা সাহায্য করবে না।’

বর্তমান আইন আর প্রাতিষ্ঠানিক নানান পদ্ধতির কারণেও দুর্নীতির বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন কেউ কেউ।

একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ নিশ্চিত আপনি ধরা পড়বে না তাহলে বোধহয় ৯৯ শতাংশ মানুষই কোনো না কোনো দুর্নীতিতে জড়াবেন। ধরা পড়ার বন্দোবস্ত না থাকলে তো মানুষের কাছে আশা করা যায় না।’

ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘আমরা এক এগারোর কথাই যদি ধরি, তখন মানুষকে দেখেছি টাকা ফেলে যেতে, গাড়ি ফেলে যেতে। রুল এবং আইন কঠোর হয় তখন একটা ডিফারেন্ট সিনারিও তৈরি হয়।’

তবে অনেকের আক্ষেপ, সবাই যদি নিজের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করতেন, ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতেন, তবে দুর্নীতি এমনিতেই কমে যেত।

দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে অতি দ্রুত পেশায় পেশাদারত্ব আনার চেয়ে ভালো করার চেয়ে বিত্ত বৈভবের দিকে আমাদের নজর বেশি হয়ে গেছে।’

প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, ‘দুদক যে দুর্নীতি প্রকাশ করতে চাইবে সেটা গণমাধ্যমে পাবে আর যেটা আড়াল করতে চাইবে সেটা গণমাধ্যম পাবে না, সেটা গণমাধ্যমের ভূমিকা রাখা হবে না।’

আগের চেয়ে দুর্নীতি কমেছে এমনটা দাবি করলেও, বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে নিজেদের দুর্বলতার কথা স্বীকার করলেন দুদক চেয়ারম্যানও।

দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুটো লক্ষ্য আমাদের আসলে সমস্যা, মানি অ্যান্ড মাসল, উইদাউট সিস্টেম চেঞ্জ দুর্নীতি দমন সম্ভব না, দুর্নীতি প্রতিরোধও সম্ভব না। আমাদের রিপোর্টে বলেছি যে বড় বড় মেগা প্রজেক্টে দুর্নীতি ঘটার আগেই যাতে রিং ফেন্সিং করা যায় কীনা? এখন এটা সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে আমাদের সম্পৃক্ত করবে কি না বড় বড় প্রজেক্টে।’

দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই বলেও মতো দেন অনুষ্ঠানের বক্তারা। তাঁরা বলেন, এ জন্য মূল ভূমিকা নিতে হবে সরকারকেই।



মন্তব্য চালু নেই