দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচন নিয়ে আ’লীগে ভিন্নমত

দলীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগে ভিন্নমত রয়েছে। দলের একটি প্রভাবশালী অংশ মনে করে, নির্দলীয় কাঠামোতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়া উচিত। এ নিয়ে তারা দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলেছেন।

সরকার এরই মধ্যে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগে প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে পৌরসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে তোড়জোড় শুরু না হলেও দলগত নির্বাচনের বিষয়ে কোনো ভিন্নমত নেই।

তবে আগামী বছর মার্চের দিকে দলীয়ভাবে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগে ভিন্নমত রয়েছে।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন এমপিও নির্দলীয় কাঠামোতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শেরপুর-১ আসনের এমপি ও হুইপ আতিউর রহমান আতিক  জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী আপাতত দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সমকালকে বলেছেন, মন্ত্রিসভায় দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী মার্চে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের কথা। তাই এ নিয়ে আলোচনার জন্য যথেষ্ট সময় হাতে রয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এই অধিবেশনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কোন কাঠামোতে হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এর আগে সুবিধাজনক সময়ে দলীয় ফোরামে আরও বিস্তারিত আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নির্দলীয় কাঠামোতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে মতদ্বৈধতা দেখা দিয়েছে। তারা এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন। দলের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা তৃণমূল নেতৃত্বের এমন মনোভাব প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। তৃণমূল নেতাদের দৃষ্টিতে, সাধারণত এলাকা ও পারিবারিক পরিচয়ের ভিত্তিতেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে রাজনীতি খুব একটা প্রভাব ফেলে না। এ অবস্থায় এখনই দলীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হলে সাংগঠনিকভাবে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ জানিয়েছেন, দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধারণা খুবই ভালো। এর মধ্য দিয়ে সর্বস্তরে সরকারের জনপ্রিয়তার মাপকাঠি পরিমাপ করা সম্ভব। অবশ্য দলীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করাটা এখনই বাস্তব সম্মত কি-না, তা বিবেচনার বিষয়। কেননা বিপুল সংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া সহজ হবে না।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অনেক সময় থাকলেও এখনই দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তারা কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী ও এমপিদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ভোটারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার-লিফলেট ছেপেছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন মন্ত্রী ও এমপিরা। তারা দলীয়ভাবে এ নির্বাচনকে নিজেদের জন্য ‘বিপদ’ হিসেবে দেখছেন।সমকাল



মন্তব্য চালু নেই