‘দক্ষতা দেখালে পুরস্কার, খারাপ কাজের জন্য তিরস্কার’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘কোন কর্মকর্তা ভাল কাজ করলে বা দক্ষতা দেখালে পুরস্কৃত হবেন আর খারাপ কাজের জন্য রয়েছে তিরস্কার।’

সচিবালয়ে সোমবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে অধীনস্ত অধিদফতর ও সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির পর মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘চুক্তির আওতায় আমরা দফতরগুলো থেকে কাজ বুঝে নিতে চাই। এটি অনেকটা পেট্রন-ক্লায়েন্ট রিলেশনশিপের মতোই। মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট কাজের বিপরীতে অর্থ দিবে। আর মাঠ পর্যায়ে সে কাজ বাস্তবায়ন করবে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। কাজটি সঠিক মান বজায় রেখে শেষ হল কিনা, সেবা-গ্রহীতাগণ উপকার পেল কিনা তা বিভিন্ন পরিমাপকের মধ্যদিয়ে যাচাই করা হবে। এতে অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে, অপচয় বন্ধ হবে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সচিব এম এ এন ছিদ্দিক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মন্ত্রণালয় হতে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সকল সাপোর্ট দেওয়া হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নসহ নানান কাজ সম্পাদন করবে। এক্ষেত্রে কর্মকর্তা বা প্রকৌশলীদের মাঠ পর্যায়ে দক্ষতা পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা হবে।’

বিচক্ষণতার সাথে সরকারি নিয়ম-নীতি পালন করে কাজ সম্পন্ন করার মাঝেই কর্মকর্তা বা প্রকৌশলীদের দক্ষতা ফুটে উঠে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তা ভাল কাজ করলে বা দক্ষতা দেখালে তিনি পুরস্কৃত হবেন আর খারাপ কাজের জন্য রয়েছে তিরস্কার। তাই আমাদের স্লোগান, ভাল কাজের জন্য পুরস্কার/খারাপ কাজের জন্য তিরস্কার।’

নানান অজুহাতে প্রকল্পের কাজে দেরি করার জন্য ঠিকাদারদের কার্যাদেশ বাতিল করা শুরু হয়েছে জানিয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এখন থেকে আমাদের টার্গেট হবে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা। যদি কোনো কর্মকর্তা কিংবা ঠিকাদারের ইচ্ছাকৃত গাফিলতি দেখা যায় তা সিরিয়াসলি দেখা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায়ই কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এ চুক্তির মাধ্যমে কাজের গুণগত মানও বিবেচনায় আনা হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) বাস্তবায়নে অতীতের শম্বুক গতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে। শতভাগ এডিপি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে চমক সৃষ্টি করেছে।’

‘আসন্ন ঈদে সড়ক-মহাসড়কগুলো ভোগান্তির কারণ হবে না’

ঈদকে সামনে রেখে সড়ক সংস্কার ও মেরামতের কাজ এগিয়ে চলছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই আসন্ন ঈদে সড়ক-মহাসড়কগুলো ভোগান্তির কারণ হবে না।’

‘ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা সেতু এগিয়ে রয়েছে। এরপরই রয়েছে মেট্রোরেল প্রকল্প। পদ্মা সেতুর কাজে সিডিউলের একদিনও আমরা পিছিয়ে নেই। শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের মধ্যদিয়ে সেতুর কাজ এগিয়ে চলেছে’ বলেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সওজর প্রধান প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান, ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক মো. কায়কোবাদ হোসেনসহ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য চালু নেই